বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:৫৩ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম :
প্রচারেই প্রসার, প্রতিষ্ঠানের জন্য বিজ্ঞাপন দিন, যোগাযোগঃ 01764934214 ঠিকানাঃ ৮৯, কাকরাইল, গ্রীন সিটি এজ, ১১ তলা, ঢাকা-১২১৫, মোবাইল:01764934214, 01716035712 ইমেইল:newsroom@bangladeshbulletin.com
শিরোনাম :
ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে প্রতি শনিবার সারাদেশে পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানোর আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর অমর একুশে বইমেলা ২০২৬ উদ্বোধন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ের পর আজ সংবাদ সম্মেলন করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সহিংসতা ও গুজব বরদাশত করা হবে না: জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচন: ২৯৯ আসনে ভোট, সব প্রস্তুতি শেষ ইসির স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে একটি আধুনিক, বাসযোগ্য ও জনবান্ধব রাজশাহী মহানগর গড়ে তোলা হবে-মিনু খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনায় ডেসকো জিয়া পরিষদের বিশেষ দোয়া মাহফিল স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে  আলোকচিত্র প্রদর্শনী “ আনটোল্ড” অনুষ্ঠিত আনিনুল হক’কে ঢাকা-১৬ আসন উপহারের ঘোষনা বুলবুল হক মল্লিকে’র বোয়ালমারীতে বিএনপি’র দুই গ্রুপের সংঘর্ষের আশঙ্কা, এলাকাজুড়ে চরম উত্তেজনা
যশোর হাসপাতালের রেডজোনে রোগীর চাপ কমাতে করোনাক্রান্তদের ছাড়পত্র

যশোর হাসপাতালের রেডজোনে রোগীর চাপ কমাতে করোনাক্রান্তদের ছাড়পত্র


বিল্লাল হোসেন,যশোর প্রতিনিধি:


যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের রেডজোন থেকে করোনা আক্রান্ত অবস্থায় রোগীকে ছাড়পত্র দেয়া হচ্ছে। বাড়িতেই গিয়ে অনেকেই প্রকাশ্যে ঘুরেও বেড়াচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছেন, কিছু দিন ভর্তি থাকার পর শারীরিক অবস্থার উন্নতি হওয়া রোগীদের ছাড়পত্র দিয়ে হোম কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হচ্ছে। প্রতিদিন একাধিক করোনায় আক্রান্ত রোগী ভর্তি হওয়ার কারণে রোগীর চাপ কমাতে এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। বুধবারও রেডজোনে ১৫ জন করোনাক্রান্ত রোগী ভর্তি হয়েছেন। এদিন ছাড়পত্র নিয়েছেন ৭ জন। 
জানা গেছে, গত ২৩ মার্চ যশোরে ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে করোনা সন্দিগ্ধ রোগীদের চিকিৎসাসেবার জন্য আইসোলেশন ওয়ার্ড নামে আলাদা ইউনিট তৈরি করা হয়। পরে ৯ সেপ্টেম্বর হাসপাতালে করোনা রোগীদের চিকিৎসার জন্য ৪০ শয্যার রেডজোন তৈরি করা হয়। কিন্তু রোগী বাড়তে থাকায় আরও ৪০ শয্যার আরেকটি রেডজোন ওয়ার্ড প্রস্তুত করে কর্তৃপক্ষ। মোট ৮০ শয্যার দুটি ওয়ার্ডে রোগীর চাপ বাড়তেই আছে। প্রতিদিন করোনা রোগী চিকিৎসা নিতে আসছেন। ফলে কোভিডে আক্রান্ত রোগী সামাল দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে চিকিৎসক ও সেবিকাদের। বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত রেডজোনে ৮০ শয্যার বিপরীতে ৭৬ জন করোনা রোগী চিকিৎসাধীন। করোনা রোগী আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যাওয়ায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ চিন্তায় রয়েছেন। রেডজোন সূত্রে জানা গেছে, গত দুই দিনে ১৫ জন রোগী রেডজোন থেকে ছাড়পত্র নিয়েছেন। এরমধ্যে করোনা আক্রান্ত রোগী রয়েছেন ১১ জন। এমনি একজন রোগীর বাড়ি হলো যশোর শহরতলী নওদাগ্রামে। হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র নিয়ে বাসায় ফেরার পরের দিন সকালে তিনি বাড়ির সামনে প্রকাশ্যে ঘোরাঘুরি করেছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। তার মতো একাধিক রোগী প্রকাশ্যে ঘুরছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে করে তাদের পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা সবচেয়ে ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারে। এভাবেই  আরও করোনার সংক্রমণ ছড়ানোর আশঙ্কা রয়েছে। সূত্র জানায়, এই পর্যন্ত রেডজোনে ওয়ার্ডের রিপোর্ট খাতার তথ্যানুযায়ী মৃত ১৫ জন হলেন, যশোর শহরের ঘোপ নওয়াপাড়া রোডের কবির মিয়ার স্ত্রী মোমেনা খাতুন (৬০), পালবাড়ি এলাকার মৃত আজিম মোল্যার ছেলে আজগর আলী (৬৫),  লোন অফিস পাড়ার ইকরাম আলীর ছেলে হাফিজ (৯৩), সদর উপজেলার এনায়েতপুর গ্রামের উত্তার উদ্দিনের ছেলে সলেমান মোল্যা (৭৫), একই গ্রামের  বাসিন্দা জিয়াউর রহমান জিয়া (৪০),
বাঘারপাড়া উপজেলার মহিরণ গ্রামের মুত সিদ্দিক মিয়ার ছেলে সাখাওয়াত (৫৬), দূর্গাপুর গ্রামের মৃত গোলাম নবীর ছেলে আলম (৬৫), মণিরামপুর উপজেলার কোদলাপাড়া গ্রামের মুনসুর আলীর ছেলে মুজিবুর রহমান (৪৯), চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার আন্দলবাড়িয়া গ্রামের রাধাপদ নাথের ছেলে অধির কুমার নাথ (৭২), নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার দিঘলিয়া গ্রামের নুরইসলামের ছেলে আবুল কাশেম (৪৫), ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার বারোবাজার এলাকার জুলফিকার আলীর স্ত্রী নুরজাহান (২২), সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার খোরদে গ্রামের ইন্তাজুল ইসলামের ছেলে পারভেজ (১৭), শার্শা উপজেলার শিকারপুর গ্রামের আলী রেজার স্ত্রী হাজেরা বেগম (৫০), ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার গোপালপুর গ্রামের মৃত বিশ্বনাথ দাসের ছেলে মুড়লী দাস (৮০) ও আরেকজন জহুরুল হককে (৫৫)। আর চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করেছেন ৩৫২ জন। হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও)ডা. আরিফ আহমেদ জানান, যারা ভর্তি হচ্ছেন, তাদের বেশির ভাগেরই অক্সিজেন দেওয়ার প্রয়োজন হচ্ছে। যাদের আর অক্সিজেন লাগছে না, তাদের কোভিড-১৯ নেগেটিভ না হওয়ার পর ছাড়পত্র দিয়ে হাসপাতালে অন্য জটিল রোগীদের ভর্তির সুযোগ করে দেওয়া হচ্ছে। আর ছাড়পত্র দেওয়া রোগীদের বাড়িতে কমপক্ষে ১৪ দিন আইসোলেশনে থাকতে অনুরোধ করা হচ্ছে। আইসোলেশনের নিয়ম না মেনে যদি কোন রোগী বাইরে ঘোরাঘুরি করেন এটা অবশ্যই অসচেতনতা। একজন সেবিকা জানিয়েছেন, করোনা রোগী নিয়ে সমস্যা বেশি না হলেও তাদের স্বজনেরা বেশি ঝামেলা করেন। অনেক সময় তারা চিকিৎসককে বলেন ছাড়পত্র দিয়ে রোগীকে বাড়ি পাঠানোর জন্য। তবে শ্বাসকষ্ট থাকা অবস্থায় কোন রোগীকে ছাড়পত্র দেয়া হয়না।  হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আক্তারুজ্জামান জানান, রোগীর শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করে ছাড়পত্র দেয়া হয়। যদি কেউ হোম আইসোলেশন না মানে এতে তাদের কিছু করার নেই। তবে ভারত ফেরত কোন রোগীর ফলাফল নেগেটিভ না আসা পর্যন্ত ছাড়পত্র দেয়া হয়না। যশোরের সিভিল সার্জন ডা. শেখ আবু শাহীন জানান, চিকিৎসক মনে করলে অবশ্যই করোনায় আক্রান্ত অবস্থায় রোগীকে ছাড়পত্র দিতে পারবেন। তবে রোগী ছাড়পত্র নিয়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে বাড়ি ফিরবেন। হোম কোয়ারেন্টাইনও সঠিকভাবে মেনে চলতে হবে। করোনা আক্রান্ত কেউ বাড়ির বাইরে আসলে সঙ্গে সঙ্গে জানানোর অনুরোধ করেছেন সিভিল সার্জন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




©বাংলাদেশবুলেটিন২৪
Design & Developed BY ThemesBazar.Com