বড়লেখা প্রতিনিধি:
মৌলভীবাজারের বড়লেখায় করোনাকালীন সরকারি বরাদ্দের ত্রাণ ও নগদ অর্থ বিতরণে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতাদের উপক্ষো করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে সরকার দলীয় স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ জনগণের মাঝে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।বৃহস্পতিবার (৮ জুলাই) জেলার ৭টি উপজেলায় ১৩ হাজার দুঃস্থ পরিবারে করোনাকালীন ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়। এতে বিভিন্ন উপজেলায় স্থানীয় সংসদ সদস্য, তাদের প্রতিনিধি, উপজেলা চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগের সভাপতি-সম্পাদকসহ নেতৃবৃন্দকে উপজেলা প্রশাসন ত্রাণ কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করলেও বড়লেখায় এর ব্যতিক্রম ঘটায় জনপ্রতিনিধি, সরকার দলীয় নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন মহলে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে।সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, করোনার দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবেলায় বড়লেখা উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভার জন্য জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে গত ২২ মে থেকে ২৯ জুন পর্যন্ত বিভিন্ন খাতে ১৭ মেট্টিক টন জিআর চাল ও প্রায় ৫০ লাখ টাকা জিআর ক্যাশ বরাদ্দ পাওয়া যায়। অভিযোগ উঠেছে, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান, স্থানীয় সংসদ সদস্যের প্রতিনিধি ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদককে করোনাকালীন সরকারি ত্রাণের বরাদ্দ প্রাপ্তি, বিভাজন, বিতরণের ব্যাপারে উপজেলা প্রশাসন কোনো কিছুই অবহিত করেনি। উপজেলা পরিষদ ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দকে পাশ কাটিয়ে ইউএনও ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা উপজেলার দক্ষিণভাগ উত্তর ইউনিয়নে ৩৫ লাখ টাকার বরাদ্দের অংশের জিআর চাল ও জিআর ক্যাশ টাকা বিতরণ করেন। বৃহস্পতিবার (৮ জুলাই) পিসি উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে একই বরাদ্দ থেকে ১৫০ জনকে জিআর চাল ও জিআর ক্যাশ টাকা বিতরণ করা হয়েছে। সরকারি ত্রাণ কার্যক্রমে উপজেলা পরিষদ ও আওয়ামী লীগ নেতাদের পাশ কাটানোর ঘটনায় বিভিন্ন মহলে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।বাংলাদেশ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অ্যাসোসিয়েশন সিলেট বিভাগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও বড়লেখা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সোয়েব আহমদ অভিযোগ করে বলেন, তিনি উপজেলার বিভিন্ন কমিটির হয়তো প্রথম না হয় দ্বিতীয় উপদেষ্টা। কিন্তু করোনাকালীন ক্ষগ্রিস্তদের সহায়তার জন্য গত জুন মাসে সরকারি বরাদ্দের চিঠিপত্রের কোনো কিছুই উপজেলা প্রশাসন তাকে অবহিত করেনি। রহস্যজনক কারণে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সরকারি ত্রাণের তথ্য, বিভাজন, তালিকা প্রণয়ন, বন্টনসহ কোনো কার্যক্রমে তাকে বা ভাইস চেয়ারম্যানদেরকে সম্পৃক্ত করেননি। স্থানীয় সংসদ সদস্যের প্রতিনিধি ও তাকে সম্পৃক্ত না করায় সাধারণ জনগনের মাঝে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। ঘটনাটি ঊর্ধতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টিগোচর হওয়া প্রয়োজন। বিষয়টি তিনি সংসদ সদস্য ও পরিবেশ মন্ত্রী শাহাব উদ্দিনকে জানিয়েছেন।বড়লেখা উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ও উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ তাজ উদ্দিন বলেন, অতীতে ত্রাণ বিতরণের সকল কার্যক্রমে উপজেলা চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতাদের সম্পৃক্ত করা হতো। বর্তমান করোনাকালীন সরকারি ত্রাণ কার্যক্রমে অতি উৎসাহী দুই একজন সরকারি কর্মকর্তারা তাদেরকে পাশ কাটিয়ে ত্রাণ বিতরণ করছেন যা রহস্যজনক। কার ইন্ধনে তারা এসব করছেন তা খোঁজে বের করতে হবে।বড়লেখা উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ডা. প্রণয় কুমার দে, সাধারণ সম্পাদক (ভারপ্রাপ্ত) রফিকুল ইসলাম সুন্দর, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল লতিফ প্রমুখ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, অতীতে সরকারের সব কার্যক্রমে আমাদের সম্পৃক্ত রাখা হতো। কিন্তু চলমান করোনার ত্রাণ বিতরণের কর্মসূচিতে ইউএনও ও পিআইও আমাদেরকে সম্পৃক্ত করেননি, দাওয়াত দেননি। সরকারের দেওয়া এসব ত্রাণ সমাগ্রী বিতরণে উপস্থিত হলে নেতাকর্মীরাও খুশি হতো। সরকারের ভালো কাজের প্রচারণা পেত।এব্যাপারে বড়লেখা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. উবায়েদ উল্লাহ খান জানান, ত্রাণ সংক্রান্ত বরাদ্দ উপজেলায় আসলে তা উপ-বরাদ্দ হিসেবে ইউনিয়ন এবং পৌরসভায় দেওয়া হয়। ত্রাণ বিতরণের দায়িত্ব ইউনিয়ন পরিষদ এবং পৌরসভার। আমাদের পক্ষ থেকে তাদেরকে বারবার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে যাতে ত্রাণ বিতরণের সময় সকলকে অবগত করা হয়। তারপরও যদি ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভা ত্রাণ বিতরণকালে সকলকে অবগত না করে তাহলে তা দুঃখজনক।
Leave a Reply