মোঃ সাইফ উদ্দিন রনী, কুমিল্লা ব্যুরো প্রধান:
কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শিশুর মৃত্যুর পর করোনা ইউনিটে মারা গেলেন মা। ১০ মিনিটের ব্যবধানে শিশু ও মায়ের মৃত্যুতে বাকরুদ্ধ হয়ে আছে পরিবারের সদস্যরা। গত রবিবার রাতে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের করোনা ইউনিটে গাইনী ডাক্তারদের তত্ত্বাবধানে পুত্র সন্তানের জন্ম দেন করোনা আক্রান্ত ফারজানা আক্তার। গতকাল সোমবার ভোর ৬টা ২০ মিনিটে হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে রাখা ফারজানার ২৬ সাপ্তাহের শিশুটির মৃত্যুর খবর পায় স্বজনেরা। এর ১০ মিনিট পরেই ১৪ দিন করোনার সাথে যুদ্ধ করে সাড়ে ৬ টায় মারা যান ফারজানাও। এসময় হাসপাতালে উপস্থিতি থাকা ফারজানার স্বামী সোহেল পাটোয়ারীর বন্ধু ও ভাগিনা আবদুল হাই সুমন এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।
আবদুল হাই সুমন আরো জানান, শিশুটির মৃত্যুর খবর ফারজানাকে জানানোও হয় নি। কিন্তু ওই সময়ই তিনি ছটফট শুরু করেন এবং অক্সিজেন মাস্ক খুলে ফেলার চেষ্টা করেন। ১০ মিনিটের মধ্যেই তিনি মৃত্যুর কোলে ঢরে পড়েন।
এদিকে করোনা ইউনিটের আইসিইউ বিভাগের কনসালটেন্ট ডা. মোঃ আবদুল মুকতাদির জানান, আগে ফারজানা মারা যান পরে তার শিশুটি মারা যায়। আমরা খুব চেষ্টা করেও রোগীটিকে বাঁচাতে পারিনি। রাতে ২৬ মাসের সন্তান প্রসবের পর ভোরে মা মারা গেলেন- তারপর শিশুটিও মারা গেল। ফারজানা মৃত্যুর আগ পর্যন্ত লাইফ সাপোর্টে ছিলেন।
এদিকে করোনায় মৃত্যুবরনকারীদের দাফনে সহযোগিতাকারী স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বিবেক এর চেয়ারম্যান ইউসুফ মোল্লা টিপু ফারজানার পরিবারের বরাত দিয়ে নিশ্চিত করেছেন, ১০ মিনিটের ব্যবধানে মারা যায় মা ও সন্তান। একই সাথে তাদের জানাজা ও দাফন সম্পন্ন করে বিবেকের সদস্যরা।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার আদ্রা ইউনিয়নের হরিশাপুর গ্রামরে সোহেল পাটোয়ারীর স্ত্রী ফারজানা আক্তার অন্তসত্ত্বা অবস্থায় করোনা আক্রান্ত হয়ে ১৭ মে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের করোনা ইউনিটে ভর্তি হন। প্রথমে আইসোলেশন ওয়ার্ডে থাকলে ও পরে আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। কুমিল্লা মেডিকেলে আসার আগে ফারজানা কুমিল্লা টাওয়ার হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। সেসময় তিনি জ্বর, কাশিতে ভুগছিলেন। পরে সেখানে শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা দেখা দিলে তাকে কুমেক করোনা ইউনিটে আনা হয়।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত ১০ মে সৌদী আরব থেকে বাংলাদেশে আসেন। তার আরো ১ মেয়ে এবং ১ ছেলে আছে।
কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালন ডা. মোঃ মহিউদ্দিন জানান, রোগীটিকে গিয়ে দেখে এসেছি। ঢাকায় এসআইসিইউতেও পাঠানোর পরামর্শ দেই। এর মধ্যেই মা ও শিশু মারা যায়।
Leave a Reply