শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:৪৭ অপরাহ্ন

শিরোনাম :
প্রচারেই প্রসার, প্রতিষ্ঠানের জন্য বিজ্ঞাপন দিন, যোগাযোগঃ 01764934214 ঠিকানাঃ ৮৯, কাকরাইল, গ্রীন সিটি এজ, ১১ তলা, ঢাকা-১২১৫, মোবাইল:01764934214, 01716035712 ইমেইল:newsroom@bangladeshbulletin.com
শিরোনাম :
ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে প্রতি শনিবার সারাদেশে পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানোর আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর অমর একুশে বইমেলা ২০২৬ উদ্বোধন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ের পর আজ সংবাদ সম্মেলন করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সহিংসতা ও গুজব বরদাশত করা হবে না: জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচন: ২৯৯ আসনে ভোট, সব প্রস্তুতি শেষ ইসির স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে একটি আধুনিক, বাসযোগ্য ও জনবান্ধব রাজশাহী মহানগর গড়ে তোলা হবে-মিনু খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনায় ডেসকো জিয়া পরিষদের বিশেষ দোয়া মাহফিল স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে  আলোকচিত্র প্রদর্শনী “ আনটোল্ড” অনুষ্ঠিত আনিনুল হক’কে ঢাকা-১৬ আসন উপহারের ঘোষনা বুলবুল হক মল্লিকে’র বোয়ালমারীতে বিএনপি’র দুই গ্রুপের সংঘর্ষের আশঙ্কা, এলাকাজুড়ে চরম উত্তেজনা
আজ ২৭ মে কুমিল্লা বার্ডের ৬২তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী

আজ ২৭ মে কুমিল্লা বার্ডের ৬২তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী

মোঃ সাইফ উদ্দিন রনী, কুমিল্লা ব্যুরো প্রধানঃ

আজ ২৭ মে পল্লী উন্নয়নে নিয়োজিত জাতীয় প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (বার্ড) কুমিল্লার ৬২তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী। করোনা মহামারির কারনে প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর অনুষ্ঠানমালা সীমিত পরিসনের করা হয়েও পরবর্ত্তীতে নানা কমূসূচির মাধ্যমে পালন করার কথা জানান বার্ড কতৃপক্ষ।
বাংলাদেশে পল্লী উন্নয়নের পথিকৃৎ এই প্রতিষ্ঠানের যাত্রা শুরু হয় আজ থেকে ৬২ বছর আগে ১৯৫৯ সালের ২৭ মে । কুমিল্লা শহর থেকে ১০ কিলোমিটার দূরে কোটবাড়ীতে ১৫৬ একরের সুপরিসর ক্যাম্পাসে এক নয়নাভিরাম প্রাকৃতিক পরিবেশে বার্ড অবস্থিত। একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা প্রধান নির্বাহী বিশ্ববরেণ্য সমাজবিজ্ঞানী ড. আখতার হামিদ খান। ড. খানের গতিশীল ও উদ্ভাবনী নেতৃত্বের ফসল পল্লী উন্নয়নের কুমিল্লা মডেল দেশ-বিদেশে বার্ডের খ্যাতি ও সুনাম বৃদ্ধি করে। বার্ড স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের আওতায় একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান। পল্লী উন্নয়নের ক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে বার্ড ১৯৮৬ সালে স্বাধীনতা পুরস্কার লাভ করে। বার্ড গবেষণা ও প্রায়োগিক গবেষণার মাধ্যমে জাতিকে অনেকগুলো উদ্ভাবনী কর্মসূচি মডেল উপহার দিয়েছে। বার্ড এর উদ্ভাবন সমূহের ফসল স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি), বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড (বিআরডিবি), বিএডিসি’র সাথে একীভূত থানা সেচ কর্মসূচি, উপজেলা প্রশাসনের কেন্দ্রবিন্দু উপজেলা কমপ্লেক্স, ক্ষুদ্র কৃষক উন্নয়ন ফাউন্ডেশন (এসএফডিএফ) ও সার্বিক গ্রাম উন্নয়ন কর্মসূচী (সিভিডিপি) এ দেশের পল্লী উন্নয়নে বিপুল অবদান রেখে চলেছে। একুশ শতকের পরিবর্তিত উন্নয়ন প্রেক্ষাপটে এমডিজি, এসডিজি, ভিশন ২০২১, ভিশন ২০৪১ ও সরকারের পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনাসমূহ বার্ডের সার্বিক কার্যক্রমে নতুন নতুন মাত্রা যুক্ত করেছে। উন্নয়নের অনুকূল সরকারের নীতি, কৌশল ও সহায়তার ফলে ২০০৯-২০২১ সময়ে বার্ড-এর পল্লী উন্নয়ন কার্যক্রম আরও বেগবান হয়েছে ও বাংলাদেশের হত-দরিদ্র মানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে দৃশ্যযোগ্য অবদান রেখেছে।

