মোঃ সাইফ উদ্দিন রনী, কুমিল্লা ব্যুরো প্রধান:
বিভিন্ন অনিয়মের কারনে এক কর্মচারীকে চাকুরি থেকে অব্যাহতি দেওয়ার কারনে কুমিল্লা ইপিজেড এর চায়না জুতা কোম্পানী সি সাং এর এইচআর কর্মকার্তাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। শুক্রবার বিকালে কুমিল্লা ইপিজেট ১নং গেইট দক্ষিন চর্থায় রোসা পিাটমেন্টাল ষ্টেরের সামনে এঘটনা ঘটে। নিহত খায়রুল আলম সুমন কুমিল্লা সদর দক্ষিন উপজেলার গলিয়ারা ইউনিয়নের মান্দারি গ্রামের আব্দুল মুমিন মাষ্টারের ৩য় ছেলে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদশীরা জানায়, কুমিল্লা ইপিজেড এর চায়না জুতা কোম্পানী সি সাং এর এইচআর কর্মকার্তা হিসেবে চাকুরী করতেন খায়রুল বাশার সুমন। শুক্রবার বিকেলে অফিসের কাজ শেষে তার এক সহকর্মী হারুন ইর রশিদকে সাথে নিয়ে মটর সাইকেল যোগে বাসার উদ্যোশে বের হন। এসময় ইপিজেট ১ নং গেইট চর্থা এলাকায় স্বপ্ন সুপার শপ এর সামনে এক যুবক মটর সাইকেলের গতিরোধ করে সামনে দাড়ায়। এসময় এ যুবক কেন তাকে চাকুরি থেকে অব্যাহতি দিয়েছে কারন জানতে চান, তখন খায়রুল আনান সুমন বলেন এটা অফিস জানে, তুমি কাল অফিসে আসো এটা আমি দেখব কি হয়েছে। তখন এ যুবক তাকে ছুড়ি দিয়ে পায়ের মধ্যে কোপাতে থাকে। তখন তার সাথে আরো ৪/৫ জন এসে যোগ হয়। খায়রুল আনাম সুমন তখন মটর সাইকেল ছেড়ে দিয়ে সাথে রোসা সুপার শপের সামনে গিয়ে পড়ে। পরে সাথে থাকা হারুন উর রশিদের চিৎকারে আশে পাশের লোকজন এগিয়ে এলে দুবৃত্তরা পালিয়ে যায়। স্থানীয়রা তখন খায়রুল আনামকে উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজে নিয়ে যায়। পরে মেডিকেল কলেজের চিকিৎসারত অবস্থায় খায়রুল আনাম প্রচুর রক্তক্ষরনে মারা যায়।
এ বিয়য়ে খায়রুল আলমের সাথে থাকা সমকর্মী হারুন উর রশিদ জানান, আমাদের মটর সাইকেল রোধ করে প্রথমে চাকরি থেকে অব্যাহতি কেন দিলেন এ কথা জিজ্ঞেস করে এলোপাথারি কোপাতে থাকে পরে তার সাথে আরো ৪/৫ জন ছেলে এসে যোগ দেয়। আমার চিৎিকারে স্থানীয়রা এগিয়ে আসলে বখাটেরা পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাকে উদ্ভার করে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজে এন ভতি করাই।
নিহত খায়রুল আনামের ছোট ভাই রোমন একই কোম্পানীর প্লানিংয়ে চাকুরি করেন, তিনি জানান, আমি অফিসে কাজ করার সময় সহকর্মীদের মাধ্যমে খবর পেয়ে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যাই । তখন ভাইয়ের প্রচুর রক্ত ক্ষরন হচ্ছিলো। পায়ে সেলাই করা হয়েছে, পরে রক্তের ব্যবস্থা করার সময় পাইনি ভাই তখন আর বেচেঁ নেই। রোমন আরো জানায় নিহত বাশারের সম্প্রতি বিয়ে করেছেন। তার স্ত্রী অসুস্থ, সে গর্ভবতী, তাকে নিয়ে ডাক্তারের কাছে যাওয়ার কথা ছিলো।
কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের চিকিৎসক ডাঃ আরিফুর রহমান জানান, নিহত খায়রুল আনাম সুমনের ডান পায়ে ৩ টি বড় ক্ষত ছিলো। প্রায় ৬ থেকে ৭ সেন্টিমিটার গভীর। আর বাম পায়ে ১টা ক্ষত ছিলো। তার ডান পায়ের রক্তনালী কেটে যায়। হাসপাতালে আনার সময় প্রচুর রক্ত হয় আর রক্ত ক্ষরনে সে মারা যায়।
এ ব্যাপারে কুমিল্লা সদর দক্ষিন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) কমল কৃষ্ণ ধর জানান, প্রাথমিকভাবে ধারনা করা হচ্ছে শ্রমিক ছাটাই সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে এ হত্যা কান্ড হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। মরদেহের ময়নাতদন্ত শেষে আইনগত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
Leave a Reply