সোহেল রানা,সাভার:
সাভারে মা’কে উত্ত্যক্ত করার প্রতিবাদ করায় ছেলেকে মারধর করে মাথার চুল কেটে দেওয়া ও অর্থ দণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী সাভার মডেল থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন।
শুক্রবার (৯ জুলাই) দুপুরে সাভার মডেল থানায় এই অভিযোগ দায়ের করেন ভুক্তভোগী মা। এতে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলেও দাবি করেছেন তিনি।
অভিযুক্তরা হলেন- সাভারের ভাটপাড়া এলাকার সিকম আলীর ছেলে মো. হাকিম (৪০) ও তার গাড়ির চালক শামসুল ইসলাম (৩৫)। তারা বিভিন্ন সময় ভুক্তভোগীর মোবাইলে ফোন করে কু-প্রস্তাব দিতেন।
ভুক্তভোগী নারী জানান,পারিবারিক সমস্যার কারণে ৩ বছর আগে স্বামীর সাথে ডিভোর্স হয় তার । পরে একমাত্র ছেলে রাসেলকে নিয়ে সাভারের ওই এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে মানুষের বাড়িতে কাজ করে সংসার পরিচালনা করেন। বাসা বাড়িতে কাজ করার সূত্র ধরে প্রথমে শামসুল ও হাকিম এর সাথে পরিচয় হয় তার। পরে বিভিন্ন সময়ে তার মোবাইলে ফোন করে কুপ্রস্তাব দেয় শামসুল ও হাকিম। এ ঘটনায় অভিযুক্তদের মোবাইল নাম্বার ব্লক করে রাখলে গত ৭ জুলাই উত্তেজিত হয়ে ভুক্তভোগীর বাড়িতে আসে হাকিম সহ তার গাড়ি চালক শামসুল। এসময় খারাপ উদ্দেশ্যে ভুক্তভোগীকে জাপটাইয়া ধরে তার ছেলে রাসেল লাঠি দিয়ে হাকিম ও শামসুলকে আঘাত করে। এসময় অভিযুক্তরা পালিয়ে যায়। পরে হাকিমের অফিসে ভুক্তভোগির ছেলেকে নিয়ে ব্যাপক মারধর করে তার চুল কেটে দেয় হাকিমসহ ১০ থেকে ১৫ জন।
ভুক্তভোগির ছেলে রাসেল জানায়, আগের দিন রাতে মা’কে উত্ত্যক্তের প্রতিবাদ করে সে। পরদিন বন্ধু সহ ভাটপাড়া বাজারে যাওয়ার কালে তাকে হাকিমের অফিসে জোরপূর্বক ধরে নিয়ে যায়। পরে তাকে ১০ থেকে ১৫ জন মারধর করে তার চুল কেটে দেয়। পরে তার মাকে অফিসে ডেকে নিয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে ১০ হাজার টাকা দাবি করে। এসময় রাসেলের থেকে ২৩০০ টাকা ও রাসেলের বন্ধু সিহারুলের থেকে ২৪০০ এভাবে মোট ৪৭০০ টাকা নেওয়া হয়। পুরো টাকা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় ভুক্তভোগীর একটি শাওমি মোবাইল কেড়ে নেয় তারা।
বিচারে হাকিমের অফিসে উপস্থিত বৃদ্ধ শাহজাহান বলেন, আমি হাকিমের অফিসে ছিলাম। সেখানে গিয়ে দেখি গন্ডগোল। বিচার করেছে হাকিম, ইয়াছিন মাতবর ও রায়হানসহ আরও কয়েকজন। আমি জিজ্ঞেস করলাম কি হয়েছে। তারা বলে একটা দুর্ঘটনা ঘটিয়েছে। এক ছেলেকে মেরেছে তার জন্য রাসেলকে ধরে মারছি চুলও কেটে দিয়েছি। তারা ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে। আমি বললাম তারা গরিব মানুষ এতো টাকা কিভাবে দেবে? পরে দিয়েছে ৪ হাজার ৭০০ টাকা। পরে তার মোবাইলটাও রেখে দিয়েছে।
এব্যাপারে অভিযুক্ত হাকিম বলেন, আমি চুল কাটি নাই, মাদবররা কাটছে। সে মারামারি করেছিল তাই তার বিচার করা হয়েছে।
সাভার মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কামাল হোসেন বলেন, এধরনের ঘটনা ঘটে থাকলে তদন্ত করে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
Leave a Reply