মোঃ সাইফ উদ্দিন রনী, কুমিল্লা ব্যুরো প্রধান:
কুমিল্লা ইপিজেডের চায়না কোম্পানীর মানবসম্পদ কর্মকর্তা খায়রুল বাশার সুমনকে হত্যার ঘটনায় প্রধান আসামী মহিউদ্দিনকে গ্রেফতার করেছে র্যা ব।
শুক্রবার ভোরে জেলার সদর দক্ষিণ উপজেলার পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত মহিউদ্দিন নগরীর দক্ষিণ চর্থা এলাকার আবদুল হকের ছেলে।
মামলার বিবরন ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, কুমিল্লা ইপিজেড এর সিং সাং সু বিডি লিমিটেড এর কিছু শ্রমিককে বিভিন্ন অপরাধ কর্মকান্ডের সাথে জড়িত থাকার কারনে কোম্পানি কতৃপক্ষ চাকুরি করে। এতে চাকুরী চাকুরিচ্যুত শ্রমিকগন ক্ষোভের কারনে কুমিল্লা ইপিজেড এর মানবসম্পদ কর্মকর্তা খায়রুল বাশার সুমনসহ কয়েকজন কর্মকর্তার উপর ক্ষিপ্ত হয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন। এর জেরে গত ৩০ এপ্রিল বিকেলে অফিস শেষে বাসায় ফেরার পথে ইপিজেট ১নং গেইট হালুয়া পাড়া বার্জার ডিপোর সামনে এক যুবক খায়রুল বাশারের মটর সাইকেলের গতিরোধ করে সামনে দাড়ায়। এসময় এ যুবক কেন তাকে চাকুরি থেকে অব্যাহতি দিয়েছে কারন জানতে চান, তখন খায়রুল বাশার সুমন বলেন এটা অফিস জানে, তুমি কাল অফিসে আসো এটা আমি দেখব কি হয়েছে। তখন এ যুবক তাকে ছুড়ি দিয়ে পায়ের মধ্যে কোপাতে থাকে। তখন তার সাথে আরো ৭/৮ জন এসে যোগ হয়ে লাঠি দিয়ে আঘাত করে। পরে সাথে থাকা হারুন উর রশিদের চিৎকারে আশে পাশের লোকজন এগিয়ে এলে দুবৃত্তরা পালিয়ে যায়। স্থানীয়রা তখন তাকে উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজে নিয়ে যায়। পরে মেডিকেল কলেজের চিকিৎসারত অবস্থায় খায়রুল বাশার সুমন প্রচুর রক্তক্ষরনে মারা যায়। নিহত খায়রুল আলম সুমন কুমিল্লা সদর দক্ষিন উপজেলার গলিয়ারা ইউনিয়নের মান্দারি গ্রামের আব্দুল মুমিন মাষ্টারের ছেলে।
এ ঘটনায় নিহত খায়রুল বাশার সুমনের ছোট ভাই খাইরুল আনাম কুমিল্লা সদর দক্ষিন থানায় অজ্ঞাতনামা ২ জনসহ ৪ জনের নামে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলা নং-০২ (তাং ০১.০৫.২১)। মামলার আসামীরা হলেন কুমিল্লা নগরীর চর্থা এলাকার ভাড়াটিয়া আব্দুল হকের ছেলে মোঃ মহিউদ্দিন (২১) ও চর্থা এলাকার শীষ শাহ ফকির মাজারের সাথে কলোনির কাজী মাসুদের ছেলে রাফি (২০)। এ হত্যা মামলাটি দূত অগ্রগতির জন্য ৬ মে কুমিল্লা জেলা পুলিশের নিকট হস্তান্তর করা হয়।
র্যা ব ১১ এর কোম্পানি কমান্ডার মেজর তালুকদার নাজমুছ সাকিব বলেন, ঘাতক মহিউদ্দিনের নেতৃত্বে একটি কিশোর গ্যাংয়ের ৭/৮জন সদস্য এই হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত। মূলত চাকুরীচ্যুতের একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে তারা এই হত্যাকান্ড ঘটায় বলে প্রাথমিকভাবে স্বীকার করেছে। পলাতক সকল আসামীকেই গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত আছে।
কুমিল্লা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আনোয়ারুল আজিম বলেন, মামলাটি গতকাল (৬ মে বৃহস্পতিবার) রাতে হন্তান্তর করা হয়েছে। শুক্রবার ভোরে র্যা ব একজন আসামী আটক করেছে। মামলাটি যেহেতু আমাদের হাতে মাত্র আসলো, আমরা এ নিয়ে কাজ করছি। সহসাই বাকি আসামীদের গ্রেফতার করা হবে।
Leave a Reply