মোঃ সাইফ উদ্দিন রনী, কুমিল্লা ব্যুরো প্রধান:
চিকিৎসা করাতে গিয়ে করোনা পরিস্থিতিতে ভারতে আটকে পড়া বাংলাদেশিদের ফেরা অব্যাহত রয়েছে। গত কয়েকদিনে দিনে ভারত ফেরত ২০৬ জন বাংলাদেশি নাগরিককে কুমিল্লার বিভিন্ন হোটেলে কোয়ারান্টাইনে রাখা হয়েছে।
ভারত থেকে ফেরত আসা বাংলাদেশী ২০৬ জন নাগরিককে কুমিল্লা হাসপাতালসহ ১০ টি আবাসিক হোটেলে কোয়ারান্টিনে রাখা হয়েছে। নেওয়া হয়েছে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের জন্য সকল প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা।
জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, ভারত থেকে ফেরত আসা বাংলাদেশি নাগরিকদের হাসপাতালসহ কুমিল্লা নগরীর ১০ টি আবাসিক হোটেলে রাখা হয়েছে। তাদের নিরাপত্তার জন্য প্রতিটি হোটেলে পুলিশ পাহাড়া বসানো হয়েছে। গত কয়েকেদিনে ভারত ফেরত আসাদের মধ্যে হোটেল টোকিওতে ৪৭ জন, হোটেল জমজমে ৫০ জন, মঃ বাগিচাগাঁয়ে ২০ জন, মেডিকেল কোয়ারেন্টাইনে ১৩ জন, মঃ শাসনগাছা ২ জন, আল ফালাহ ২০ জন, রেড রোফ ইন ১৯ জন, হোটেল ভিক্টোরিতে ১৫ জন, আলেখার চর হোটেলে ২২ জনকে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। ২২ মে শনিবার বিকেলে কুমিল্লা জেলা প্রশাসনের সহকারি কমিশনার নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
কুমিল্লা সিভিল সার্জন অফিস সূত্র জানান, ভারত থেকে আসাদের কঠোর স্বাস্থ্যবিধিতে রাখা হয়েছে। তাদের শরীরে করোনার ভারতীয় ধরন আছে কিনা পরীক্ষা করা হবে।
হোটেল ময়নামতিতে অবস্থানকারী সিলেটের বিয়ানীবাজারে সোহেল জানান, গত ডিসেম্বরে শ্যালকের চিকিৎসার জন্য ভারতের চেন্নাই গিয়েছিলেন রোগীর সরকারি হিসেবে। চিকিৎসা শেষ হয়ে গেল ভারতের করোনা পরিস্থিতি মহামারী আকার ধারণ করায় দেশে ফিরতে পারছিলেন না। টানা চারবার করোনা টেস্ট নেগেটিভ রিপোর্ট আসার পর গত বুধবার সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেন। এখন তিনি ১৪ দিনের কোয়ারেন্টাইনে থাকবেন।
হোটেল জলজমে থাকা নবীনগরের মিজান জানান, ভারতে গিয়েছিলেন চিকিৎসা করানোর জন্য। চিকিৎসা শেষ হলেও তিনি দেশে আসতে পারেননি মহামারী করোনা আটকা পড়েন। নানা পরীক্ষার পর ভারত সরকার অনুমতি দিলে বাংলাদেশে আসতে পেরেছেন। বর্তমানের ১৪ দিনের কোয়ারেন্টাইন আছেন।
হোটেল জমজমের ব্যবস্থাপক রাসেল আহম্মেদ জানান, তাদের হোটেলে ৩৪ জন পুরুষ, ৩ জন শিশু ও ১৩ জন মহিলা ভারত ফেরত বাংলাদেশি নাগরিক রয়েছেন। তাদের সব ধরনের সহযোগিতা করা হচ্ছে। ভারত থেকে আসা বাংলাদেশিরা যে হোটেলে হোটেলগুলোতে অবস্থান করছেন সেখানে পুলিশ রাখা হয়েছে।
কুমিল্লা সিভিল সার্জন মীর মোবারক হোসেন জানান, ভারত ফেরত সবাই কুমিল্লাতে ভারত থেকে করোনা রিপোর্ট নিয়ে এসেছেন। করোনা ভাইরাসের যে ডাবল মিডট্যান্ট ভ্যারিয়োন্ট এর অস্তিত্ব আছে কিনা পরিক্ষা করে দেখা হবে। কারো কোন সমস্যা না হলে ১৪ দিনের পর বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়া হবে।
কুমিল্লা জেলা প্রশাসন কামরুল হাসান জানান, ভারত থেকে আসা কুমিল্লার বিভিন্ন হোটেলে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা করা হচ্ছে। তাদের নিরাপত্তার কথা ভেবে প্রতিটি হোটেলের সামনে পুলিশ পাহারা বসানো হয়েছে।
Leave a Reply