মো: রহমাতুল্লাহ (পলাশ):
বরিশালের হিজলা উপজেলায় পল্লী বিদ্যুৎ বিল প্রায় ২৬০০০ হাজার বকেয়া থাকায় বিনা নোটিশ ও সময় না দিয়ে খামারের বিদ্যুৎতিক লাইন কর্তন করায় প্রায় ৩শত টি মুরগী মারা যাওয়ার প্রতিবোদে পুনরায় বিদ্যুৎ সংযোগ ও ক্ষতিপূরণ চেয়ে (২৪ মে সোমবার) বিকাল ৫ টায় কাউরিয়া বাজরে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করে পোল্ট্রি মুরগির খামার ব্যবসায়ীরা।
হাফেজ আবু হানিফের স্বপ্ন ধ্বংস করলো পল্লী বিদ্যুৎ অফিস। বরিশালের হিজলা উপজেলাধীন মাউলতলা স্কুলের কাছে নিজ বাড়িতে দেশের বেকারত্বদুর করার জন্য একটি পোল্ট্রি মুরগির খামার গড়ে তোলেন। মহামারি করোনা ভাইরাস ও দুর্যোগের কারনে কিছু দিন পুর্বে মুরগি মারা যাওয়ায় আর্থিক ভাবে দুর্বল হয়ে পরেন হাফেজ আবু হানিফ। তার পরও পোল্টি মুরগির খামার বন্ধ করেন নি তিনি।
হাফেজ আবু হানিফ বলেন, আর্থিক ভাবে দুর্বল হওয়ায় পল্লী বিদ্যুৎ বিল প্রায় ২৬০০০ হাজার বকেয়া ছিল, আমি বলেছি স্যার আমার কিছিু দিন আগে ৫-৬ লক্ষ টাকার মুরগি মারা যাওয়ায় আর্থিক ভাবে দুর্বল হয়েছি ,আমার মুরগির খামারে ১০০০ মুরগী রয়েছে। ৭-৮ দিন পরে মুরগি বিক্রয় করে আপনাদের সম্পুর্ন টাকা পরিষোধ করে দিব , এখন আমার কছে টাকা নাই।
আবু হানিফ আরো বলেন, আমার মুরগির খামারে ১০০০ মুরগী রয়েছে। আমি দুপুর বেলা মুরগিকে খাবার দিয়ে নামাজে যাই, নামাজ শেষে খামারে এসে দেখি ফ্যান চলেনা – অন্য বাসায় বিদ্যুৎ আছে, কিন্তু আমার লাইন কাটা। খামারের মুরগী গুলো এক এক করে প্রায় ৩০০ মারা গেছে, এখন ও থেমে নেই। অত:পর পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে জানালে তারা বলে আগে টাকা নিয়ে আসেন তারপরে লাইন লাগিয়ে দিব। যেহেতু তারা আমার এত বড় ক্ষতি করেছে , আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আকুল আবেদেন জানাই যে, দেশের বেকারত্বদুর করা ও আর্থিক সফল করার জন্য পোল্ট্রি মুরগি দিয়েছে এবং পল্লী বিদ্যুৎ যে আমার ক্ষতি করেছে তার ক্ষতিপূরণ ও পুনরায় বিদ্যুৎ সংযোগ পাওয়ার সুদৃষ্টি কামনা করি।
বুলবুল দাস বলেন, বাংলাদেশে শিল্প কারখানার পরের শিল্প ব্যবসা হচ্ছে পোল্ট্রি মুরগির ব্যবসা। দেশের বেকারত্ব দুর করার জন্য বাংলাদেশে লক্ষ লক্ষ শ্রমিক কাজ করে দেশের উন্নয়নের জন্য এবং মাংসের চাহিদা পুরনের জন্য। কিন্তু কোন নোটশ অথবা সময় না দিয়ে কিছু বয়েয়া বিলের জন্য খামারের বিদ্যুৎতিক লাইন কর্তন করায় যে ক্ষতি হয়েছে তার ক্ষতিপূরণ দাবী করেন। সাথে সাথে তিব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান তিনি।
এডভোকেট আমিনুল ইসলাম জানান, বাংলাদেশকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নেয়ার জন্য উদ্যোক্তা হিসেবে কাজ করে পোল্ট্রি শিল্প ব্যবসায়ীরা সেখানে লক্ষ লক্ষ শ্রমিক কাজ করে দেশের বেকারত্বদুর হচ্ছে। হাফেজ আবু হানিফ তার পরিবার নিয়ে দুমুঠো খাবার খাবেন এবং এলাকার মাংসের চাহিদা মেটানের জন্য মুরগির খামার দিয়ে ছিলেন, কিন্তু পল্লী বিদ্যুৎ অফিস সময় না দিয়ে বিদ্যুৎতিক লাইন কর্তন করায় খামারটি ধ্বংস করে দিয়েছে। তাই খামারে যে ক্ষতি হয়েছে তার ক্ষতিপূরণ দাবী করছি। যদি দুই দিনের মধ্যে ক্ষতিপূরণ দেয়া না হয় ,তাহলে আমরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর স্বারকলিপি পেশ করবো।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন, কাজী মো: দেলোয়ার, স্বপন সরদার, মো: কাদের সরদার, জাকির সরদার,শহিদ সরদার, রুবেল চৌধুরী এবং হিজলা উপজেলার পোল্ট্রি মুরগির খামার ব্যবসায়ীরা, সাংবাদিকবৃন্দ সহ বিভিন্ন পেশার মানুষ।
Leave a Reply