একাডেমি পল্লী উন্নয়নের সাথে সম্পৃক্ত সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহের কর্মকর্তা-কর্মচারী, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি, গ্রামীণ নেতৃবৃন্দ এবং তৃণমূল পর্যায়ে উন্নয়নমূলক কাজে নিয়োজিত ব্যক্তিদের প্রশিক্ষণ দেয়া। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে এ পর্যন্ত ২৯৯০টি প্রশিক্ষণ কোর্স, সেমিনার, কর্মশালা ও অবহিতকরণ কর্মসূচিতে ৩ লক্ষ ১০হাজার ২শ দেশী-বিদেশী প্রশিক্ষণার্থী অংশগ্রহণ করেন। এছাড়াও এশিয়ার বিভিন্ন দেশ, সার্কভুক্ত দেশ, আফ্রিকান দেশসমূহ এবং কমনওয়েলথভুক্ত বিভিন্ন দেশ থেকে বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিবর্গ একাডেমির প্রশিক্ষণে নিয়মিতভাবে অংশগ্রহণ করেন । প্রশিক্ষণের মাধ্যমে স্থানীয় সরকার বিশেষ করে উপজেলা পরিষদ ও ইউনিয়ন পরিষদের সক্ষমতা বৃদ্ধির ফলে এ দু’টি প্রতিষ্ঠান স্থানীয় উন্নয়নে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখছে। প্রশিক্ষিত মানবসম্পদ গ্রামীণ এলাকায় আত্ম-কর্মসংস্থান, নারীর ক্ষমতায়ন, উৎপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে খাদ্য নিরাপত্তা অর্জন, পরিবেশ উন্নয়ন ইত্যাদি ক্ষেত্রে অধিকতর অবদান রাখতে সক্ষম হয়েছে।

