মোঃ সাইফ উদ্দিন রনী, কুমিল্লা ব্যুরো প্রধান:
এখন মধু মাস। গ্রীষ্মকালীন বিভিন্ন ফলে ভরপুর পরো নগরী। মৌসুমি ফলে ছেয়ে গেছে নগরীর ফলবাজারসহ শহরের অলি-গলি। তবে স্থানীয় ফলের দোকানের চেয়ে ভ্রাম্যমান বিক্রেতারা দখলে নিয়েছেন পুরো নগরীর ফলের ব্যবসা। স্থায়ী ফল দোকানের চেয়ে ভ্রাম্যমান দোকানে দামে একটু কম থাকা ও হাতের নাগালে পাওয়ায় এসব দোকান গুলোতেই বেচাকেনা একটু বেশি। তবে নিরাপদ ফল কুমিল্লার বাজারে ক্রয়-বিক্রয়ের প্রত্যাশা প্রশাসন ও ক্রেতা সাধারনের।
কুমিল্লা নগরীর চকবাজার, রাজগঞ্জ, নিউমার্কেট, টমছমব্রীজ, শাসনগাছায় প্রায় শতাধিক স্থায়ী ফলের দোকান রয়েছে। এর বাহিরে মধুমাস হওয়ায় নগরীর কান্দিরপাড়, পুলিশ লাইন রোড, লাকসাম রোড, রানীর বাজার রোড, ঝাউতলা, ডিসি রোডসহ নগরীর বিভিন্ন অলিগলিতে অস্থায়ীসহ প্রায় ৫ শতাধিক ফলের দোকান রয়েছে।
কুমিল্লা নগরীর বিভিন্ন ফল বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রায় প্রতিটি বাজারেই গ্রীষ্মকালীন মৌসুমি ফলের সমারোহ। এসব ফলের মধ্যে রয়েছে আম, জাম, কাঁঠাল, লিচু, আনারস ও তাল ইত্যাদি। এছাড়াও বেল, বাঙ্গি, তরমুজ, পেঁপে ও পেয়ারাসহ আরও বিভিন্ন ফল দেখা গেছে ফল বাজার গুলোতে। গ্রীষ্মকালীন ফলের মধ্যে বর্তমানে ক্রেতাদের চাহিদার শীর্ষে রয়েছে লিচু। এছাড়া নগরীর প্রায় প্রতিটি সড়ক ও পাড়া-মহল্লায় ভ্যানে করে মৌসুমি ফল বিক্রি করতে দেখা গেছে ভ্রাম্যমাণ ফল ব্যবসায়ীদের। এরা আবার বাজারের তুলনায় কিছুটা কম দামে ফল বিক্রি করছেন। বাজার দর পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, প্রতি এক শত লিচু বিক্রি করছেন ২৫০ থেকে ৪০০ টাকায়, প্রতি পিস কাঁঠাল সাইজ অনুসারে ১০০ থেকে ৫০০ টাকায়। আম প্রতি কেজি ৬০ থেকে ১২০ টাকায়, আনারস প্রতি জোড়া ১২০ থেকে ১৫০ টাকায়, প্রতি কেজি জাম ১২০ টাকা থেকে ২০০ টাকায় এবং তালের শ্বাস প্রতি পিস ১৫ থেকে ২৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। নগরীর ফলের বড় বাজার রাজগঞ্জ ফল বাজারে চমৎকার প্রদর্শনীর মাধ্যমে মৌসুমি ফল লিচু, হিমসাগর ও লেংড়াসহ বিভিন্ন ফলে ক্রেতাদের আকৃষ্ট করার চেষ্টা করছেন ব্যবসায়ীরা। তবে বাজারে সব চেয়ে বেশি লিচু বিক্রি হতে দেখা গেছে। ব্যবসায়ীরা জানান এ সপ্তাহের মধ্যে মিষ্টি ও রসালো আম বিক্রির দখলে থাকবে বাজার।
নগরীর বাদুরতলা ফয়জুন্নেছা স্কুল সংলগ্ন ভ্রাম্যমান ফল দোকানদার লিটন মিয়া জানান, তিনি এ ভ্যানে করে আগে সবজি বিক্রি করতেন। এখন ফলের সময় এবং এর চাহিদা থাকায় ফল বিক্রি করছেন।
.কান্দিপাড় কালিবাড়ি সংলগ্ন ফল দোকানদার মানিক জানান, আমাদের দোকান ভাড়া, স্টাফ খরচ লাগে, আর যারা ভ্রম্যমান তাদের এ খরচ নাই তাই তারা আমাদের থেকে একটু কমদামে বিক্রি করতে পারে।
রাজগঞ্জ ফল বাজারের ব্যবসায়ী আবদ মিয়া জানান, আমাদের দোকান ভাড়াসহ অন্যান্য আনুসাঙ্গিক থাকায় আমাদের খরচ পড়ে বেশি তাই একটু দাম বেশি । তাছাড়া আমরা স্থায়ী ব্যবসায়ী ক্রেতাদের কোন খারাপ ফল দিতে পারবনা। আমরা ভাল ফল কেনাবেচা করি। ভাল জিনিস দাম তো একটু বেশি পড়বেই।
ব্যবসায়ী শাহলম মিয়া জানান, কিছু দিনের মধ্যেই লিচুর বাজার কমে যাবে। এবার দাম কিছুটা বেশি লিচুর। লিচুর এখন ভরপুর মৌসুম। তাই লিচুর ব্যবসা জমজমাট। তবে এ সাপ্তাহ থেকে আমের বেচাকেনা জমে উঠবে ।
মোঃ বাপ্পি নামে এক ক্রেতা জানান, বড় সাইজের ১০০ পিস লিচু কিনেছি ৪০০ টাকা দিয়ে। বাজারে ভরপুর মৌসুমি ফল থাকলেও দাম চড়া রয়েছে। সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে রাখতে এবং বিষাক্ত রাসায়নিক মুক্ত ফল বিক্রিতে প্রশাসন তদারকি রাখার দাবী জানান তিনি।
কুমিল্লা জেলা প্রসাসনের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো.আবু সাঈদ বলেন, জেলা প্রশানের পক্ষ থেকে সবসময় বাজার মনিটরিং করা হয়। নিমসার বাজার থেকে আমরা চাই ফরমালিন মুক্ত নিরাপদ ফল কুমিল্লার বাজারে ক্রয়-বিক্রয় হোক। কোথাও অনিয়মের অভিযোগ পেলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর কুমিল্লার সহকারী পরিচালক মো: আছাদুুল ইসলাম বলেন, আমরা নিয়মিত বাজারগুলো তদারকি করছি। অভিযানের ক্ষতিকর রাসায়নিক দ্রব্য মিশ্রিন, সময় ওজনে কম দেওয়া, অধিক মূল্যে রাখাসহ বিভিন্ন কারনে জরিমানা করেছি। ভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষায় আমাদের কার্যক্রম অব্যাহত আছে।
Leave a Reply