কুমিল্লা ব্যুরো:
‘করলে রক্ত দান, বেঁচে যায় হাজার প্রান’ এই মূলমন্ত্র নিয়ে কুমিল্লায় করোনা মহামারিতেও থেমে নেই রক্তদাতা ও সংগঠনগুলো। কুমিল্লায় মুমূর্ষু রোগীকে বাঁচাতে রক্তদান নিয়ে কাজ করছে একাধিক সংগঠন। কুমিল্লায় দিন দিন বাড়ছে স্বেচ্ছায় রক্তদাতার সংখ্যা। বিশেষ করে তরুনরা স্বেচ্ছায় রক্তদানে উৎসাহিত হয়ে উঠছে। স্থানীয় রক্তদাতা সংগঠনের সহযোগিতায় জেলা প্রশাসন ও জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের উদ্যোগে ১ লক্ষ মানুষের রক্তের গ্রুপ নির্ণয় করে খোলা হয়েছে ব্লাড লিংক এ্যাপস।
আমাদের দেশে বছরে প্রায় সাড়ে ৪ লাখ ব্যাগ রক্তের প্রয়োজন হয়। অথচ রক্তের যোগান চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল। একসময় কুমিল্লার বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিক গুলোতেও রক্তের যে পরিমান ঘাটতি ছিলো, দিন দিন তা অনেকাংশেই কমে আসছে। এখন বছরে যে পরিমান রক্তের চাহিদা এর অধিকাংশই জোগান দিচ্ছে স্বেচ্ছায় রক্তদাতারা। বিপদে মানুষের পাশে দাড়াতে পারার মনের আত্মতৃপ্তি থেকেই রক্তদাতারা রক্তদানে উৎসাহিত হচ্ছে। অপরদিকে বিপদে রক্ত পাওয়াই কৃতজ্ঞ রোগীর স্বজনরা।
কুমিল্লা জেলার জাগ্রত মানবিকতা, দৃষ্টান্ত ফাউন্ডেশন, রক্তের বন্ধন, তরী, আলো ব্লাড ডোনেশন, রক্ত কমল ফাউন্ডেশন, ভিক্টোরি, বৃহত্তর কুমিল্লা ব্লাড ব্যাক, আমরা রক্তদাতা, ব্লাড ফর দেবিদ্বারসহ অনেক সেচ্ছায় রক্তদাতা সংগঠন রয়েছে কুমিল্লায়। জীবনের ভয়কে উপেক্ষা করে করোনা মহামারিতেও এ সকল সংগঠনের তরুনরা মানুষের বিপদে এগিয়ে আসছে ।
নগরীর মিশন হাসপাতোলে এক প্রসূতি রোগিকে রক্ত দিতে আসা জাগ্রাত মানবিকতার সদস্য সজিব জানান, রক্ত দিতে পেরে আমি খুই খুশি, এই করোনাকালিন সময়ে সকল স্বাস্থ্য বিধি মেনেই রক্ত দিয়েছি। এটাতে আমি মানসিক শান্তি পাই।
কুমিল্লা নগরীর মেডিকেল সেন্টারে এক মুমূর্ষ রোগির জন্য রক্ত দিতে আসা রক্তের বন্ধনের সদস্য আক্তার হোসেন জানান, আমাদের ফেসবুক পেইজে রক্ত প্রয়োজন বলে জানান, তাই আমি রক্ত দিতে এসেছি। রক্ত দেওয়ার পর অনেক ভাল লাগছে যে আমার রক্তের কারনে একজন রোগি উপকৃত হচ্ছে। মানুষ মানুষের বিপদে এগিয়ে আসুক এ আশাই করি।
কুমিল্লা মডার্ন হাসপাতালে রক্ত গ্রহিতার স্বজন বরুড়া উপজেলার আমড়াতলীর বাসিন্দা আমজাদ হোসেন বলেন, আমার মেয়ের রক্তের প্রয়োজনে সকাল থেকেই রক্ত খুঁজতেছিলাম, আত্নীয় স্বজন অনেকের সাথে যোগাযোগ করেও রক্তের ব্যবস্থা করতে পাছিলাম না। পরে হাসপাতালের এক স্টাফ এর সহযোগিতায় দৃষ্টান্ত ফাউন্ডেশনে যোগাযোগ করি, মহুর্তেই এক যুবক এসে রক্ত দিয়ে চলে গেছে। আমি তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই।