বার্ড সূচনালগ্ন থেকেই পল্লী দারিদ্র্য বিমোচন ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে গবেষণা পরিচালনা করে আসছে। গ্রামীণ জীবনে বিদ্যমান সমস্যা চিহ্নিতকরণ ও কার্যকর সমাধানের উপায় উদ্ভাবনই বার্ডের গবেষণার মূল লক্ষ্য। বার্ডের গবেষণার ফলাফল সরকারের নীতি নির্ধারণী পর্যায়ে সহায়তা প্রদান করে থাকে। এছাড়া বার্ডের গবেষণা ফলাফলের উপর ভিত্তি করে পরবর্তীতে প্রায়োগিক গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার আলোকে বার্ড অতীতে যেমন গবেষণা পরিচালনা করেছে তেমনিভাবে জাতিসংঘ কর্তৃক গৃহীত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা, বর্তমান সরকারের রূপকল্প ২০২১, ৮ম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা, ভিশন ২০৪১ এবং সরকারের প্রাধিকারভুক্ত বিষয়ের আলোকে পল্লী উন্নয়ন তথা জাতীয় উন্নয়নকে টেকসই করতে বার্ড গবেষণা পরিচালনা করছে। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে মে, ২০২১ পর্যন্ত বার্ড মোট ৭০৮টি গবেষণা সম্পন্ন করেছে। একাডেমির গবেষণার মূল বিষয়সমূহ হচ্ছে- টেকসই উন্নয়ন, পল্লী প্রশাসন ও স্থানীয় সরকার, দারিদ্র বিমোচন, জলবায়ু পরিবর্তন ও অভিযোজন, গ্রামীন অর্থনীতি, ব্যবসা ব্যবস্থাপনা, আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক শিক্ষা, জেন্ডার উন্নয়ন, স্বাস্থ্য ও পুষ্টি, কৃষি ও পরিবেশ উন্নয়ন, সমাজ পরিবর্তন ও জনমিতি, পল্লী প্রতিষ্ঠান, সামাজিক মনোবিজ্ঞান, সুশাসন এবং উন্নয়ন যোগাযোগ। বার্ড প্রতি বছর ২০টি গবেষণা পরিচালনা করে থাকে।
প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই বার্ড প্রায়োগিক গবেষণা কার্যক্রম বাস্তবায়ন করে আসছে এবং প্রায়োগিক গবেষণালব্ধ ফলাফলের আলোকে সরকারকে গুরুত্বপূর্ণ সিদান্তে সহায়তা প্রদান করছে। ষাটের দশকে বার্ড গবেষণা চালিয়ে গ্রামে বিরাজিত সমস্যাসমূহকে চিহ্নিত করে এবং চিহ্নিত সমস্যাসমূহ সমাধানের জন্য অগ্রাধিকার নির্ণয় করে। তারপর নিরন্তর পরীক্ষা নিরীক্ষার মাধ্যমে বার্ড পল্লী উন্নয়নের বেশ কয়েকটি সফল মডেল উদ্ভাবন করে যেগুলো সমন্বিতভাবে ‘কুমিল্লা মডেল’ নামে বিশ্বখ্যাতি অর্জন করে। বার্ডের সফল প্রায়োগিক গবেষণার অভিজ্ঞতার আলোকে গ্রামের উন্নয়ন পরিকল্পনা ও সেবা প্রদানে গ্রামের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে একত্র করে সমন্বিত উন্নয়নের জন্য সার্বিক গ্রাম উন্নয়ন কর্মসূচী (সিভিডিপি) এবং বাংলাদেশে প্রথম জামানত বিহীন ক্ষুদ্র ঋণের মডেল হিসেবে ক্ষুদ্র কৃষক ও ভূমিহীন শ্রমিকদের উন্নয়নের জন্য ক্ষুদ্র কৃষক উন্নয়ন ফাউন্ডেশন বর্তমানে দেশব্যাপী কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। প্রায়োগিক গবেষণার মাধ্যমে প্রাপ্ত জ্ঞান ও অর্জিত অভিজ্ঞতা প্রশিক্ষণার্থীদের মাঝে বিতরণের ফলে বার্ডের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম অত্যন্ত ফলপ্রসু হয়। গ্রামে নাগরিক সুবিধা প্রদানের জন্য বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রাধিকারভুক্ত কর্মসূচি ‘আমার গ্রাম আমার শহর’ বাস্তবায়নে বার্ড সরকারের সাথে যৌথভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এ লক্ষ্যে বার্ডের রাজস্বভুক্ত প্রকল্প “গ্রাম সংগঠন ও ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে পল্লীর জনগণের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন”-এর মাধ্যমে আমার গ্রাম আমার শহর’ বাস্তবায়নের জন্য ওয়ার্ডভিত্তিক পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়েছে।

