এম বশির, ব্যুরো প্রধান, বরিশালঃ
বরিশাল নগরী থেকে ভোলাসহ ১০ টি রোডে চলাচলের একমাত্র মাধ্যম চরকাউয়া খেয়াঘাট। যেখানে প্রতিদিন প্রায় অর্ধ শত লক্ষ লোক খেয়া পাড়াপাড় হয় । সেখানে সরকারি ইজারা না থাকায় তা পরিচালিত হয় মাঝি-মাল্লাদের সমিতি ধারা। সে সুযোগে সমিতি কোন নিয়ম-নীতি না মেনে নিজেদের খুশি মত চালান খেয়াঘাটটি। নগরীর আসে-পাশে যে কয়টি খেয়াঘাট আছে তার মধ্যে সবচেয়ে কম পয়সায় পাড়াপাড় খরচ কম হয় এই খেয়াঘাটে। তার কারন খেয়াটির পাড়াপাড়ের দূরত্বটি খুবই কম এবং ইজারাদার না থাকায়। যেহেতু খেয়াঘাটটিতে সরকারি ইজারাদার নেই। সেই সুযোগে মাঝি-মাল্লা সমিতির পরোক্ষ চাঁদাবাজীতে অতিষ্ট অর্ধ শত লক্ষ যাত্রী। করোনা কালীয় সময় স্বাস্থ্য বিধি মেনে প্রতি নৌকায় ১২ জন করে জন ৫ টাকা হারে ভাড়া নেয়ার কথা থাকলেও অসাধু মাঝিরা জন প্রতি ১০ টাকা এবং মটরসাইকেল প্রতি ৪০ টাকা ভাড়া আদায় করেন। তাতে নৌকায় প্রতি পাড়াপাড় প্রায় ১৫০/২০০ টাকা করে আদায় করেন মাঝিরা। সংবাদ কর্মীরা সত্যতা যাচাই করতে গেলে দেখা যায় চরকাউয়া খেয়াঘাট থেকে বরিশালের পাড়ে সিদ্দিক নামে এক মাঝি ১২ জন যাত্রী ও ১ টি মটরসাইকেল নিয়ে পাড়াপাড় হন। প্রতি যাত্রীর কাছ থেকে ১০ টাকা এবং মটরসাইকেলের কাছ থেকে ৪০ টাকা আদায় করে বলে অভিযোগ করেন যাত্রীরা। যা সংবাদ কর্মীদের কাছে ভিডিও ধারন করা রয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মাঝি জানান, অতিরিক্ত ভাড়ার একটি অংশ পেয়ে থাকেন সমিতির সভাপতি ওমর ও সম্পাদক সাজ্জাদ। তবে এ বিষয় কোন মাঝি মুখ খুললে তাকে উক্ত সমিতির থেকে বাদ দেয়া হবে এমন ভয়ও দেখান সভাপতি ও সম্পাদক।
উল্লেখ্য মাঝি-মাল্লার সমিতির ইচ্ছে মত চলাচলে অতিষ্ট হয়ে বরিশাল পূর্বাঞ্চলীয় উন্নয়ন পরিষদ ও স্থানীয় প্রতিনিধিসহ গন্যমান্যরা মাঝি-মাল্লাদের নিয়ে একাধিক বার খেয়াঘাটের ভাড়ার নিয়ম-নীতি নিয়ে বসেন । যাতে একটি নির্দিষ্ট নিয়মে খেয়াটি চলে। একাধিকবার বসার পরে সর্বশেষ ২০২০ সালের ১৭ নভেম্বর খেয়াঘাট সংলগ্ন চরকাউয়া ইউনিয়ন পরিষদে মাঝি-মাল্লাদের নিয়ে বসা হয়। সেখানে বরিশাল পূর্বাঞ্চলীয় উন্নয়ন পরিষদের আহ্বায়ক ও জেলা পরিষদের সদস্য মোঃ মুনাওয়ারুল ইসলাম অলি,স্থানীয় থানার ওসি, স্থানীয় চেয়ারম্যান মনিরুল ইসলাম ছবিসহ পূর্বাঞ্চলীয় জনগন উপস্থিত ছিলেন। সেখানে মাঝি-মাল্লাদের সাথে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় যে, প্রতি নৌকা পাড়ি প্রতি ৫০/৬০ টাকা। যার মধ্যে প্রতি নৌকায় ১৮/২০ যাত্রী নেয়া হবে। প্রতি জন যাত্রীর কাছ থেকে ৩ টাকা ভাড়া নেয়া হবে। প্রতি মটরসাইকেলের কাছ থেকে ২০/৩০ টাকা বাকী টাকা যাত্রী দিয়ে ফিলাপ করতে হবে। আর কোন মটরসাইকেল রিজাভ গেলে তার কাছ থেকে ৪০ টাকা ভাড়া নিতে হবে। তবে খুব সকালে এবং গভীর রাতে যাত্রী সংখ্যা কম নিয়ে ভাড়া ৫ টাকা নেয়া যেতে পারে এমনও কথা উল্লেখ করা হয়। যাতে