মোঃ সাইফ উদ্দিন রনী, কুমিল্লা ব্যুরো প্রধান:
কুমিল্লা রপ্তানি প্রক্রিয়াকরন এলাকা (কুমিল্লা ইপিজেড) এর বর্জ্যের দূষিত পানি ফসলি জমি নষ্ট করছেন দীর্ঘদিন এমন অভিযোগ করে আসছেন স্থানীয় কৃষকগন। সবসময় বর্জ্যে দূষিত পানি পরিশোধনাগার করে ছাড়া হয় না এমন অভিযোগও রয়েছে। ইপিজেড কতৃপক্ষ কেন্দ্রীয় তরল বর্জ্য পরিশোধনাগারসহ নানা পদক্ষেপ গ্রহন করার কথা জানান। তারই পেক্ষিতে গঠন করা হয় একটি মনিটরিং কমিটি।
কুমিল্লা ইপিজেড কতৃপক্ষ জানান, কুমিল্লা ইপিজেডের যে সব বর্জ্য দূষিত পানি আছে সেগুলো পরিশোধন না হয়ে বের হলে তাহলে কৃষি জমি, কৃষক ও পরিবেশের মারাত্বক ক্ষতি হবার সম্ভবনা রয়েছে। এক্ষেত্রে ইপিজেডের যত রকম বর্জ্য পানি রয়েছে সবগুলো সংগ্রহ করে বর্জ্য ও দূষিত পানিগুলোকে পরিশোধন করে ব্যবহার উপযোগী করা হচ্ছে। এতে শুধু পানি শোধনই হচ্ছে না পাশাপাশি পানি থেকে যে সব ময়লা আলাদা করে সেসব ময়লা শুকিয়ে জৈব সার তৈরি করা হচ্ছে।
স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের দাবীর পেক্ষিতে ১৯ এপ্রিল কুমিল্লা ইপিজেডের ইকোটেক লিমিটেড এর কেন্দ্রীয় তরল বর্জ্য পরিশোধনাগার পরিদর্শন ও কর্তৃপক্ষের সাথে মতবিনিময় করেন কুমিল্লা সদর আসনের সংসদ সদস্য ও মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা হাজী আ.ক.ম বাহাউদ্দিন বাহার। এসময় কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মোঃ মনিরুল হক সাক্কু, কুমিল্লা ইপিজেডের জিএম মোঃ জিল্লুর রহমান,সিগমা ইকোটেক লিমিটেডের পরিচালক অবঃ ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মির্জা, কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী প্রকৌশলী মীর শওকত, সদর দক্ষিণ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শ্রী শুভাশিষ ঘোষসহ অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
মতবিনিময় শেষে কুমিল্লা ইপিজেডের কেন্দ্রীয় তরল বর্জ্য পরিশোধনাগার পরিদর্শন ও সঠিকভাবে পরিচালনার জন্য একটি মনিটরিং কমিটি গঠন করা হয়েছে। এতে কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের নির্বাহী, উপনির্বাহীসহ ৪ জন অর্ন্তভূক্ত করা হয়েছে।
কুমিল্লা ইপিজেডের ইকোটেক লিমিটেড এর কেন্দ্রীয় তরল বর্জ্য পরিশোধনাগার পরিদর্শন ও কর্তৃপক্ষের সাথে মতবিনিময় পরিদর্শন কালে কুমিল্লা সদর আসনের সাংসদ হাজী আকম বাহাউদ্দীন বাহার বলেন, ইপিজেড এর বর্জ্য নিয়ে বেশ কিছুদিন বিভিন্ন সমস্যার কথা শুনছি। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি হিসেবে বিষয়টি নিয়ে আমি ইপিজেড পরিদর্শনে আসি। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ইপিজেডের বর্জ্য ও দূষিত পানির যে সমস্যা আছে তা খুব শীঘ্রই সমাধান করা হবে। ইপিজেডের পাশে যে খালটি রয়েছে তা সংস্কার করা হবে। এছাড়াও ইপিজেড ও সিটি কর্পোরেশেনের যে বর্জ্য ও দূষিত পানি রয়েছে তা সমাধানের জন্য প্রকল্প করা হবে।
কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মনিরুল হক সাক্কু জানান, কুমিল্লা ইপিজেডের বর্জ্যর বিষাক্ত পানি সবসময় তারা পরিশোধন করে না। ফলে আমাদের সিটি কর্পোরেশন এলাকায় যে খাল দিয়ে তাদের বিষাক্ত পানি যায় তাতে কৃষকদের জমিসহ পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। তারই পেক্ষিতে হাজী আকম বাহাউদ্দিন বাহার এমপিসহ আমরা বর্জ্য পরিশোধনাগার পরিদর্শন ও কর্তৃপক্ষের সাথে মতবিনিময় করি। মতবিনিময় শেষে একটি মনিটরিং কমিটি গঠন করা হয়েছে। তাতে আমাদের সিটি কর্পোরেশনের ৪ জনকে সদস্য করা হয়েছে। আমরা যে কোন সময় ইপিজেড এর বর্জ্য পরিশোধনাগার সঠিকভাবে চলছে কিনা তা পরিদর্শন করতে পারব। তাছাতা ইপিজেড এর কোন ফ্যাক্টরি যদি অবৈধ সংযোগ দিয়ে পানি বের করে তা আমরা সনাক্ত করে ব্যবস্থা নিব। তাছাড়া কুমিল্লা ইপিজেড এর বর্জ্য অপসারনে কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন সহযোগিতা করবে।
এ ব্যাপার কুমিল্লা ইপিজেডের জিএম মোঃ জিল্লুর রহমান জানান, ইপিজেডের বর্জ্য ও দূষিত পানি সাধারণ মানুষের জন্য যেন ক্ষতির কারণ না হয় বিষয়টি নিয়ে কুমিল্লা সদর আসনের সাংসদ বীরমুক্তিযোদ্ধা আ.ক.ম বাহাউদ্দিন বাহার ইপিজেডের প্লান্ট পরিদর্শন করেন। এক্ষেত্রে সিটি কর্পোরেশন মেয়ের মনিরুল হক সাক্ককুর সাথেও কথা হয়েছে তিনি সহযোগিতা করবেন বলে জানিয়েছেন, আশা করি অদূর ভবিষ্যতে আর কোন সমস্যা হবে না।
কুমিল্লা ইপিজেডের সিগমা ইকোটেক লিমিটেডের টেকনোলজি পার্টনার তামজিদ রহমান জানান, বর্জ্যও পানি যাতে কারো ক্ষতি না করে বরং কারো ব্যবহার যোগ্য হয় হয়, তারা যেন এ পানি চাষাবাদের কাজে লাগাত পারে, বর্জ্য দিয়ে জৈব সার তৈরী করে স্থানীয় কৃষকদের মাঝে দেওয়া যায় তার জন্য এ কাজে বিশ্বের সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে ।
Leave a Reply