অ আ আবীর আকাশ, লক্ষ্মীপুর জেলা প্রতিনিধিঃ
লক্ষ্মীপুর সম্ভাবনাময় প্যাকেজিং শিল্পে বহু মানুষের কর্মসংস্থানে সৃষ্টি হয়েছে। এতে অধিকাংশই নারী শ্রমিক।পরিবেশ সুরক্ষার জন্য পলিথিন ব্যবহার পুরোপুরি বন্ধ করার জন্য কাগজের প্যাকেট ও কার্টন ব্যবহার বৃদ্ধি করতে হবে।লক্ষ্মীপুর জেলায় ছোট বড় মিলে হাটবাজার রয়েছে ১ শত ৮৩টি। এ সকল হাটবাজারের মিষ্টির দোকান, রেষ্টুরেন্ট, ফলের দোকান, কনফেকশনারী এবং জুতার দোকানের মতো নির্দিষ্ট কিছু দোকানে পণ্য বিক্রিতে প্রতিমাসে কয়েক কোটি কাগজের তৈরি প্যাকেট (ঠোঙ্গা) ও ছোট কার্টনের চাহিদা রয়েছে।
চাহিদার প্রায় দুই কোটি প্যাকেট(ঠোঙ্গা) ও এক কোটি কার্টন স্থানীয়ভাবে তৈরি করা হয়। এ প্যাকেজিং ব্যবসায় কর্মসংস্থান হয়েছে কমপক্ষে আড়াই হাজার নারী পুরুষের। যাদের প্রত্যেকের মাসিক আয় সর্বনিম্ন দশ হাজার টাকার বেশি। পাশাপাশি পরিবেশ সুরক্ষায়ও বিশেষ অবদান রাখছে এ প্যাকেজিং শিল্প।
চলতি সপ্তাহে লক্ষ্মীপুরের প্যাকেজিং শিল্পের কয়েকটি স্থানে গিয়ে এর সাথে জড়িত কয়েকজন কারিগর, উদ্যোক্তা, ব্যবসায়ী এবং প্যাকেট গ্রাহক দোকানদারদের সাথে কথা বলে এমন তথ্য জানা গেছে। প্যাকেজিংয়ের সাথে জড়িত সবারই দাবি সরকারি বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে আরো বহু লোকের কর্মসংস্থান হতে পারে এ ব্যবসায়। একই সময়ে পরিবেশকর্মীদের দাবি কাগজের প্যাকেটের ব্যবহার বৃদ্ধিতে পরিবেশের যেমন সুরক্ষা হবে তেমনি ব্যবহৃত কাগজের পুনরায় ব্যবহারের মাধ্যমে তা থেকে আয়ও সম্ভব।
পুরাতন কাগজের তৈরি প্যাকেটকে লক্ষ্মীপুরের স্থানীয় ভাষায় ‘ঠোঙ্গা’ বলা হয়। এসব ঠোঙ্গা ফল দোকান, কনফেকশনারী ও মুদি দোকানে ব্যবহৃত হয়। অন্যদিকে নতুন কাগজ ও হার্ডবোর্ডের তৈরি চার কোণার প্যাকেটকে ‘কার্টন’ বলা হয়। মিষ্টির দোকান, রেষ্টুরেন্ট, কনফেকশনারী এবং জুতার দোকানে কার্টন ব্যবহৃত হয়। কিছু পণ্য বিক্রিতে আগে পলিথিনের ব্যাগ ব্যবহার হলেও বর্তমানে এক্ষেত্রে ব্যবহার করা হচ্ছে কাগজের ব্যাগ (ঠোঙ্গা) এবং কার্টন।
লক্ষ্মীপুর জেলা শহরের ৪ ও ৫ নং ওয়ার্ড শাখাঁরীপাড়া। এ দুই ওয়ার্ডে অধিবাসী পরিবারের সংখ্যা প্রায় ২ হাজার। মাত্র ২০-৩০টি পরিবার ছাড়া প্রতিটি গরিব আর মধ্যবিত্ত পরিবারের নারীরা ঠোঙ্গা প্যাকেট তৈরি শিল্পের সাথে সরাসরি জড়িত।
গৃহবধূ চিনু রানী শুর, অনু রাণী শুর, সীমা কর এবং জোৎস্না রাণী নন্দি জানান, তাদের এলাকায় কমপক্ষে ১১শ জন নারী ঠোঙ্গা প্যাকেট তৈরি করে। গৃহবধূ চিনু রানী শুর ও অনু রাণী শুর আরো জানান, প্রত্যেক নারী প্রতি মাসে কমপক্ষে সর্বনিম্ন ১০ হাজার ঠোঙ্গা প্যাকেট তৈরি করতে পারে।
প্যাকেট ব্যবসায়ী শ্যামল মজুমদার জানান, জেলার শুধু শাঁখারীপাড়া থেকে মাসে কমপক্ষে প্রায় দেড় কোটি প্যাকেট তৈরি ও বিক্রি হয়। সীমা কর জানান, এখানকার অনেক পরিবার শুধু নারীদের আয়েই চলে। প্রতি কেজিতে ২৯-৩০টি প্যাকেট থাকে যার প্রতি কেজি ৩৫-৪০ দামে বিক্রি হয়।
অন্যদিকে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, জেলার রায়পুরের পৌর শহরের পালপাড়া, রামগঞ্জে শ্রীরামপুর, কমলনগরের করুণানগর, রামগতির আশ্রম এবং রামগতি বাজার এলাকায় আরো প্রায় এক হাজার পরিবার এ প্যাকেজিং শিল্পের সাথে জড়িত আছে। তাদের হাতেও তৈরি হয় মাসে কমপক্ষে ৭০-৮০ লাখ প্যাকেট।
Leave a Reply