মোঃ সাইফ উদ্দিন রনী, কুমিল্লা ব্যুরো প্রধান:
সরকার ঘোষিত কঠোর লকডাউনে কুমিল্লা নগরীতে বাড়ছে যানচলাচল ও লোকসমাগম। এদিকে সরকারি বিধনিষেধ কার্যকর করতে মাঠে রয়েছে প্রশাসন। করছে মামলা জরিমান। বিধিনিষেধ অমান্যকারিদের বিরুদ্ধে আরো কঠোর হওয়ার কথা জানান প্রশাসন।
বুধবার নগরীরকান্দিরপাড় পূবালী চত্তর, টমছমব্রীজ, শাসনগাছা, রাজগঞ্জ, মোঘলটুলিসহ আশেপাশের সড়কে ছিল যানবাহন ও মানুষের ভীড়। প্রথম কয়েকদিন লক ডাউনে মানুষ বের কম হলেও এখন নগরতে বেড়েছে যানবাহন ও জনসমাগম। খোলা জায়গায় নিদিষ্ট দুরত্ব বজায় রেখে স্বাস্থ্যবিধি মেনে কাঁচাবাজার বসার কথা থাকলেও তা কেউই মানছেন না। নগরীর চকবাজার, নিউমার্কেট, রানীরবাজার, বাদশা মিয়ার বাজার ঘুরে দেখা যায় ক্রেতারা কিছুটা সচেতন হলেও বেশিরভাগ বিক্রেতার মুখে নেই মাস্ক। গাধাগাধি করেই চলছে কেনাবেচা।
এদিকে সরকারি বিধিনিষেধ কার্যকরে নগরীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করছেন জেলা প্রশাসনের ৭ টি ভ্রাম্যমান আদালত। জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিষ্ট্রেট মোঃ আশিক উন নবী তালুকদার, শামিম আরা, মোহাম্মদ জিয়াউর রহমান, উম্মে মুসলিমা, সৈয়দ ফারহানা পৃথা, মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা ও কানিজ ফাতেমা এ ভ্রম্যমান আদালত পরিচালনা করেন। তাছাড়া ১৭টি উপজেলায় সরকার ঘোষিত কঠোর লকডাউনে সড়কে বাড়ছে যান চলাচল ও হাটবাজারে জনসমাগম।
আদর্শ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাকিয়া আফরিন বলেন, সরকারি নিদের্শনা বাস্তবায়নে আমরা সব ধরনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। আমরা অভিযানের পর চলে গেলে আবারও তারা আগের অবস্থায় ফিরে আসে। করোনা মহামারির ভয়াবহতা তারা উপলদ্ধি করতে পারছেনা। মানুষের মধ্যে ভয় কমে গেছে। তাদের আরো সচেতন হতে হবে।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায় বুধবার সকাল পর্যন্ত গেল ২৪ ঘন্টায় জেলাজুড়ে জেলা প্রশাসনের ৩৯ টি মোবাইল কোটে ২৫২ টি মামলায় বিভিন্ন ব্যাক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে ১ লক্ষ ৭৪ হাজার ৭১০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এসময় অভিযানে সেনাবাহিনীর ১২টি টিম, পুলিশের ৫৬ টিম, বিজিবির ৩ প্লাটুন, আনসার বাহিনীর ৫টি টিম, র্যবের একটি টিম, গ্রাম পুলিশ ও স্কাউটের ১৩২ টি সহযোগিতা করেন।
কুমিল্লা নগরী ও উপজেলায় সেনাবাহিনী, বিজিবি ও পুলিশ টীম টহল দিতে দেখা যায়। দোকানপাট ও শপিংমলগুলো বন্ধ রয়েছে। লকডাউন অমান্য করে সড়কে বের হওয়ায় পুলিশ, বিজিবি, সেনাবাহিনী টহল দিচ্ছে। ভ্রাম্যমান আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটগন তৎপর রয়েছে পথচারীদের স্বাস্থ্যবিধি মানাতে।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন বলেন, সরকারি বিধিনিষেধ কার্যকরে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেটগন কাজ করছে। যারা আইন অমান্য করছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে। সরকারি বিধিনিষেধ ভঙ্গ করলে আমরা আরো কঠোর হবো। প্রয়োজনে ভ্রাম্যমান টিম বৃদ্ধি করবো।
Leave a Reply