বিল্লাল হোসেন,যশোর প্রতিনিধি:
যশোরে জন্মের পরই নবজাতককে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। নবজাতকের মা এই হত্যার সাথে জড়িত বলে পিতা অভিযোগ করেছেন। মঙ্গলবার সকালে লাশের ময়নাতদন্ত যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে সম্পন্ন হয়েছে। পুলিশ বলছে, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন আসলে মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
চৌগাছা উপজেলার বড় খানপুর গ্রামের আতিয়ার রহমানের ছেলে নাসির উদ্দিন রাব্বি জানিয়েছেন, রোববার রাত দুইটার দিকে আমার স্ত্রী উম্মে সালমা মলি (১৯) যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে স্বাভাবিকভাবে মেয়ে সন্তান প্রসব করে। সোমবার দুপুর ১২ টার দিকে আমাদের কাউকে কিছু না জানিয়ে হাসপাতাল থেকে বাবার বাড়ি যান। উেেম্ম সালমা মলি যশোর শহরের ষষ্ঠিতলাপাড়া এলাকার খুরশিদ আনোয়ারের মেয়ে। নাসির উদ্দিন রাব্বি আরও জানান, দুপুরে আমার স্ত্রী মলি আমাকে মুঠোফোনে বলে আমি কারবালা এলাকায় মেয়েকে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছি, মেয়েকে নিয়ে যাও। মা ছাড়া নবজাতক সন্তানকে বাচানো সম্ভব বলে আমি মেয়েকে আনতে যায়নি। বিকেলে পুলিশ মুঠোফোনে কল করে মেয়ে মারা গেছে বলে খবর দিয়ে হাসপাতালের মর্গে যেতে বলা হয়। রাব্বির অভিযোগ, পরকীয়া প্রেমিকের কাছে সুখে দিন কাটানোর আশায় আমার নবজাতক সন্তানকে মলি হত্যা করেছে। কথা প্রসঙ্গে রাব্বি আরও জানায়, আমি যশোর এম এম কলেজের ছাত্র। আর মলি সরকারি মহিলা কলেজে লেখাপড়া করে। প্রেমের সম্পর্কের জেরে ১১ মাস আগে আমাদের বিয়ে হয়। বিয়ের কয়েক মাস পার হতেই জানতে পারি খালাতো ভাইয়ের সাথে মলির পরকীয়া গড়ে উঠেছে। যে কারণে মলি বাবার বাড়ি থেকে শ্বশুর বাড়ি যেতো রাজি হতো না। শ্বশুর বাড়ি গেলেই কয়েক দিন পরেই চলে আসতো। এই নিয়ে সংসারে অশান্তি শুরু হয়। যা থানা পুলিশ পর্যন্ত গড়িয়েছে। পরে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে শালিস হয়। শালিসে সিদ্ধান্ত হয় পেটের বাচ্চা ভূমিষ্ট হওয়ার পরে আমাদের সম্পর্কের বিচ্ছেদ হবে। রাব্বি আরও জানান, আমাদের তো ছাড়াছাড়ি হবে। মেয়েকে বাড়তি ঝামেলা মনে করেছে মলি। তাই কৌশলে নবজাতক সন্তানকে হত্যা করে পথের কাটা পরিস্কার করেছে। হাসপাতাল মর্গের সামনে উম্মে সালমা মলি জানান, রাব্বির চরিত্র ভালো না। প্রেম করে আমাকে বিয়ে করলেও সে অন্য নারীদের প্রতি দুর্বল ছিলো। রাব্বির পরকীয়ার ঘটনা জানতে পেরে তার সাথে না থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছি আগেই। মলি জানান, হাসপাতাল থেকে বাড়িতে নেয়ার পর মেয়ের শ্বাস কস্ট শুরু হয়। শরীরে জ্বরও ছিলো। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় মেয়েকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিলে চিকিৎসক তাকে মুত ঘোষণা করেন। কোতোয়ালি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তাজুল ইসলাম জানান, নবজাতক শিশুর মৃত্যু নিয়ে পিতার অভিযোগ আছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ইনচার্জ ডা. আব্দুর রশিদ জানান, বিষয়টি স্পর্শকাতর। মেডিকেল বোর্ডের মাধ্যমে ওই শিশুর ময়নাতদন্ত করা হয়েছে।
Leave a Reply