ভোলা প্রতিনিধি ॥
ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার দুলারহাটের নুরাবাদ ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ড ফরিদাবাদ গ্রামের মৃত আলতাফ হোসেনের নামে স্ট্যাম্প দেখিয়ে জমি দখল পায়তারার অভিযোগ উঠেছে। তারই সূত্র ধরে ওই জমিতে ঘর তুলতে গেলে বাঁধা দিতে গিয়ে ভূমিদস্যুদের হামলার শিকার হন মৃত আলতাফ হোসেনের মেয়ে ইয়াছমিন বেগম (৩০) ও তার স্বামী শওকত মাল (৪২)।
গত ১জুলাই (বৃহস্পতিবার) দুপুরে এ হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ইয়াছমিন বেগম বাদি হয়ে ওই দিনই দুলারহাট থানায় মামলা দায়ের করেন। পরে মামলার তিন আসামীকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠায় পুলিশ। এদিকে অন্য আসামীরা গ্রেফতার না হওয়ায় বাদির পরিবারকে হুমকি দিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন ইয়াছমিন বেগম।
জানা যায়, দুলারহাট থানাধীন নুরাবাদ ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ড ফরিদাবাদ গ্রামের মৃত আঃ হাসিমের ছেলে আলতাফ হোসেন গত ৫ মার্চ ২০০০ইং তারিখে মৃত্যুবরণ করেন। এদিকে তার জমি দখলের উদ্দেশ্যে মৃত্যুর এক বছর পরের অর্থাৎ, ২০০১ সালে আলতাফ হোসেনের টিপসই দেখিয়ে জমি বিক্রয়ের চুক্তিনামা একটি স্ট্যাম্প বের করে একই এলাকার মোঃ আবু তাহেরের ছেলে আবদুল হাই গংরা।
এদিকে মৃত্যুর এক বছর পরের টিপসইকৃত স্ট্যাম্পের বিষয়টি নিয়ে আদালতে মামলা করে আলতাফ হোসেনের ওয়ারিশগণ। ওই মামলার রায় না হতেই গত ১ জুলাই বিরোধীয় জমিতে ঘর উত্তোলণ শুরু করে আবদুল হাই গংরা।
এদিকে ঘরের কাজে বাধা দিতে গিয়ে আবদুল হাই, তার ভাই সাদ্দাম, নুরে আলমসহ আরও কয়েকজনের হামলার শিকার হন শতকত মাল ও তার স্ত্রী ইয়াছমিন বেগম।
এ ঘটনায় দুলারহাট থানায় এজহার নামীয় ৯জনসহ আরও ৪/৫ জন কে আসামী করে মামলা দায়ের করেন ভূক্তভোগী ইয়াছমিন বেগম। পরে মামলার তিন আসামী সাদ্দাম, সবুজ ও বাচ্চু কে গ্রেফতার করে আদালতে প্রেরণ করেন।
এদিকে মামলার মূল আসামীসহ অন্যরা বাইরে থাকায় নিয়মিত হুমকি দিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন বাদি ইয়াছমিন বেগম।
দুলারহাট থানার এসআই ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা লেলিন কান্তি হাওলাদার জানান, মামলার তিন আসামীকে গ্রেফতার করে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। বাকিদের কেও আইনের আওতায় আনা হবে।
এদিকে ইয়াছমিন বেগম ও তার পরিবারের বিরুদ্ধেও দুলারহাট থানায় মামলা করেছেন মোস্তফা মাতাব্বরের ছেলে বাচ্চু।
দুলারহাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ মোরাদ হোসেন বলেন, পরস্পর মামলা হয়েছে। মামলা দুটো তদন্তাধীন রয়েছে, তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
Leave a Reply