নিজস্ব প্রতিবেদক :
এক সাংবাদিককে শায়েস্তা করতে গিয়ে উল্টো বেকায়দায় পড়েছেন রংপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা। দেশের শীর্ষ সংবাদভিত্তিক টিভি চ্যানেল সময় টেলিভিশনের রংপুরের ব্যুরো প্রধান রতন সরকারের ফেসবুক দেয়ালের একটি স্ট্যাটাসের প্রেক্ষিতে তার বিরুদ্ধে ডিজিটাল সিকিউরিটি আইনে মামলা করে ঘরে-বাইরে তীব্র সমালোচনায় পড়েছেন মেয়র।
মামলা দায়ের পর থেকে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মেয়রের উষ্কানীমূলক বক্তব্যে তার ক্যাডার বাহিনীর শতাধিক মোটরসাইকেলে মহড়া ও সাংবাদিক রতনকে হত্যা করে তার রক্ত কুকুর দিয়ে খাওয়ানোর শ্লোগান দিয়ে করা মিছিল ভালোভাবে নেয়নি সাধারণ মানুষ।
সচেতন মহলে সুস্পষ্ট ধারণা তৈরী হয়েছে যে, রতন সরকার বিভিন্ন সময় মেয়র ও সিটি করপোরেশনের ভয়ঙ্কর দূর্নীতির চিত্র তুলে ধরায় তারওপর এই মামলা-হামলা নেমে এসেছে। তার কণ্ঠরোধ করতেই মেয়র তার ক্ষমতার অপপ্রয়োগ করে চলেছেন বলে মনে করছেন অনেকে।
এদিকে স্বাধীনতা স্বপক্ষের একজন সংবাদকর্মীর ওপর এভাবে প্রকাশ্য অন্যায়-অত্যাচর রুখে দেয়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের অঙ্গসহযোগী সংগঠনগুলো। এক যৌথবিবৃতিতে অবিলম্বে মামলা প্রত্যাহার ও ক্ষমতার অপব্যবহার বন্ধ করা না হলে মেয়রের বিরুদ্ধে মাঠে নামার পাল্টা ঘোষণা দিয়েছেন নেতৃবৃন্দ।
এদিকে মামলা দায়েরের পর রতন সরকারকে গ্রেফতারে মেয়র নিজেই দফায় দফায় সময় বেঁধে দিয়ে পুলিশের ওপর চাপ প্রয়োগ করে আসলেও আওয়ামী লীগ মেয়রের বিরুদ্ধে পাল্টা আন্দোলনের ঘোষণা দেয়ার পর পুলিশের বিরুদ্ধে টালবাহানার অভিযোগ তুলে ঈদ পর্যন্ত আন্দোলন স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছেন। আর মাধ্যমে নিজের প্রকৃত প্রভাবপ্রতিপত্তির করুণ অবস্থাই প্রকাশ করেছেন বলে মনে করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে, প্রায় এক যুগ ধরে গুরুত্বপূর্ণ অনেক বিষয়ে সাহসী সাংবাদিকতা করে সব মহলে জনপ্রিয় রতন সরকার। তার বিরুদ্ধে নিবর্তনমূলক মামলাটি করে নানা দিক থেকে কোনঠাসা হয়ে পড়েছেন মেয়র।
অনেকে বলছেন, ভূমিধস জনপ্রিয়তায় নির্বাচিত এই মেয়র সাড়ে ৩ বছরে কাঙ্খিত উন্নয়ন করতে ব্যর্থ হয়েছেন। অনিয়ম-দূর্নীতি, আত্মীয়করণ ও দলীয়করণের মাধ্যমে পুরো সিটি করপোরেশন এখন অকার্যকর। সরকারের সঙ্গে শুধু নয় নিজের দলীয় গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের সঙ্গে দ্বন্দ-সংঘাতে জড়িয়ে এখন অনেকটাই নিঃসঙ্গ মেয়র।
দলীয় চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের মৃত্যুর পর শূন্য আসনে উপনির্বাচনে মরহুম নেতার ছেলে সাদ এরশাদকে প্রার্থী করার বিরোধীতা করেন মোস্তফা। তা সত্ত্বেও নির্বাচিত হন সাদ। এই পরাজয়ের গ্লানী থেকে এরশাদের বাসভবন পল্লীনিবাসে অস্ত্র নিয়ে হামলা, সাদ ও তার স্ত্রীকে লাঞ্চিত করার অভিযোগ আছে মেয়রের বিরুদ্ধে।
