মোঃ সাইফ উদ্দিন রনী, কুমিল্লা ব্যুরো প্রধান:
নানা আয়োজনে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও ১৬তম বিশ্ববিদ্যালয় দিবস পালন করা হয়েছে। ৩১ মে সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে থেকে আনন্দ শোভাযাত্রার মাধ্যমে দিবসটির আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। র্যালী শেষে সাড়ে ভার্চুয়াল ক্লাস রুমে কেক কেটে সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
শিক্ষক সমিতির সভাপতি ড. মো. শামিমুল ইসলামের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমরান কবির চৌধুরী।
শিক্ষক সমিতির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মো. মোকাদ্দেস-উল-ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. আসাদুজ্জামান ও রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. মো. আবু তাহের। অনুষ্ঠানে শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও প্রক্টর ড. কাজী মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন।
সভায় প্রধান অতিথি উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমরান কবির চৌধুরী বলেন, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় আগামীতে আরো বড় পরিসরে বিশ্ববিদ্যালয় দিবস পালন করতে পারবে। আমরা যে ১৬ শ’ ৫৫ কোটি টাকার প্রকল্প হাতে পেয়েছি তা আজ স্বপ্ন নয় বাস্তব। আমি স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি এই প্রকল্প বাস্তবায়ন হবে। আমরা শিঘ্রই একটি চমৎকার পরিবেশ পাচ্ছি। কিন্তু এই চমৎকার পরিবেশ নষ্ট হতে বেশী সময় লাগবেনা। পরিবেশ যাতে নষ্ট না হয় এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে যাতে কোন বাধা না আসে সেজন্য আমাদের সবাইকে একত্রে কাজ করতে হবে। আমাদের দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো হল মধ্যবিত্ত। এখানে শিক্ষার্থীরা অল্প টাকা দিয়ে পড়াশুনা করে। কিন্তু আমরা সরকারী অর্থ অপচয় করতে পারিনা। অপচয় করা একটা অপরাধ।
তিনি আরো বলেন, আমাদের মধ্যে মতপার্থক্য থাকতে পারে। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের ভবিষ্যতের জন্য সবাইকে একতাবদ্ধ হতে হবে। নিজেদের মধ্যে প্রতিযোগিতা থাকবে তবে সেটা হবে পজেটিভ প্রতিযোগিতা। আর পজেটিভ থাকলে সবকিছু জয় করা সম্ভব হয়। আমরা সবাই একতাবদ্ধ হয়ে আমাদের যে অভাব রয়েছে তা আমরা সেটা পূরণ করতে পারবে।
ট্রেজারার বলেন, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের আলোয় আলোকিত হলো কুমিল্লাবাসী। বিশ্ববিদ্যালয়ের সদস্যদের পাশাপাশি কুমিল্লাবাসী যখন এই বিশ্ববিদ্যালয় কে ধারণ করবে তখন এটি বিশ্ব দরবারে জায়গা করে নিবে। ২৫০ একরের ক্যাম্পাস থেকে যারা গ্র্যাজুয়েট হবে তারা যাতে মানবজাতির কল্যাণে কাজ করে। এই জন্য আমাদের সকলকে একত্রিত হয়ে কাজ করতে হবে।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় প্রধান, হল প্রভোস্ট, শাখা ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, ২০০৬ সালের ২৮ মে দেশের ২৬তম সরকারী বিশ^বিদ্যালয় হিসেবে যাত্রা শুরু করে কুমিল্লা বিশ^বিদ্যালয়।
Leave a Reply