আমিরুল ইসলাম : নালিতাবাড়ী (শেরপুর):
কানাডিয়ান জাতের ‘সুলতান’ নামের হাট কাঁপানো বিশালদেহী ষাঁড়টি পালিত হচ্ছে শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার বাঘবের ইউনিয়নের রাণীগাঁও গ্রামে। খামারি প্রাণী চিকিৎসক রুহুল আমীন অতি যত্নে তাকে লালন-পালন করছেন। তিনি অনেকটা সখ করেই ষাঁড়ের নাম দিয়েছেন ‘সুলতান’। বয়স সাড়ে তিন বছর। ওজন ১ হাজার ৬৭৬ কেজি (৪২ মণ)। নাম আর ওজনের সমন্বয়ে সুলতান হয়ে উঠেছে শেরপুর জেলার অন্যতম আকর্ষণীয় কোরবানির পশু। কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে হাটে বিক্রির জন্য সুলতানকে বড় করেছেন খামারি রুহুল আমীন। তাই এখন বাড়িতে ক্রেতা ও দর্শনার্থীদের আনাগোনা বাড়ছে। খামারি রুহুল আমীনের দাবি, এখন পর্যন্ত শেরপুর জেলার সর্বোচ্চ ওজনের তার এই ষাঁড়টি। নিজ বাড়িতে ৪২ মণ ওজনের এই কানাডিয়ান প্রজাতির ষাঁড় পালনে করে চমক দেখিয়েছেন তিনি।
প্রাণী চিকিৎসক রুহুল আমিন জানান, উন্নত কানাডিয়ান জাতের বীজ থেকে এই ষাঁড় গরুর জন্ম দেয়া হয়েছে। সুলতান নামের এই ষাঁড়কে প্রতিদিন খড় ও ঘাষ ছাড়াও খৈল ভুষি, ভাতের মার, খুদিসহ অন্তত ১০ কেজি খাবার দিতে হয়। আর সর্বদা পাখার বাতাসের মাঝে রাখতে হয়। আসন্ন কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে ক্রেতাদের অনেকেই যাতায়াত শুরু করেছেন। ন্যায্য মূল্য পেলে সুলতানকে কোরবানির ঈদে বিক্রি করবেন। বিশালদেহী সুলতান লম্বায় ১০ ফুট আর উচ্চতায় ৫ ফুট ৭ ইঞ্চি। তার বয়স ও ওজনের ওপর ভিত্তি করে মূল্য হাঁকছেন ২০ লাখ টাকা। আলোচনা সাপেক্ষে মূল্য কম বেশি হতে পারে বলে তিনি জানায়।
চলতি করোনা ও লকডাউনের সময়ে হাঁটে তুলে সুলতানকে বিক্রি করা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন খামারি রুহুল আমিন। তিনি বলেন, সুলতানের পিছনে দৈনিক অনেক টাকা খরচ হয়। তার নিরাপত্তা দিতেও এখন রীতিমতো হিমশিম খেতে হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, এত বড় ষাঁড় ট্রাক বা কোনো যানবাহনে নেয়াও দূষ্কর। করোনার কারণে হাটে তোলা না গেলে বেশ সমস্যায় পড়ে যাব। তাই প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তারা যদি সুলতানকে বিক্রির সহযোগিতা করতেন তাহলে আমি বেশ উপকার হতো।
এ বিষয়ে শেরপুর জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আব্দুল হাই বলেন,জেলার খামারিদের জন্য অনলাইনে গরু বেচাকেনার প্লাটফর্ম খোলা আছে। সেখানে খামারিরা তাদের পশুর ভিডিও ও ছবি পোস্ট করে সহজেই পশু বিক্রি করতে পারবেন।
Leave a Reply