উপস্থিত সকলের স্বাক্ষরসহ মাঝি-মাল্লাদের সভাপতি মোঃ ওমর ও সাধারণ সম্পাদক মোঃ সাজ্জাদসহ অনেক মাঝিদের স্বাক্ষর নেয়া হয়। অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করার বিষয় মাঝি-মাল্লা সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোঃ সাজ্জাদ জানানা, আমি জেনেছি যে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে মাঝিরা। তবে এ বিষয় আমরা ব্যবস্থা নিবো। অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করার বিষয় মাঝি-মাল্লা সমিতির সভাপতি ওমর জানান, কোন মাঝি অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করেন না। যদি কোন মাঝি যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করার প্রমাণ পাওয়া যায় তবে আমরা ব্যবস্থা নিবো। অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করার বিষয় বরিশাল পূর্বাঞ্চলীয় উন্নয়ন পরিষদের আহ্বায়ক ও বরিশাল জেলা পরিষদের সদস্য মোঃ মুনাওয়ারুল ইসলাম জানান, মাঝি-মাল্লাদের সাথে যাত্রী ভাড়ার বিষয় বরিশাল পূর্বাঞ্চলীয় উন্নয়ন পরিষদসহ পূর্বাঞ্চলীয় জনগণের সাথে এক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। আমি জানতে পারি সে চুক্তি অনুযায়ী মাঝিরা চলছে না। অনেকে আমার কাছে অভিযোগও দিয়েছে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করার বিষয়। তিনি আরও জানান, যেহেতু তারা কারও কথা শোনেন না। সেহেতু বরিশাল পূর্বাঞ্চলীয় জনগণ প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে যাতে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করতে না পারে। বরিশাল সদর নৌ থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আবদুল্লাহ আল-মামুন জানান, বরিশাল পূর্বাঞ্চলীয় জনগণের সাথে মাঝি-মাল্লাদের একটি চুক্তি হয়েছে জেনেছি। তবে এমন কোন কাগজ আমি পাইনি। যদি পেতাম তা হলে আমরা সে চুক্তি অনুসারে যাত্রী ভাড়ার বিষয় ব্যবস্থা করতে পারতাম। আর বর্তমানে যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করার বিষয় সত্য হতে আমরা যথাযথ ব্যবস্থা নিবো। অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করার বিষয় বরিশাল সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) নিশাত তামান্না জানান, মাঝিরা অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করলে আমরা মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে জেল জরিমানা করবো। তবে উপযুক্ত প্রমাণ না পেলে আমরা প্রশাসনিক দিক থেকে কিছুই করতে পারি না। বরিশাল সদর উপজেলার ইউএনও জানান, আমি সহকারী কমিশনার (ভূমি) নিশাত তামান্নাকে বলে দিচ্ছি যে যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া নেয়া হলে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে জেল জরিমানা করতে। তিনি আরও জানান প্রশাসন সার্বক্ষণিক সাধারণ জনগণের সাথে আছে ।
Leave a Reply