প্রথম রসিক নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন না পাওয়ায় এরশাদের বিরুদ্ধে তৃণমূল জাতীয় পার্টি নামে দল গঠন করেন মোস্তফা। সেবার দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে প্রার্থী হলেও হেরে যান। এরশাদ পরিবারের সদস্য সাবেক সংসদ সদস্য আসিফ শাহরিয়ারের সঙ্গে দুর্ব্যবহার, দলের নতুন চেয়ারম্যান নির্বাচনের সময় এরশাদপত্নী বেগম রওশন এরশাদের বিরুদ্ধে দলীয় নেতাকর্মীদের দিয়ে ঝাড়ু-মিছিল ও রওশনের কুশপুত্তলিকা দাহ করাসহ নানা ঘটনায় দলের প্রভাবশালিদের সঙ্গে তার বিচ্ছিন্নতা সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছেন দলীয় সূত্রগুলো।
এই অবস্থায় রংপুরের জনপ্রিয় এই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মেয়রের স্পর্শকাতর এই মামলা দায়েরের ঘটনা ভালোভাবে নেননি রংপুরের সাধারণ মানুষও। তাকে গ্রেফতার করতে সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর ও দলীয় ক্যাডারদের নিয়ে মোটরসাইকেলের মহড়া দিয়ে থানায় গিয়ে পুলিশের ওপর চাপ প্রয়োগের দৃশ্য, মেয়রের আইন-শৃঙ্খলাপরিপন্থী বক্তব্য ও তার মিছিলের শ্লোগানের ভাষা দারুণ সমালোচনার সৃষ্টি করেছে। মেয়র সমর্থিত সাংবাদিকদের একটি গ্রুপ এসব কর্মকান্ড অনলাইন টেলিভিশন ও ফেসবুকে লাইভ প্রচার করে ছড়িয়ে দেয়। যেখানে সাংবাদিক রতনকে এলাকা ছাড়া করতে যাকিছু করার ইংগীত দিয়ে বক্তব্য দেন মেয়র। মিছিল থেকে সাংবাদিক রতন সরকারকে হত্যা করে তার রক্ত কুকুরকে খাওয়ানোর শ্লোগান দেয়া হয়। মামলা দায়েরের পর মেয়রের কর্মীরা শতাধিক মোটরসাইকেল নিয়ে রতন সরকারের অফিসসহ সম্ভাব্য সকল স্থানে হানা দিয়ে তন্নতন্ন করে খুঁজে বেড়ায়। এসময় মোটরসাইকেলের উচ্চশব্দ ও হর্ণে নগরজুড়ে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়।
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে পরদিন সরকারী দল আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনগুলোর নেতাকর্মী ও সাংবাদিক মহল ছাড়াও অনেকেই প্রতিবাদের ঝড় তোলেন ফেসবুকে। রতন সরকারের রাজনৈতিরক মতাদর্শ ও মুক্তিযোদ্ধার সন্তান পরিচয় উল্লেখ করে রংপুর জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগ একটি বিবৃতি দেয়। তাতে বলা হয় নিজের দূর্নীতি ধামাচাপা দিতে মেয়র ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অপপ্রয়োগই শুধু করেন নাই, তার দলীয় ক্যাডার দিয়ে একজন সাহসী সাংবাদিকের কণ্ঠ স্তব্ধ করতে তার জীবন বিপন্ন করে তুলেছেন।
মেয়রকে হুঁসিয়ার করে দিয়ে স্বেচ্ছাসেবকলীগের জেলা সভাপতি সিরাজুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক তাপস ঘোষ যৌথবিবৃতি দেন। তাতে বলা হয়
Leave a Reply