রক্তদাতা সংগঠক তরীর রেজবাউল হক রানা বলেন, করোনাকালিন সময়ে অনেক রোগির স্বজনরা রক্ত দিতে অনীহা প্রকাশ করে। তখন আমাদের সেচ্ছায় রক্তদাতা সংগঠনের উপর কিছুটা চাপ বাড়ে। তারপরও এই মহামারিতে সেচ্ছায় রক্তদাতারা মানুষের পাশে এগিয়ে এসেছে।
রক্তদাতা সংগঠক একরামুল হক জানান, করোনা মাহামারিতে মানুষ করোনায় ঘর থেকে বের হতে পারছিলো না। আর বের হলেও সামাজিক দৃরত্ব বজায় রাখছে। এই কঠিন সময়ে জীবনের ঝুকি নিয়ে রক্ত যোদ্ধারা বিভিন্ন হাসপাতালে মূমূর্ষ রোগিদের রক্তদানে এগিয়ে আসছে।
সেচ্ছায় রক্তদাতা সংগঠন দৃষ্টান্ত ফাউন্ডেশনের সভাপতি সাইফ উদ্দিন রনী, যিনি একাই ৭০ বার রক্ত দিয়েছেন। তিনি বলেন, করোনা পরিস্থিতিতে জীবনের ঝুকি নিয়ে রক্তদাতারা রক্ত দান করে যাচ্ছেন। আমরা রক্ত দেওয়ার পাশাপাশি রক্তদাতাদের উৎসাহিত করতে প্রতিবছরই সেচ্ছায় রক্তদাতা সংগঠন ও রক্তদাতাদের সম্মামনা দিয়ে আসছি। আমি মনে করি রক্তদাতাদের উৎসাহিত করতে প্রশাসন, স্বাস্থ্য বিভাগসহ বিভিন্ন সংগঠনকে এগিয়ে আসতে হবে।
কুমিল্লার সেচ্ছায় রক্তদানের বৃহৎ সংগঠন জাগ্রত মানবিকতার সাধারন সম্পাদক তাহসিন বাহার সুচনা বলেন, করোনাকালিন মহামারিতে নিরাপদ রক্তদানে সকল স্বাস্থ্যবিধি মেনেই প্রতিদিনই মানুষের পাশে দাড়াচ্ছে জাগ্রত মানবিকতার রক্তদাতারা। যে কোন পরিস্থিতিতেই হোক রক্তদাতারা মানুষের বিপদে ঘরে বসে থাকতে পারেনা সে কারনে করোনা পরিস্থিতিতেও আমাদের যোদ্ধারা একদিনের জন্যও বসে থাকেনি।
কুমিল্লা জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের ডেপুটি সিভিল সার্জন ডাঃ মো: শাহাদাত হোসেন বলেন, স্বেচ্ছায় ও বিনামূল্যে রক্তদাতাদের পাশাপাশি সাধারন জনগনকে রক্তদানে উৎসাহিত করতে কাজ করছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। মুমূর্ষ রোগীদের রক্তের প্রয়োজনে সব সময় তরুন সমাজ এগিয়ে আসছে। জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ তাদের সবসময় উৎসাহিত করছে। কুমিল্লার সেচ্ছায় রক্তদাতা বিভিন্ন সংগঠনের সহযোগিতায় জেলা প্রশাসন ও জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ ১ লক্ষ লোকের রক্তের গ্রুপ নির্নয় করে একটি এ্যাপস তৈরী করা হয়েছে। এ এ্যাপসে মানুষের বিপদে কোন বিড়ম্বনা ছাড়াই সহজে রক্ত সংগ্রহ করতে পারবে ।
Leave a Reply