কুমিল্লা ব্যুরো:
কুমিল্লা ইপিজেডের চায়নিজ জুতা কোম্পানি সিং সাং এর মানবসম্পদ কর্মকর্তা খায়রুল বাশার সুমন হত্যাকান্ডের ঘটনায় আরো দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে ডিবি পুলিশ। এদিকে সকল আসামীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনার দাবীতে কুমিল্লায় মানববন্ধন করেছে বিভিন্ন সংগঠন।
৯ মে রোববার ভোরে কুমিল্লার ভারতীয় সীমান্তবর্তী গোলাবাড়ি এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা গোয়েন্দা কর্মকর্তা শাহিন কাদির জানান, মূল হত্যাকান্ডে যে কয়জন অংশ নিয়েছে তাদের মধ্যে ফাহিম ও আল-আমিন অন্যতম। ফাহিম দক্ষিণ চর্থার মৃত হাবিবুর রহমানের ছেলে, গ্রামের বাড়ি দেবিদ্বার উপজেলায়। আল-আমিন নগরীর গোবিন্দপুর এলাকার জহিরুল ইসলামের ছেলে। তাদেরকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
পুলিশ জানায়, এর আগে গত শুক্রবার সুমনকে ছুরিকাঘাত করা মহিউদ্দিন নামে আরো একজনকে গ্রেপ্তার করে র্যাব। সেও দক্ষিণ চর্থা এলাকার আবদুল হকের ছেলে। এ মামলায় মোট ৩ জন আসামীকে গ্রেফতার করা হয়। কোম্পানি থেকে চাকরিচ্যুতির ঘটনাকে কেন্দ্র করে সুমনকে খুন করা হয় বলে প্রাথমিক ভাবে নিশ্চিত করেছে র্যাব ও পুলিশ।
এদিকে রোববার সকালে কুমিল্লা নগরীর প্রেসক্লাবের সামনে খায়রুল বাশার সুমনকে হত্যাকারী সকলকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনার দাবীতে স্বজন কল্যান সংঘ, কুমিল্লা, ফেন্ডস অব কুমিল্লা ২০২১ ব্যাচ, মদিনা ফাউন্ডেশন, কুমিল্লা পূর্বাঞ্চল এর ব্যানাবে মানবন্ধন করেছে তার সহপাঠী বন্ধু ও স্বজনরা।
মানব বন্ধনে বক্তব্য রাখেন স্বজন কল্যান সংঘের সাধারন সম্পাদক ডাঃ মজিবুর রহমান, ডাঃ আব্দুস সাত্তার, মদিনা ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান এসআই টিপু, ফেন্ডস অব কুমিল্লা ২০২১ ব্যাচ এর বাসদ নেতা নাসির উদ্দিন, প্রভাষক জহিরুল ইসলাম ভূইয়া, আমরা কুমিল্লার সন্তানের সভাপতি আব্দুল হান্নান, সাংবাদিক ফারুক আযমসহ অন্যান্যরা।
মানববন্ধনে অংশ গ্রহনকারীরা এই মামলায় অপরাপর আসামীদের দ্রুত সময়ে গ্রেপ্তার করে বিচার ও শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান।
উল্লেখ্য, কুমিল্লা ইপিজেড এর সিং সাং সু বিডি লিমিটেড এর কিছু শ্রমিককে বিভিন্ন অপরাধ কর্মকান্ডের সাথে জড়িত থাকার কারনে কোম্পানি কতৃপক্ষ চাকুরি করে। এতে চাকুরী চাকুরিচ্যুত শ্রমিকগন ক্ষোভের কারনে কুমিল্লা ইপিজেড এর মানবসম্পদ কর্মকর্তা খায়রুল বাশার সুমনকে গত ৩০ এপ্রিল বিকেলে অফিস শেষে বাসায় ফেরার পথে ইপিজেট ১নং গেইট হালুয়া পাড়া বার্জার ডিপোর সামনে খুন করে দুবৃত্তরা। এ ঘটনায় নিহতের ছোট ভাই খায়রুল আনাম রোমেল বাদী হয়ে কুমিল্লা সদর দক্ষিন থানায় অজ্ঞাতনামা ২ জনসহ ৪ জনের নামে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
এ ব্যাপারে মামলার বাদী খায়রুল আনানম রোমন জানান, এ হত্যা কান্ডের সাথে ৭/৮ জনের একটি সংঘবদ্ধ চক্র পরিকল্পিতিভাবে আমার ভাইকে হত্যা করেছে। আমরা তাৎক্ষনিকভাবে সিসি টিভির ফুটেজ দেখে ৪ জনের মধ্যে ২ জনকে সনাক্ত করতে পেরেছি আর ২ জনকে চিনতে না পারায় ২ জনকে আজ্ঞাত করে ৪ জনের নামে মামলা দায়ের করি। এ চক্রের সাথে আরো কয়েকজন জড়িত রয়েছে। আমরা সকল আামীদের দ্রুত গ্রেফতার করে বিচারের আওতায় এনে মৃত্যুদন্ডের দাবী জানাচ্ছি।
কুমিল্লা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আনোয়ারুল আজিম বলেন, মামলাটি ২ দিন আগে ৬ মে বৃহস্পতিবার রাতে আমাদের কাছে আসে। আমরা এ নিয়ে কাজ শুরু করি। ৯ মে রবিবার ভোর রাতে এ মামলার এজহার ভূক্ত ১ জন ও এজহার ছাড়া ১জন আসামীকে গ্রেফতার করি। গ্রেফতারকৃতদের থেকে তথ্য নিয়ে সহসাই বাকি আসামীদের গ্রেফতার করা হবে।
Leave a Reply