মোঃ সাইফ উদ্দিন রনী, কুমিল্লা ব্যুারো প্রধান:
আবারো ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ইউর্টানে প্রান গেল তিন জনের। গতকাল শুক্রবার ভোর রাতে মহাসড়কে ইউটার্নে প্রাইভেটকার-বাস সংঘর্ষে প্রাণ গেলো ৩ জনের আহত হয়েছেন আর একজন। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে কুমিল্লা অংশের ইউটার্নগুলোতে প্রতিদিনই ঘটছে কোন না কোন দুর্ঘটনা। এসব ইউটার্ণগুলোতে মালবাহী ট্রাক ও লরী দাঁড় করিয়ে রাখে চালকরা। চালকদের দায়সাড়া ভাবে গাড়ী ঘুড়ানো ও নিয়ম ভাঙ্গা আর পথচারীদের অসচেতনতায় দুর্ঘটনা বাড়ার প্রধান কারন। দুর্ঘটনায় আহত ও মারা যাচ্ছেন অনেকে।
শুক্রবার ভোর রাতে কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার সুয়াগাজী এলাকার শ্যামলী পরিবহনের একটি বাস (ঢাকা-মেট্রো ব-১৫-২৫১৩) বাসের সাথে প্রাইভেটকারের (ঢাকা মেট্রো-গ ৩৯-৭৬৯১) মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত হয়েছে ৩ জন । আহত হয়েছে আরো এক জন। নিহত এবং আহতরা সবাই প্রাইভেটকারের যাত্রী। গত রাতে ঢাকার খিলগাও এলাকা থেকে প্রাইভেটকারটি নোয়াখালীর উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে রাত ৩ টায় দুর্ঘটনায় পতিত হয়।
ময়নামতি হাইওয়ে ক্রসিং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আনিসুর রহমান জানান, কুমিল্লা সুয়াগাজীর জোড় কানন রেষ্টুরেন্টের সামনে প্রাইভেটকারটি ইউটার্ন অতিক্রম করার সময় অপর দিক থেকে আসা শ্যামলী পরিবহনের বাসটি ধাক্কা দেয়। এসময় প্রাইভেটকারের চার যাত্রীর মধ্যে ঘটনাস্থলে দুজন নিহত হয় আর হাসপাতালে নেওয়ার পথে একজন নিহত হয় আর আহত হয় একজন। দুর্ঘটনাকবলিত বাস এবং প্রাইভেটকারটি পুলিশের হেফাজতে রয়েছে। বাসের চালক এবং সহকারী পলাতক রয়েছে।
দুর্ঘটনায় নিহতরা হলেন- প্রাইভেটকারের মালিক লক্ষীপুর জেলার হামন্দী এলাকার মৃত আলী হোসেনের ছেলে ফখরুল আলম দুলাল, শেরপুর নলিতাবাড়ী এলাকার মৃত আবদুল মজিদের ছেলে বেলাল হোসেন, ঢাকার খিলগাও এলাকার মোবারক হোসেন কুটুর ছেলে মিরাজ। এছাড়া মাহবুব নামে এক ব্যাক্তি গুরুতর আহত অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতলে চিকিৎসাধীন আছেন।
পুলিশ জানায়, গতরাত ৩টায় ঢাকা থেকে নোয়াখালীগামী একটি প্রাইভেটকারকে বিপরীত দিক থেকে আাসা শ্যামলী পরিবহনের বাসটি মুখোমুখি ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলে ফখরুল আলম ও মিরাজ প্রাণ হারান। আহত অবস্থায় ঢাকায় নেয়ার পথে প্রাণহারান বেলাল।
ইউটার্নে প্রাইভেটকার চালকের অসাবধানতা অথবা শ্যামলী পরিবহনের বাসটির দ্রুত গতির কারণে দুর্ঘটনাটি ঘটতে পারে বলে জানিয়েছে হাইওয়ে পুলিশ।
এদিকে নিহত মিরাজের বাবা মোবারক হোসেন কুটু জানান, ভোর চারটার দিকে এক এমব্যুলেন্স চালক আমাকে কল দিয়ে জানায়, একজন সড়ক দূঘটনায় আহত হয়েছে আপনার কি হয় জানিনা, কুমিল্লা সদর দক্ষিন থানায় আছে বলে জানান। পরে আমরা এসে দেখি আমার ছেলের মরদেহ। আমার ছেলে মিরাজ গাড়ী চালাত, গত একমাস আগে তার চাকুরি চলে যায়। এ পাইভাটকারের নিহত গাড়ী চালক বেলাল তাকে চাকুরি দিবে বলে তার গাড়ীতে করে নিয়ে আসে। এখন চিরতরে দুজনই চাকুরি ছেড়ে পরপারে চলে গেছে।
নিহত ফখরুল ইসলামের ভাই আলার বলেন, আমি সকালে ফোন কলের মাধ্যমে খবর পাই আমার ছোট ভাই সড়ক দূঘটনায় নিহত হয়েছে। খবর পেয়ে থানায় এসে আমার ভাইয়ের মৃতদেহ দেখতে পাই। আমাদের গ্রামের বাড়ি লক্ষিপুর। এসে জানতে পারলাম সে নিহত হয়েছে। পাইভেটকারটি ইউটার্নেও সময় বাসটি ধাক্কা দেয়। এতে তিনজন নিহত হয়। তারা আমাদের গ্রামের বাড়ি লক্ষিপুরের আসছিলো প্রাইভেটকারে করে।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত স্থানীয় একজন বাসিন্দা মিজানুর রহমান জানান, বেপরোয়া ভাবে বাস চলাচল করায় এ দূর্ঘটনাটি ঘটে। চালকদেও দায়সারা ও অবহেলার কারনে এ তাজা প্রানগুলি আমাদেও হারাতে হয়েছে। মহাসড়কের এ ইউর্টানগুলোতে আরো সর্তকভাবে গাড়ী চালানো উচিত চালকদের।
Leave a Reply