এস কে জসিম, নবাবগঞ্জ উপজেলা প্রতিনিধি:
ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার বক্সনগর ইউনিয়নের ছোট বক্সনগর গ্রামের মনির উদ্দিন আহমেদের খামারে পালন করা হচ্ছে ষাঁড়টি।ষাঁড়টির নাম নবাব। নবাবগঞ্জের নবাব। ষাঁড়টির ওজন ৩০ মণ, দাম হাঁকা হচ্ছে ১০ লাখ টাকা।
দন্ত্য চিকিৎসক মনির শখের বসে গরুর খামার করেন। অস্ট্রেলিয়ান ফ্রিজিয়ান জাতের বিশালদেহী ষাঁড়টির রঙ কালো। উপজেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পরামর্শে সম্পূর্ণ দেশীয় পদ্ধতিতে ষাঁড়টি লালন–পালন করেন মনির।
সরেজমিনে দেখা যায়, গরুটির মালিক মনির পরম যত্নে নবাবকে গোসল করাচ্ছেন। মনির খামারে নবাব ছাড়াও গাভি ও রাম ছাগল আছে। এ ছাড়াও তিনি বিদেশি বিভিন্ন জাতের হাঁস, মুরগি ও কবুতর পালন করেন।
নবাবের জন্য খামারে আছে সিলিং ফ্যান। অতিরিক্ত গরমের সময় দিনে তিনবার গোসল করানো হয় নবাবকে। নবাবকে গমের ভুসি, ভুট্টার গুঁড়া গরম করে খেতে দেওয়া হয়। এ ছাড়া নবাবকে খেতে দেওয়া হয় কাঁচা ঘাসও।
বর্তমানে এ অঞ্চলে গরুটি নবাবগঞ্জের নবাব নামে পরিচিতি লাভ করেছে। নবাবকে একনজর দেখতে গ্রামের লোকজনসহ অন্যান্য এলাকা থেকে প্রতিদিন এসে ভিড় করছেন মনিরের বাড়িতে।
মনির উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘চার মাস বয়সী নবাবকে ৫৮ হাজার ৫০০ টাকা দিয়ে কিনেছিলাম। এখন নবাবের বয়স ৪ বছর ৩ মাস। উপজেলা পশু চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী যত্ন করে নবাবকে লালন–পালন করছি। ষাঁড়টিকে মোটাতাজা করতে কোনো হরমোনজাতীয় ইনজেকশন দেওয়া হয়নি।’
তিনি আরও বলেন, ‘কোরবানিতে বিক্রির উদ্দেশ্যে আমি গরুটিকে প্রস্তুত করেছি। নবাবের ওজন প্রায় ৩০ মণ। ১০ লাখ টাকা হলে আমি এ বছর নবাবকে বিক্রি করব। গতবারও ষাঁড়টি আলোচনায় এসেছিল। বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদও হয়েছিল। গত বছর ১৬ লাখ টাকা দাম চেয়েছিলাম। করোনার কারণে শেষ পর্যন্ত বিক্রি হয়নি। এবারও আবার লকডাউন চলছে, জানি না কী হবে।’
বক্সনগর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) পাঁচ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য বেলায়েত হোসেন স্বাধীন বলেন, ‘গরুটি দেখতেও নবাবের মতো। অনেক মোটাতাজা। এত মোটাতাজা গরু এ বছর এ অঞ্চলে আমি দ্বিতীয়টি আর দেখিনি।’
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. জাকির হোসেন বলেন, ‘আমাদের পরামর্শ নিয়েই নবাব নামের ষাঁড়টিকে প্রস্তুত করেছেন খামারি মনির। আমার জানামতে গরুটিকে ভিটামিন ও কৃমিনাশক ওষুধ ছাড়া অন্য কোনো ধরনের হরমোন ইনজেকশন দেওয়া হয়নি। গত ৫ জুন প্রাণিসম্পদ প্রদর্শনীতে নবাবকে প্রদর্শন করা হয়েছিল। গরু মোটাতাজাকরণে আমরা এ গরুটিকে প্রথম পুরস্কার দিয়েছি।’
Leave a Reply