সায়েম খান, হরিরামপুর (মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ
মানিকগঞ্জ জেলার হরিরামপুর উপজেলার গনেশ চন্দ্র দাশ ওরফে গনেশ মাঝি খেয়া নৌকা বেয়ে পার্শ্ববর্তী ৬ গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ পারাপার করেন। ৪০- ৪৫ বছর আগ থেকেই মানুষ পারাপার করেই চলে তার সংসার।
বর্তমানে তার বয়স পয়ষট্টির কাছাকাছি। সকাল সাড়ে ৫ টা থেকে রাত সাড়ে ৯ টা নৌকায় যেন তার সংসার। সব প্রতিকূলতা ছাপিয়ে গনেশ মাঝি এখনো এই পেশাতেই আছেন। সকাল থেকে রাত সাড়ে ৯ টা পর্যন্ত গনেশ মাঝি বৈঠা ঠেলে পথচারীদের ইছামতী নদী পারাপার করেন।
উপজেলার রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের মানিকনগর গ্রামে তার বাড়ি। উপজেলার গোপীনাথপুর নয়াবাজার থেকে- মানিকনগর যাতায়াতে ইছামতি নদীতে খেয়া নৌকায় মানুষ পারাপারের কাজটি করছেন তিনি। শুক্রবার গনেশ মাঝির খেয়া ঘাটে গিয়ে দেখা গেছে, উদোম শরীর, চামড়ায় পড়েছে বার্ধক্যের ভাজ। মাথায় গামছা জড়িয়ে শক্ত হাতে বৈঠা বেয়ে খেয়া নৌকায় যাত্রী পারাপার করছেন তিনি।
নৌকার যাত্রী রাহুল হোসেন রাকিব বলেন, জন্মের পর থেকেই দেখছি মানুষ পারাপারের কাজ করছেন। রোদে পুড়ে,বৃষ্টিতে ভিজে পারাপার করেন তিনি। গোপীনাথপুর নয়াবাজার ফার্মেসি দোকান মালিক এনামুল হক ভিকু জানান , গনেশ মাঝি অনেক পরিশ্রমী মানুষ। সূর্য ওঠার আগ থেকেই পারাপার শুরু করেন তিনি। ৫-৬ টি গ্রামের কয়েক হাজার লোকজন এ খেয়াঘাট দিয়ে প্রতিদিন পারাপার হয়।
জানা যায়, কিশোর বয়স থেকেই জীবিকা হিসেবে মানুষ পারাপারের পেশাটি বেছে নিয়েছিলেন গণেশ মাঝি। জীবন-জীবিকা আর নদী-নৌকার মায়ায় এখনো বৈঠা হাতে নৌকা পারাপার করে চলছেন তিনি। গোপীনাথপুর ডেগিরচর, বাহাদুরপুর, ভাটিপাড়া এলাকার লোকজনের সাথে পারিবারিক সম্পর্ক তার।
গনেশ চন্দ্র দাশ বলেন, ৪০-৪৫ বছর আগে থেকে মানুষ পারাপার করি। নাও (নৌকা) ই আমার সব। মেয়া(মেয়ে) বিয়া দিছি, নাও বাইয়া পোলারে বিএ পাশ করাইছি। দিন- রাত নাও বাইয়া যা পাই সংসার চলে। তয় গোপীনাথপুর ভাটিপাড়া, ডেগিরচরের লোকজন আমারে মেলা ভাল কয়। মেলা আদর করে। নিজেগো লোক মনে করে। পারাপারের জন্য বছরে ২০-৩০ মন ধান পাই। সারা বছর চইলা যায়। স্কুলের পোলাপান পার করে মেলা ভাল লাগে বলেন তিনি।
রামকৃষ্ণপুর ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ কামাল হোসেন বলেন, গনেশ মাঝি অনেক ভালো মানুষ। মানুষ পারাপার করে ছেলেকে পড়াশোনা করিয়েছেন। পরিষদের পক্ষ থেকে যতটুকু সম্ভব সহযোগিতা দেয়া হবে তাকে।
Leave a Reply