পল্লী উন্নয়নের বিভিন্ন ক্ষেত্রে এ পর্যন্ত ৭৩টি প্রায়োগিক গবেষণা বাস্তবায়ন করেছে। বর্তমানে বার্ড জিওবি অর্থায়নে এডিপিভুক্ত “আমার বাড়ি আমার খামার প্রকল্প (বার্ড অংশ) সমন্বিত কৃষি কর্মকান্ডের মাধ্যমে কুমিল্লা জেলার লালমাই-ময়নামতি পাহাড়ী এলাকার জনগণের জীবন-জীবিকার মানোন্নয়ন, বার্ডের ভৌত সুবিধাদি উন্নয়ন, সার্বিক গ্রাম উন্নয়ন কর্মসূচি (৩য় পর্যায়) এবং বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন একাডেমি আধুনিকায়ন বিষয়ক ৪টি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। এ ছাড়াও বার্ড রাজস্ব বাজেটের আওতায় মহিলা শিক্ষা, আয় ও পুষ্টি উন্নয়ন (মশিআপুউ), পল্লী এলাকায় উন্নত সেবা সরবরাহে ই-পরিষদ, বার্ড প্রদর্শনী দুগ্ধ, ছাগল ও পোল্ট্রি খামার, গ্রাম সংগঠন ও ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে পল্লীর জনগণের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন, কৃষি যান্ত্রিকীকরণ ও যৌথ খামার ব্যবস্থাপনা, কমিউনিটি এন্টারপ্রাইজের মাধ্যমে প্লাবন ভূমিতে মৎস্য চাষ ও নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন, অভিযোজন পদ্ধতিতে চরাঞ্চলের মানুষের জীবিকার মানোন্নয়ন, ইনকিউবেটরের মাধ্যমে গ্রামীণ পোল্ট্রি শিল্পের উন্নয়ন ও মহিলাদের আয় বৃদ্ধিমূলক কর্মকান্ডে অংশগ্রহণ, মাশরুম উন্নয়ন ও চাষ, বার্ড ক্যাম্পাসে ট্রাইকো-কম্পোস্ট উৎপাদন ও গবেষণা প্রদর্শনী, বার্ড প্লান্ট মিউজিয়াম, বার্ড প্রদর্শনী মৎস্য খামার, বছরব্যাপী নিরাপদ সবজি উৎপাদন; এবং কওমী মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের বৃত্তিমূলক ও দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ প্রদান ও কর্মসংস্থান সৃজন শীর্ষক প্রকল্পসহ মোট ১৪টি প্রায়োগিক গবেষণা বাস্তবায়ন করছে।
বর্তমানে বার্ড কর্তৃক বাস্তবায়িত গুরুত্বপূর্ণ ২টি প্রায়োগিক গবেষণাঃ লালমাই-ময়নামতি প্রকল্পের মাধ্যমে সমন্বিত কৃষি কার্যক্রম। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাঁর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার জন্য যে সমতাধর্মী সমবায়ী গ্রামের স্বপ্ন দেখেছিলেন, সে আলোকে আমার বাড়ি আমার খামার প্রকল্পের অংশ হিসেবে বার্ড সমন্বিত কৃষি কর্মকান্ডের মাধ্যমে কুমিল্লা জেলার লালমাই ময়নামতি পাহাড়ি এলাকার জনগণের জীবন-জীবিকার মানোন্নয়নে একটি প্রকল্প (লালমাই ময়নামতি প্রকল্প) বাস্তবায়ন করছে। দেশের উন্নয়ন পরিকল্পনার সাথে সামঞ্জস্য রেখে বার্ড সূচনালগ্ন থেকেই কৃষি যান্ত্রিকীকরণের বিভিন্ন সফল কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেছে এবং বাংলাদেশের সবুজ বিপ্লব সংঘটনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে। বর্তমান প্রকল্পটিও উন্নত কৃষি প্রযুক্তি ও চাষাবাদ পদ্ধতি সম্প্রসারণ এবং পাশাপাশি প্রকল্পের উপকরণ সহায়তা প্রদানের মাধ্যমে বহুমুখী কৃষি কার্যক্রম করছে।
কৃষি যান্ত্রিকীকরণ ও যৌথ খামার ব্যবস্থাপনাঃ সম্প্রতি বার্ড কমিউনিটিভিত্তিক এন্টারপ্রাইজ গঠনের মাধ্যমে বৃহদাকার জমিতে যান্ত্রিক পদ্ধতিতে কৃষিকাজের মডেল উদ্ভাবনের লক্ষ্যে “কৃষি যান্ত্রিকীকরণ ও যৌথ খামার ব্যবস্থাপনা” শীর্ষক একটি সফল প্রায়োগিক গবেষণা প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে। প্রকল্প এলাকার ৪২ একর ফসলী জমির মালিকদের সমন্বয়ে একটি সমাজভিত্তিক (কম্যুনিটি বেজ্ড) এন্টারপ্রাইজ গঠন করা হয়েছে যাতে ১০ সদস্যবিশিষ্ট একটি ব্যবস্থাপনা কমিটি রয়েছে। ৬৮ জন জমির মালিকের মোট ১৪১টি খন্ড খন্ড প্লট ডিজিটাল ভূমি জরিপের মাধ্যমে আইল উঠিয়ে দিয়ে বৃহদাকার ৮টি ব্লকে বিভক্ত করা হয়েছে। উক্ত জমিতে ২০১৯-২০২০ অর্থবছরের বোরো মৌসুমে একই জাতের ধান (ব্রি ধান-৭৪) রাইস ট্রান্সপ্লান্টারের মাধ্যমে রোপণ করে চাষ করা হয়েছে। বার্ড, উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিস এবং স্থানীয় উপজেলা প্রশাসন প্রকল্পের সার্বিক কার্যক্রম মনিটরিং ও কারিগরি সহায়তা প্রদান করেছে। কমিউনিটিভিত্তিক যন্ত্রনির্ভর চাষাবাদ পদ্ধতিতে এক একর জমিতে প্রতি মণ ধান উৎপাদনে খরচ ৪৮৭ টাকা যা প্রচলিত শ্রমিক নির্ভর চাষাবাদের (৭১৭ টাকা) তুলনায় মণ প্রতি ২৩০ টাকা কম। এর ফলে বাণিজ্যিক কৃষি ব্যবস্থার সূচনা হয়েছে এবং যান্ত্রিক কৃষি ব্যবস্থা জনপ্রিয়তা লাভ করেছে এবং কৃষকদের নেতৃত্বের বিকাশ, সিদ্ধান্ত গ্রহণ ক্ষমতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়েছে।
বর্তমান সরকারের ক্ষমতায় আসার পর থেকে (২০০৯-২০২০) বার্ড সরকারী ও উন্নয়ন/গবেষণা সহযোগী সংস্থার সাথে সহযোগিতার মাধ্যমে যথাক্রমে ২৮টি প্রায়োগিক গবেষণা পরিচালনা করেছে, যার মধ্যে বর্তমানে ৩টি প্রকল্প এবং ১৩টি প্রায়োগিক গবেষণা কার্যক্রম চলমান রয়েছে। ২০০৯ সাল থেকে জুন ২০২০ পর্যন্ত গ্রামের জনগণের দারিদ্র্য হ্রাসকরণ ও পল্লী উন্নয়নের জন্য সর্বমোট ৬৭ কোটি ৯৭ লক্ষ টাকা ঋণ বিতরণ করেছে। যার মাধ্যমে ৪৩ হাজার ১১৭ জন নারী ও ২৩হাজার ২০৯ জন পুরুষসহ মোট ৬৬ হাজার ৩২৬ জনের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। এই কর্মসংস্থানের ফলে ৩ লক্ষ ৩২হাজার ৯৫৮ জন দারিদ্র্য সীমার উপর উঠে এসেছে।

বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন একাডেমি কুমিল্লার মহাপরিচালক মোঃ শাহজান বলেন, একটি জাতীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন একাডেমি নিজের দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন। সময়ের পরিবর্তনের সাথে সাথে গ্রামের আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপটও পরিবর্তন হচ্ছে। বার্ড সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে জাতীয় আশা আকাঙ্খার প্রতিফলন ঘটাতে সব সময় স্বচেষ্ট এবং পল্লী উন্নয়নের চাহিদার নিরিখে নতুন নতুন উন্নয়ন কৌশল উদ্ভাবনে সর্বদা নিয়োজিত। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক তথা বিশ্বায়নের প্রেক্ষাপটে দ্রুত ইতিবাচক সমাজ পরিবর্তনের ব্যাপারে বার্ড সম্পূর্ণ সচেতন। বার্ড বিশ্বাস করে পল্লী উন্নয়ন কোনো খন্ডিত বিষয় নয় বরং টেকসই উন্নয়ন, সত্যিকার জন সম্পৃক্তি ও উন্নয়নের প্রাতিষ্ঠানিকীকরণের মাধ্যমেই সামগ্রিক পল্লী উন্নয়ন সম্ভব।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




©বাংলাদেশবুলেটিন২৪
Design & Developed BY ThemesBazar.Com