সোমবার, ০৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:৫২ অপরাহ্ন

শিরোনাম :
প্রচারেই প্রসার, প্রতিষ্ঠানের জন্য বিজ্ঞাপন দিন, যোগাযোগঃ 01764934214 ঠিকানাঃ ৮৯, কাকরাইল, গ্রীন সিটি এজ, ১১ তলা, ঢাকা-১২১৫, মোবাইল:01764934214, 01716035712 ইমেইল:newsroom@bangladeshbulletin.com
শিরোনাম :
ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে প্রতি শনিবার সারাদেশে পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানোর আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর অমর একুশে বইমেলা ২০২৬ উদ্বোধন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ের পর আজ সংবাদ সম্মেলন করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সহিংসতা ও গুজব বরদাশত করা হবে না: জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচন: ২৯৯ আসনে ভোট, সব প্রস্তুতি শেষ ইসির স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে একটি আধুনিক, বাসযোগ্য ও জনবান্ধব রাজশাহী মহানগর গড়ে তোলা হবে-মিনু খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনায় ডেসকো জিয়া পরিষদের বিশেষ দোয়া মাহফিল স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে  আলোকচিত্র প্রদর্শনী “ আনটোল্ড” অনুষ্ঠিত আনিনুল হক’কে ঢাকা-১৬ আসন উপহারের ঘোষনা বুলবুল হক মল্লিকে’র বোয়ালমারীতে বিএনপি’র দুই গ্রুপের সংঘর্ষের আশঙ্কা, এলাকাজুড়ে চরম উত্তেজনা
যশোরে মিললো করোনার ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট

যশোরে মিললো করোনার ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট

বিল্লাল হোসেন,যশোর প্রতিনিধি:


