মোঃ সাইফ উদ্দিন রনী, কুমিল্লা ব্যুরো প্রধান:
মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষ্যে কুমিল্লায় আশ্রায়ণ-২ প্রকল্পের আওতায় ভূমিহীন ও গৃহহীনদের জন্য আরো ১ হাজার ২ শ ৯১টি গৃহ নির্মাণ কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। আগামী জুন মাসের মধ্যে এসব ঘরগুলো হস্তান্তর করা হবে। চলতি বছরের জুনে কুমিল্লায় আরও ১২ শতাধিক গৃহহীন পরিবারের মাথা গোঁজার ঠাঁই হচ্ছে। ১৫ জুন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভূমি ও গৃহহীন পরিবারের মাঝে তৈরি কৃত ঘর হস্তান্তর করবেন। এতোমধ্যে জেলার ১৭ উপজেলায় ভূমি ও গৃহহীনদের আশ্রয়ে নির্মিত এক হাজার ২৯১টি ঘরের মধ্যে প্রায় ৮৬২টি ঘরের নির্মাণ কাজ সম্পূর্ণ হয়েছে। যা ভূমিহীনদের কাছ হস্তান্তর যোগ্য। এর আগে গত ২৩ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহার হিসেবে এই আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের আওতায় প্রথম ধাপে কুমিল্লার ৩৪৩ ভূমিহীন-গৃহহীন পরিবারকে ২ শতাংশ জমি ও ঘর দেওয়া হয়েছে। একসঙ্গে একক গৃহ ও ব্যারাকে এতো ভূমিহীন-গৃহহীন পরিবারকে জমি এবং ঘর দেওয়ার ঘটনা বিশ্বে বাংলাদেশেই প্রথম।
জেলা প্রশাসক কমিরুল হাসান জানান, এর আগেও আমরা বরাদ্দকৃত ঘর সফলভাবে চাহিদাসম্পন্নদের কাছে হস্তান্তর করতে সফল হয়েছি। এবারও সময় মত এসব ঘর গৃহহীনদের কাছে সঠিক সময়ে তুলে দেয়া হবে। মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার প্রকল্পের আওতায় ভূমিহীন ও গৃহহীন ক শ্রেণির নির্ধারিত পরিবারগুলোকে পুনর্বাসন করা হবে।
কুমিল্লার স্থানীয় সরকার উপ-পরিচালক মোহাম্মদ শওকত ওসমান জানান, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী “মুজিববর্ষ” উপলক্ষে জাতির জনকের স্বপ্ন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতিশ্রুতিতে ভূমি ও গৃহহীন মানুষের পুনর্বাসনের তালিকা করা হয়েছে। দ্বিতীয় ধাপের আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের অধীনে এই তালিকায় কুমিল্লা জেলার ১৭ উপজেলায় এক হাজার ২৯১ ভূমি ও গৃহহীন মানুষ ঘর পাচ্ছেন।
তিনি আরও জানান, প্রধানমন্ত্রীর উপর হিসেবে প্রথম পর্যায়ে প্রতিবন্ধী, স্বামী পরিত্যাক্তা, ভিক্ষুক ও ষাটোর্ধ প্রবীণ ভূমি ও গৃহহীন নাগরিকরা অগ্রাধিকার পাচ্ছেন। জাতির জনকের স্বপ্ন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতিশ্রুতিতে ভূমি ও গৃহহীন মানুষকে ঘর তৈরি করে দেওয়ার সিদ্ধান্তে দ্বিতীয় ধাপে নির্মিত এক হাজার ২৯১টি ঘরের এরমধ্যে কুমিল্লার আদর্শ সদরে ১০২, সদর দক্ষিণ ৪৪, চৌদ্দগ্রাম ১৮০, নাঙ্গলকোট ১৪৩, লাকসাম ৩৮, মনোহরগঞ্জ ৪৮, লালমাই ১০, বরুড়া ১৩৮, চান্দিনা ৫৩, দাউদকান্দি ৫২, মেঘনা ২৪, তিতাস ২২, হোমনা ৫০, মুরাদনগর ২৫০, দেবিদ্বার ২০, ব্রাহ্মণপাড়া ৭৫ ও বুড়িচং ৪২।
কুমিল্লার স্থানীয় সরকার উপ-পরিচালক মোহাম্মদ শওকত ওসমান বলেন, আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের অধীনে প্রথম ধাপে কুমিল্লায় ভূমি ও গৃহহীন মানুষের পুনর্বাসনে কুমিল্লা জেলায় ৩৪৩ ভূমিহীনকে ঘর প্রদান করা হয়েছে। একই প্রকল্পের দ্বিতীয় ধাপে কুমিল্লার ১৭ উপজেলায় আরও এক হাজার ২৯১ ভূমি ও গৃহহীন পরিবারকে পনর্বাসনের ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। চলতি বছরের আগামী ১৫ জুন এই ঘর ভূমি ও গৃহহীনদের মাঝে হস্তান্তর কারার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। ঘর নির্মাণে কোন ধরণের অপরাধ, অপকর্ম ও দুর্নীতি মুক্ত রাখতে কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামরুল হাসান সরেজমিনে খোঁজখরর লাখছেন।
তিনি আরও বলেন, আশাকরি সকলের সম্পৃক্ততায় কুমিল্লা জেলার প্রত্যকটি উপজেলাকে ভূমি ও গৃহহীন মুক্ত ঘোষণা করতে পারবো। আমরা যে উন্নত বাংলাদেশে স্বপ্ন দেখছি, সেই স্বপ্ন যদি আমাদের বাস্তবায়ন করতে হয় সেই ক্ষেত্রে আমাদের যে দরিদ্র জনগোষ্ঠী আছে তাদেরকে পূর্বাসনের কোন বিকল্প নেই। পিছিয়ে পড়া মানুষকে যাতে আমরা মূল স্রোতধারার সাথে সম্পৃক্ত করতে পারি সেই লক্ষ্যে আমরা কাজ করছি। শুধু এই নয় তাদেরকে আরও কিভাবে অর্থনৈতিক কার্যক্রমের সাথে সম্পৃক্ত করা যায় এবং স্বাবলম্বী করে আমাদের দেশের অর্থনীতির চাকাকে আরও সচ্ছল করতে পারি, সেই লক্ষ্যেও আমরা কাজ করছি। মূল স্রোতধারার সাথে পিছিয়ে পড়া মানুষকে সম্পৃক্ত করে দেশে অগ্রযাত্রাকে এগিয়ে নিতে চাই।
Leave a Reply