ওবায়দুল ইসলাম রবি, রাজশাহী :
রাজশাহীর বাঘা উপজেলায় কোন এক সময় পুলিশের দালাল হিসেবে রাস্তায় টোল আদায় করতো বর্তমান আটককৃত আড়ানীর পৌর মেয়র। প্রথম জীবনে চাঁদা তুলে সংসার পরিচালনা করলেও মেয়র হওয়ার পর ঘড়ে বাসে কোটি টাকা আয়। একসময় তাঁর আয়ের উৎস ছিলো বাড়িতে পাঠা পোষা। একসময় সে ভারত থেকে গরু, চিনি ও চোরাচালান থেকে চাঁদা ওঠাতে শুরু করে।
তার ফেলে আসা ইতিহাস তথ্য থেকে জানাযায়, মুক্তার আলী ‘নইম ডাকাতের ছেলে। স্বাধীনতা পর এলাকার মানুষ এতটাই অতিষ্ঠ হয়ে নইমকে ডাকাতকে কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে মেরে ফেলে। মুক্তারের বড় ভাইয়ের নাম কালু এলাকার মানুষকে অত্যচার করতো। গত ৫ বছর আগে এলাকার এক ব্যক্তি ক্ষুব্ধ হয়ে হাসুয়ার কোপে ঘটনাস্থলেই মারা যায় কালু। অভাব-অনটনের সংসারে অষ্টম শ্রেণি পার হতে পারেননি মুক্তার আলী।
সে ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য নির্বাচিত হয়, পরে পৌরসভার কাউন্সলর। তারপর তাকে দমিয়ে রাখা যায়নি তাকে। তার কাছে ছিলো অস্ত্র, গুলি এবং মাদকেরও মজুত। মুক্তারের নেতৃত্বে পৌর এলাকায় তার ত্রাসের রাজত্ব, গড়ে তুলেছিলেন মুক্তার বাহিনী। আড়ানীতে মুক্তারের ত্রাসের রাজত্ব, কখনও নির্যাতন অথবা ভয়ভীতি দেখিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বীদের প্রতিহত করতো। জনপ্রতিনিধি হয়েই হয়েছেন বিপুল অর্থ-সম্পদের মালিক। চলাচল করেন বেপরোয়া। প্রায় সব সময়ই মদ্যপ অবস্থায় থেকে মারধর করেন যাকে ইচ্ছে। সবশেষ এক কলেজশিক্ষককে মারধর করেই ফেঁসে গেছেন আড়ানীর ত্রাস মুক্তার। ঘটনাটি গেল মঙ্গলবার রাতের। মেয়রের প্রভাব খাটিয়ে লকডাউনের মধ্যেও দোকান খুলে হালখাতা করছিলেন তাঁর বেয়াই শামীম উদ্দিন।
মুক্তার আলী ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগে যোগ দেন। কিন্তু নানা অপকর্মের সঙ্গে জড়িত থাকার কারণে পরের বছরই তাঁকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। পরে বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার হয়। ২০০৬ সালে আড়ানী ইউনিয়ন পরিষদ পৌরসভা হয়ে যায়। তার আগে আড়ানী ইউপির সদস্য হয়েছিলেন মুক্তার আলী। পরবর্তীতে পৌরসভার কাউন্সিলর হন। দিনে হয়ে ওঠেন আওয়ামী লীগের বড় নেতা। ২০১৫ সালে পৌরসভা নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পান পৌর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি বাবুল হোসেন।
মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার আগের রাতে রহস্যজনকভাবে বিষক্রিয়ায় তাঁর মৃত্যু হয়। মনোনয়ন পেয়ে যান মুক্তার আলী। হয়ে যান মেয়রও। এরপর আরও বেপরোয়া হয়ে যান মুক্তার আলী। চলতি বছরের জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত পৌরসভা নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পান পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি শহিদুজ্জামান। কিন্তু ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী হয়ে ভোটে থেকে যান মুক্তার আলী। হামলা-মামলা করেন নৌকার প্রার্থীর সমর্থকদের ওপর। ঘটে গোলাগুলিরও ঘটনা। তখন মুক্তার আলীর বিরুদ্ধেও একটি মামলা হয়। সেই মামলায় জামিন না নিলেও নির্বিঘ্নেই তিনি শপথ নেন। পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করেনি। দুটি ঘটনার যোগসূত্র কী?
পৌর নির্বাচনের মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার আগের রাতে বিষক্রিয়ায় মারা যান আওয়ামী লীগ নেতা বাবুল হোসেন। রাত জেগে বাবুলের মদপানের অভ্যাস ছিল। এলাকায় এখনও গুঞ্জন আছে, মদের সঙ্গে বিষ মিশিয়ে দিয়ে বাবুলকে মেরে ফেলা হয়। এ বছর পৌর নির্বাচনে মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন বাবুলের ছেলে ছাত্রলীগ নেতা রিবন আহমেদ বাপ্পী। তাঁর মনোনয়ন পাবার সম্ভাবনাও ছিলো। মনোনয়নপত্র বিতরণের
Leave a Reply