মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি :
হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার সহকারি কমিশনার( ভূমি) মোঃ মহিউদ্দিনের পক্ষে বাঘাসুরা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সোহেল নামে এক কর্মকর্তা ভূমিহীন পরিবারকে ঘর থেকে বের করে দেয়ার হুমকির অভিযোগ উঠেছে। ঐ কর্মকর্তা ইউনিয়ন অফিসের সহকারি হিসেবে কাজ করছেন। কেউ যদি মুখ খুলে তাহলে ঘর থেকে বের করে দেয়ার হুমকিও দেন ঐ কর্মকর্তা। আমরা ভালো আছি, আমাদের কোন সমস্যা নেই এমন কথাও বলে আসেন ইউনিয়ন ভূমি অফিসের কর্মকর্তা সোহেল। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ‘মুজিববর্ষ’ উপলক্ষে মাধবপুরে ভূমিহীন ও গৃহহীনদের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহার হিসেবে আশ্রয়ণ প্রকল্পের জন্য জমি নিধার্রণ নিয়ে গতকাল বেশ ক’টি পত্রিকায় মাধবপুরের তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও বর্তমান সহকারি কমিশনার ভূমি কর্মকর্তা মোঃ মহিউদ্দিনের অনিয়ম নিয়ে মাধবপুর বাঘাসুরায় কবরস্থানের উপর ও নিচু জায়গায় প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর নির্মাণ, চরম দুর্ভোগে মানুষ’ শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। সংবাদটি প্রকাশ হওয়ার সাথে সাথে জেলায় ব্যাপক সারা পড়ে। গতকাল বুধবার সন্ধায় বাঘাসুরা রূপনগর এলাকায় গুচ্ছ গ্রামের গৃহহীন পরিবারের সোহেল নামে এক ব্যাক্তি জানান, বাঘাসুরা ইউনিয়ন অফিসের সহকারি ভূমি কর্মকর্তা সোহেল মিয়া ঘর থেকে বের করে দেয়ার হুমকি দিয়ে আসেন। কারো কাছে কোন কিছু বললে কিংবা কোন অফিসার আসলে কোন কিছু বলা যাবে না। বললে কোন সুযোগ সুবিধা দেয়া হবে না। এমনকি নাম কেটে ঘর থেকে বের করে দেয়া হবে।
ঐ ভুক্তভোগী জানান, আমাদেরকে সরকার অসহায় ভেবে ঘর দিয়েছেন। নিচু জায়গায় ঘর দেয়ায় নানা সমস্যায় ভুগতে হয়। এরমধ্যে আবার ঘর ছেড়ে দেয়ার হুমকি। আমরা এখন কোথায় যাবো?
এমন আরও কয়েকজন ভুক্তভোগী জানান, আমরা নিজেরা মাটি কেটে ভরাট করছি, কিন্তু ঘরতো আর উচু করা যাবে না। তবুও সাধ্যমত চেষ্টা করছি। স্যাররাও বলেন আমরা যেনো নিজেরা মাটি কেটে ভরাট করে নেই। আমরা গরিব-অসহায় মানুষ। এত টাকা পাই কই।
গতকালও সরেজমিনে গিয়ে ঘুরে দেখা যায় বৃষ্টির পানি থেকে বাচঁতে নিজেরা ড্রেনেজ করে পানি নিষ্কাশন করছে। অনেকে মাটি কেটে ভিটে উচু করার চেষ্টা করে চলছেন। ।
দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের কাবিটা (কাজের বিনিময়ে টাকা) প্রকল্পের অর্থায়নে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আশ্রয়ণ প্রকল্প-২ এর অধীনে প্রথম পর্যায়ে বাঘাসুরা ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডভুক্ত রূপনগর এলাকায় কবরস্থানকে সরকারি খাসজমি দেখিয়ে গৃহহীন ২৭টি পরিবারের জন্য দুর্যোগ-স্থানীয় ঘর নির্মাণ করা হয়। এতে ব্যয় হয় ৪৬ লাখ ১৭ হাজার টাকা। গত বছরের জানুয়ারী মাসে গৃহহীনদের মাঝে ঘরগুলো উদ্ভোধন করা হয়। নিচু জায়গায় ঘর নির্মিত করায় বৃষ্টি হলেই ঘরের চারপাশে সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতা, চরম দুর্ভোগে দিন পার করছেন এখানকার মানুষ। প্রকল্পের তৎকালীন সভাপতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানসনুভা নাশতারান এবং বর্তমান উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) মোঃ মহিউদ্দিনের অবহেলার কারণেই এই দুর্ভোগের সৃষ্টি হয়েছে বলে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ।এ বিষয়ে জানতে ইউনিয়ন ভূমি অফিসের কর্মকর্তা সোহেল মিয়ার মুঠোফোনে সন্ধা ৭টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত কয়েকবার চেষ্টা করার পরও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। অবশেষে তার মুঠোফোনটি বন্ধ করে দেন।
Leave a Reply