সব ভয়কে বাস্তবে রুপ দিয়ে যশোরে শনাক্ত হলো করোনার ভারতীয় (ধরন) ভ্যারিয়েন্ট। যশোরে ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ভারত ফেরত ১৬ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ২ জনের শরীরের  কোভিড-১৯ নভেল করোনাভাইরাসের ভারতীয় ভ্যারিয়েন্টের অস্তিত্ব মেলে। এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. আনোয়ার হোসেন জানান, বিষয়টি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, আইইডিসিআর ও যশোর জেলা প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছে। ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট শনাক্তের পর থেকে জেলায় নতুন আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. দিলীপ কুমার রায় জানান, দ্বিতীয় দফায় ভারত ফেরত ১৬ জনের নমুনা পরীক্ষা করে জেনোম সেন্টার কর্তৃপক্ষ ২ জনের শরীরে ভারতীয় ভেরিয়েন্ট পেয়েছেন। এদের ১ জন পুরুষ ও অপরজন নারী।
যবিপ্রবির ভাইস চ্যান্সেলর ও  জিনোম সেন্টারের পরিচালক প্রফেসর ড. আনোয়ার হোসেন জানিয়েছেন, গত ৬ মে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের রেডজোনে চিকিৎসাধীন ১৬ জনের নমুনা পরীক্ষার জন্য ল্যাবে পাঠানো হয়। শুক্রবার রাতে জিনোম সেন্টারের সহযোগী পরিচালক প্রফেসর ড. মো. ইকবাল কবীর জাহিদের নেতৃত্বে একদল গবেষক সিকোয়েন্সির মাধ্যমে ২ জনের শরীরে করোনা ভাইরাসের ভারতীয় এ ভ্যারিয়েন্ট শনাক্ত করেন। এছাড়া আরো ১ জনের পজেটিভ শনাক্ত হলেও তার শরীরে ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট মেলেনি। গবেষণাটির সার্বিক তত্ত্বাবধান করেন ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. আনোয়ার হোসেন।  জিনোম সেন্টারের সহযোগী পরিচালক প্রফেসর ড. মো. ইকবাল কবীর জাহিদ জানান, বি১.৬১৭.২ নামের ধরনটির ২০ শতাংশ মোট ভারতীয়দের মধ্যে বিদ্যামান। এ ছাড়া ভারতীয় এ ধরণটি ৫৯ শতাংশ যুক্তরাজ্যের করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে দেখা গেছে। ভারতীয় এ ধরণটি ২০ শতাংশের বেশি সংক্রমনের সক্ষমতা রাখে। ভ্যাকসিন পরবর্তী ‘সেরাম এবং মনোক্লোনাল অ্যান্টিবডি’ এ ধরণকে কম শনাক্ত ও নিষ্ক্রিয় করতে পারে। এছাড়া ভারত ফেরত সবাইকে পরপর দুইবার করোনা নেগেটিভ না হওয়া পর্যন্ত আইসোলেশনে রেখে পরীক্ষা করার আহ্বান জানানো হয়েছে। তিনি আরও জানান, আক্রান্ত রোগীরা যে সকল ব্যক্তির সংস্পর্শে আসাদের নমুনা পরীক্ষা করা প্রয়োজন। যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. আরিফ আহমেদ জানান, সাংবাদিকদের মাধ্যমে জেনেছি রেডজোনে চিকিৎসাধীন ভারত ফেরত দুই রোগীর শরীরে ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট শনাক্ত হয়েছে। তবে যবিপ্রবির জিনোম সেন্টার থেকে তাকে লিখিতভাবে জানানো হয়নি। হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. দিলীপ কুমার রায় জানান, গত ৮ মে পর্যন্ত রেডজোনে মোট ২৪ জন ভারনত ফেরত করোনায় আক্রান্ত রোগী ভর্তি হন। এদের মধ্যে প্রথম অবস্থায় ১৮ জনের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয় যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) জিনোম সেন্টার ও ঢাকার রোগতত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটে। ৪ মে রাতে নমুনা পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়। যবিপ্রবির অণুজীব বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান ও পরীক্ষণ দলের সদস্য অধ্যাপক ড. ইকবাল কবীর জাহিদ বুধবার (৫ মে) তাকে মুঠোফোনে নিশ্চিত করেছেন পরীক্ষায় কারো শরীরে করোনার ভারতীয় নতুন ধরন পাওয়া যায়নি। ঢাকা থেকেও একই কথা জানানো হয়।  ৬ মে তাদের মধ্যে ১৬ জনের নমুনা সংগ্রহ করে দ্বিতীয় বারের মতো পরীক্ষার জন্য জিনোম সেন্টারে পাঠানো হয়। দ্বিতীয় বারের পরীক্ষায় দুই জনের শরীরে ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট শনাক্ত হয়েছে বলে শনিবার দুপুরে তাকে মুঠোফোনে জানানো হয়েছে। তবে অফিসিয়ালভাবে এখনো কোন চিঠি পাননি। ডা. দিলীপ কুমার রায় আরও জানান, শনাক্ত ২ জনের মধ্যে ১ জন নারী ও অপরজন হলেন পুরুষ। তাদের থেকে নতুন করে ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট ছড়ানোর আশঙ্কা নেই। তারপরেও দুই জনকে আলাদা করে রাখা হয়েছে। নেগেটিভ শনাক্তের ফলাফল না আসা পর্যন্ত তাদের ছাড়পত্র দেয়া হবেনা। ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট শনাক্তদের আমাদের বিশেষজ্ঞ টিম প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। যশোরের সিভিল সার্জন ডা. শেখ আবু শাহীন জানান, হাসপাতালের রেডজোনে চিকিৎসাধীন ২ জনের শরীরে ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট শনাক্ত হয়েছে এমন কোন তথ্য আইইডিসিআর থেকে তাকে জানানো হয়নি। তবে কারো শরীরে ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট পাওয়া গেলে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ব্যাপারে সকলকে আন্তরিক হতে হবে। অন্যথায় ভয়াবহ অবস্থার সৃষ্টি হতে পারে। 
উল্লেখ্য, গত ১৩ দিনে ভারতে আটকা পড়া ১৫শ’ ৭৭ জন বাংলাদেশী বিশেষ অনুমোদন নিয়ে বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন দিয়ে দেশে ফিরেছেন। এরমধ্যে করোনাক্রান্ত ২৪ জন যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের রেডজোনে ভর্তি করানো হয়। এরমধ্যে গত ৬ মে ২ জন ও ৮ মে ৬ জনকে ছাড়পত্র প্রদান করা হয়েছে। যবিপ্রবির জেনোম সেন্টারে নেগেটিভ ফলাফল আসার পর তাদের ছাড়পত্র দেয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।  করোনায় আক্রান্ত ছাড়া বাকিরা যশোর, মাগুরা ও খুলনার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ১৪ দিনের কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




©বাংলাদেশবুলেটিন২৪
Design & Developed BY ThemesBazar.Com