আনোয়ার সাদত জাহাঙ্গীর,ময়মনসিংহঃ
শেরপুরের নালিতাবাড়ীতে মুক্তিযোদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত সোহাগপুর বিধবাপল্লীতে ‘সোহাগপুর শহীদ স্মৃতিসৌধ’ এর ভিত্তিপ্রস্থর স্থাপন করা হয়েছে। ১৫ জুন (মঙ্গলবার) দুপুরে জেলা প্রশাসক আনার কলি মাহবুব এ ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।এসময় প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে ২৪ জন বিধবাকে শাড়ী, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য ও নগদ অর্থ প্রদান করেন জেলা প্রশাসক আনার কলি মাহবুব। এছাড়াও শহীদ পরিবারের সন্তান ও এলাকাবাসীদের মানবিক সহায়তা প্রদান করা হয়।এসময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক এটিএম জিয়াউল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা প্রসাশক (সার্বিক),মুকতাদিরুল আহম্মেদ,অতিরিক্ত জেলা প্রসাশক (রাজস্ব) ফরিদা ইয়াসমিন,উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোকছেদুর রহমান লেবু,উপজেলা নির্বাহী অফিসার হেলেনা পারভীন,সহকারী কমিশনার (ভূমি) সঞ্চিতা বিশ্বাস প্রমুখ ।জেলা প্রশাসক আনার কলি মাহবুব বলেন, স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীতে জেলা প্রশাসন থেকে আমরা উপলব্ধি করেছি, দেশের স্বাধীনতা অর্জনে যারা আত্মত্যাগ করেছিলেন তাঁদের অনেকেরই চিহ্ন এবং অনেক গণ হত্যার চিহ্ন আমাদের সংরক্ষন করা নেই। গণহত্যার জায়গা গুলো চিহ্নিত করার প্রচেষ্টায় ‘সোহাগপুর শহীদ স্মৃতিসৌধ,’ এর ভিত্তি প্রস্থর স্থাপন করা হলো।জানা যায়, ২ বছরের প্রচেষ্টায় ৩ শতাংশ জমির উপর নির্মিত হচ্ছে এই স্মৃতিসৌধটি। যার সামনের রাস্তার জন্য স্থানীয় দুই ব্যাক্তি ১ শতাংশ জায়গা দিয়েছেন।উল্লেখ্য,১৯৭১ সালের ২৫ জুলাই উপজেলার সীমন্তবর্তী সোহাগপুর গ্রামে পাক হানাদার বাহিনী তাদের এ দেশীয় দোসরদের সহায়তায় ছয় ঘণ্টার তাণ্ডব চালায়। তাণ্ডবে গুলি করে ও বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়ে ১৮৭ জন পুরুষকে হত্যা করে। এরপর থেকেই সোহাগপুর গ্রামটির নাম পাল্টে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে সোহাগপুর বিধবাপল্লি নামে পরিচিতি লাভ করে। এ সময় ৬২ নারী বিধবা হন। তাঁদের মধ্যে ১৪ জন নির্যাতনের শিকার হন।
Leave a Reply