আনোয়ার সাদত জাহাঙ্গীর,ময়মনসিংহঃ
ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ের রসুলপুর গ্রামের মোছাম্মদ কুলসুমা খাতুন (২০) ও সুমাইয়া খাতুন(১৮) দুই বোন অভাব-অনটনের কারণে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার জৈনা বাজার এলাকায় রিদিশা ফুড এন্ড বেভারেজ নামে একটি কারখানায় ২ বছর পূর্বে চাকরি নেন।চাকরির সুবাদে তারা ঐ এলাকাতেই বসবাস শুরু করেন। এ সময় বড় বোন কুলছুমা ইউসুফ (২২) নামের এক যুবককে প্রেম করে বিয়ে করেন।টিকটক তারকা বানানো ও বেশি বেতনে চাকরির লোভ দেখিয়ে স্ত্রী ও শ্যালিকাকে ভারতের নারী পাচারকারীদের কাছে বিক্রি করে দেন স্বামী ইউসুফ ও তার সহযোগী সুজন(৪৫)।পরে পাচারকারীদের কাছ থেকে কৌশলে পালিয়ে কলকাতা পুলিশ ও বিএসএফের হাতে আটক হয়ে দুই বোন এখন আছেন সেফ হোমে।পাচারকারী চক্রের হাত থেকে কৌশলে পালিয়ে ১৭ মে হাওড়া স্টেশন এলাকায় পুলিশের হাতে আটক হন ছোট বোন। পুলিশ তাকে উদ্ধার করে কলকাতার শিয়ালদহ এলাকায় ভারতীয় সরকার পরিচালিত সেফ হোম পার্টিসিপেটরি রিসার্চ অ্যান্ড অ্যাকশন নেটওয়ার্কের হাতে ন্যাস্ত করে।এর তিন দিন পর ২১ মে বড় বোন ভারতের বোঝাপড়া সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশের সময় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের হাতে আটক হন। বিএসএফ তাকে ভারতীয় পুলিশের হাতে তুলে দেয়।বর্তমানে দুই বোনই শিহালধরের একটি সেফ হোমে রয়েছেন।তাদের পিতা জানান,মে মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে নিখোঁজ হন তার দুই মেয়ে। ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার উচাখিলা ইউনিয়নের বাসিন্দা নারী পাচারকারী চক্রের সদস্য ইউসুফ সুকৌশলে আমার মেয়েকে বিয়ে করে ভারতে পাচার করে।এ কাজে ইউসুফের সহযোগী ছিলো নেত্রকোনা জেলার বারহাট্টার সুজন মিয়া।ইউসুফ নিজে এই ঠিকানার কথা বলেছিল।মেয়েদের বাবা আরও জানান,এ ঘটনায় শ্রীপুর থানায় সাধারণ ডায়েরি করতে গিয়েছিলাম। কিন্তু পুলিশ কোনো অভিযোগ বা মামলা নেয়নি। এতে আরও বেশি হতাশ হয়ে গিয়েছিলাম। তিনি তার দুই মেয়েকে দ্রুত ফেরত চান। দুই তরুণীর নিখোঁজের ঘটনার খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানিয়েছেন গাজীপুরের পুলিশ সুপার এসপি এসএম শফিউল্লাহ।
Leave a Reply