লোকমান হাফিজঃ
সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলায় মুজিববর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহার হিসেবে ভূমি ও গৃহহীন ২৭০টি পরিবারের জন্য ঘর তৈরির কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। ভূমি ও ঘর উপকারভোগীদের বুঝিয়ে দেওয়ার কার্যক্রম আগামী ২০ জুন প্রধানমন্ত্রী দেশব্যাপী ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে উদ্বোধন করবেন।
২৩ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনের প্রথম পর্যায়ের ২৭০টি পরিবারের গৃহহীনদের ঘর ও জমি হস্তান্তর করা হয়েছে। বাকি ২৭০টি ঘরের নির্মাণকাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে।
আশ্রয়ণ প্রকল্পের আওতায় পূর্ব জাফলং ইউনিয়নে নির্মিত ৩১টি ঘর আগামী ২০ জুন প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক উপকারভোগীদের নিকট হস্থান্তরের জন্য প্রস্তুত। ওইদিন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও কনফারেন্সের মধ্য দিয়ে গৃহহীনদের জন্য দ্বিতীয় ধাপে তৈরি নতুন ঘরগুলো উদ্বোধন করবেন। প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে গৃহহীন পরিবারগুলোকে ঘরগুলো বুঝিয়ে দেবেন স্থানীয় প্রশাসন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সেই ঘোষণা বাস্তবায়নে, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সহযোগিতায় মাঠ পর্যায়ে কাজ করে যাচ্ছে উপজেলা প্রশাসন।
পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রতিটি পরিবারের জন্য সেমিপাকা বাড়ি নির্মাণ করা হচ্ছে। প্রতিটি বাড়িতে থাকছে দুটি শোবার ঘর, একটা রান্নাঘর, একটি বারান্দা ও টয়লেট। ইটের দেয়াল, কংক্রিটের মেঝে এবং রঙিন টিনের ছাউনি। ১ লাখ ৭১ হাজার টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা প্রতিটি ঘর যাতে টেকসই হয়, সেজন্য গোয়াইনঘাট উপজেলায় গৃহহীনদের জন্য ঘর নির্মাণের এই বিশাল কাজের মনিটর করছেন উপজেলা প্রকল্প সভাপতি নির্বাহী অফিসার তাহমিলুর রহমান। মাঠ পর্যায়ে টেকসই কাজ নিশ্চিত করতে সার্বক্ষণিক পরিদর্শনে আছেন প্রকল্প সদস্যসচিব উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা শীর্ষেন্দু পুরকায়স্থ।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা জানান, এ উপজেলায় ১ম পর্যায়ে বরাদ্দকৃত ৫০০টি ঘরের মধ্যে ২৭০টি ঘর পূর্বেই প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক হস্তান্তর করা হয়েছে। ১ম পর্যায়ের অবশিষ্ট ২৩০টি এবং ২য় পর্যায়ে বরাদ্দকৃত ৪০টি মোট ২৭০টি ঘর পুনরায় নির্মাণ করা হয়েছে, যা আগামী ২০ জুন প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধন করবেন। এ পর্যন্ত গোয়াইনঘাট উপজেলায় ৫৪০টি গৃহ নির্মাণ করা হয়েছে।
গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাহমিলুর রহমান জানান, আমরা বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার অঙ্গীকার বাস্তবায়নে কাজ করছি। সরকারের খাস জমিতে ভূমি ও গৃহহীন হতদরিদ্রদের জন্য ৫৪৩টি ঘর নির্মাণ করেছি। প্রতিটি ঘরের ব্যয় হয়েছে ১ লাখ ৭১ হাজার টাকা। কাজের মান ঠিক রাখতে সেজন্য সার্বক্ষণিক তদারকি করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, ঘর দেওয়ার জন্য উপকারভোগী নির্বাচনের ক্ষেত্রেও আমরা সঠিকভাবে যাচাই-বাছাই করেছি। যারা প্রকৃত ভূমিহীন তারাই এই সুবিধার আওতায় এসেছেন।
১ম পর্যায়ে বরাদ্দকৃত ৫০০টি ঘরের মধ্যে ২৭০টি ঘর পূর্বেই প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক হস্তান্তর করা হয়েছে। ১ম পর্যায়ের অবশিষ্ট ২৩০টি এবং ২য় পর্যায়ে বরাদ্দকৃত ৪০টি মোট ২৭০টি ঘর পুণরায় নির্মাণ করা হয়েছে। যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী ২০ জুন ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে উদ্বোধন করবেন।
এছাড়াও সরকারি বরাদ্দের বাইরেও ৩টি অতিরিক্ত ঘর নির্মাণ করা হয়েছে, প্রতিটিতে ব্যয় ১ লক্ষ ৭১ হাজার টাকা।
১টির অর্থ দিয়েছেন বাংলাদেশ সেন্ট্রাল প্রশাসন ক্যাডার এসোসিয়েশন এর পক্ষে ডিসি মহোদয় ও ১টি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফারুক আহমদ এবং আরো ১টি উপজেলা পরিষদের অর্থায়নে নির্মাণ করা হয়েছে।
Leave a Reply