মোঃ সাইফ উদ্দিন রনী, কুমিল্লা ব্যুরো প্রধান:
অনলাইনে কোরবানির পশুর কেনাবেচার সবোর্”চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এজন্য জেলা প্রশাসন, স্থানীয় সরকার বিভাগসহ সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহন করা হয়েছে, মহাসড়কের পাশে ও কুমিল্লা নগরীতে কোন পশুর হাট না বসার সিদ্ধান্ত, অনলাইনের পাশাপাশি খামারিদের বাসায় গিয়ে পশু কেনাবেচার জন্য পরামর্শসহ কোরবানির ঈদকে স্বস্থিদায়ক করতে পশু ক্রেতা বিক্রেতা, ঈদ জামাত ও পরিবর্তি বজ্য ব্যবস্থাপনা স্বাস্থ্যবিধি মানাসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা ও বাস্তবায়নের নির্দেশনা দেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামরুল হাসান। কুমিল্লার পশুর হাট নামে দাপ্তরিক ফেজবুক পেজ ও ওয়েবসাইটের মাধ্যমে খামারিদের গবাদিপুশর তথ্য আপলোড করা হচ্ছে।
গতকাল রোববার কুমিল্লায় ঈদ উল আযহা উপলক্ষে কোরবানির পশুর হাট ও পশু কোরবানিরকালে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিতকরন, পশুর হাট ব্যস্থাপনা, কোরবানির বর্জ্য অপসারণ, ঈদের জামাত আয়োজনসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামরুল হাসানের সভাপতিত্বে ভার্চয়াল আলোচনা করেন স্থানীয় সরকার উপ-পরিচালক, কুমিল্লা মোহাম্মদ শওকত উসমান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) মোঃ আফজল হোসেন, জেলা সিভিল সার্জন নিয়াতুজ্জামান, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপ-পরিচালক সরকার সারোয়ার আলম, জেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা জেলা ডা. মো. নজরুল ইসলাম, সিনিয়র তথ্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ নূরুল হক, সকল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ গ্রহন করেন।
কুমিল্লা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) মোঃ আফজল হোসেন বলেন, কোরবানির পশু পরিবহনে চাঁদাবাজি যাতে কেউ না করতে পারে সেজন্য নানা পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তাছাড়া মলম পাটি, জাল টাকা সনাক্ত, ব্যবসায়ীদের অর্থ নিরাপদে পৌছে দেওয়াসহ পুলিশ বিভাগ বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহন করে।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন বলেন, এবার কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনসহ মহাসড়কে কোন কোরবানির পশুরহাট বসতে দেওয়া হবেনা। স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী পশুর হাটের বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হবে। পশুর জবাইয়ের নির্ধারিত স্থান, কসাইয়ের তালিকা এ্যপসসহ বিভিন্ন মাধ্যমে প্রচার করার জন্য বলা হয়েছে।
স্থানীয় সরকার উপ-পরিচালক, কুমিল্লা মোহাম্মদ শওকত উসমান বলেন, কোরবানির পশু কেনাবেচা করতে ডিজিটাল পদ্বতি ব্যবহার করতে হবে। অনলাইনে কেনাবেচা করতে জেলা প্রশাসনের কুমিল্লার পশুর হাটে সকল খামারীদের তথ্য উপাত্ত তালিকা করতে হবে। এজন্য জেলা ও উপজেলা প্রশাসন, প্রাণী সম্পদ বিভাগ, ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারের সমন্বয়ে তা করতে হবে।
এদিকে ঘনিয়ে আসছে পবিত্র ঈদুল আজহা। কোরবানির ঈদ যতই ঘনিয়ে আসছে দেশের পশু খামারিদের দুশ্চিন্তা ততই বাড়ছে। কারণ বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাসের প্রকোপ এখনও কমেনি, জেলা বরং আরও দিন দিন বাড়ছে। এতে কেউ কেউ আবার অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ফেজবুক পেজের মাধ্যমে গবাদিপুশর তথ্য আপলোড দিয়ে বেচাকেনা শুরু করছেন। এতে পিছে নেই জেলা প্রাণিসম্পদ অফিস ও কুমিল্লা জেলা প্রশাসন। এর মাঝে বিগত বছরে মতো কুমিল্লার পশুর হাট নামে দাপ্তরিক ফেজবুক পেজ ও ওয়েবসাইটের মাধ্যমে খামারিদের গবাদিপুশর তথ্য আপলোড করেছেন।
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. নজরুল ইসলাম জানান, গত বছর করোনা সংকটের কারণে স্বাস্থ্যঝুঁকির কথা বিবেচনা করে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে কুমিল্লায় কোরবানির হাট’ নামে মোবাইল অ্যাপ ও ওয়েবসাইটেরও উদ্বোধন করা হয়েছিল এবং জেলার খামারি, কৃষক এবং ক্রেতা এ হাটের কারণে উপকৃত হয়েছিলেন। এবারও খামারিরা অনলাইনে কেনাবেচায় আগ্রহী হয়ে উঠেছে।
জেলা প্রাণিসম্পদ অফিস জানায়, এবারের ঈদুল আযহায় পশুর চাহিদা রয়েছে ২লক্ষ ৩৭ হাজার গবাদি পুশুর। জেলার ৩০ হাজার ১৮৮ জন খামারি পশু মোটাতাজা করণ করেছেন ২ লক্ষ ৩৮ হাজার ৩ শত ৪৫ গবাদি পশু। জেলায় চাহিদার তুলনায় অতিরিক্ত আছে ১ হাজার ৩ শত ৪৫ টি পশু।
Leave a Reply