বিল্লাল হোসেন,যশোর প্রতিনিধি:
যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের রেডজোন থেকে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ১০ রোগী পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. দিলীপ কুমার রায়ের নির্দেশে মঙ্গলবার তিন সদস্যের এই তদন্ত কমিটি গঠন হয়। এদিকে, পালিয়ে যাওয়া ১০ রোগীর বাড়ি লকডাউন করা হয়েছে। তাদের সংস্পর্শে আসা ৪০ জনকে হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এদের মধ্যে কারো করোনার উপসর্গ দেখা দিলে নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য ল্যাবে পাঠানো হবে। যশোরের সিভিল সার্জন ডা. শেখ আবু শাহীন এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। হাসপাতাল তত্ত্বাবধায়ক জানিয়েছেন, ঘটনার পর থেকে রেডজোন সিল করা হয়েছে।
হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. আরিফ আহমেদ জানান, তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটির প্রধান হলেন চক্ষ বিভাগের সিনিয়র কনসালটেন্ট ডা. হিমাদ্রী শেখর সরকার। অন্য দুই জন হলেন সদস্য সচিব যশোর মেডিকেল কলেজের শিশু বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. ইমদাদুল হক রাজু ও সদস্য হাসপাতালের কার্ডিওলজি বিভাগের জুনিয়র কনসালটেন্ট ডা. তৌহিদুল ইসলাম। আগামী ৫ কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা নিতে বলা হয়েছে। আরএমও ডা. আরিফ আহমেদ জানান, মঙ্গলবার থেকে হাসপাতালের রেডজোনে ১ জন করে নিরাপত্তা কর্মী ২৪ ঘন্টা দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। অনুমতি ছাড়া কেউ প্রবেশ করতে পারবে না। এছাড়া গেট তালাবদ্ধ করে রাখা হবে। তিনি আরও জানান, পলাতক ১০ রোগী রেডজোনে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। সোমবার দুুপুর থেকে রাত ১২ টার মধ্যে তাদের সকলকে হাসপাতালে ফিরিয়ে আনে প্রশাসন। হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. দিলীপ কুমার রায় জানান, রেডজোন থেকে রোগী পালিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে হাসপাতালের কর্মকর্তা কর্মচারীর অবহেলা বা বাইরের কারো ইন্ধন আছে কিনা তা খতিয়ে দেখবে তদন্ত কমিটি। মঙ্গলবার থেকে রেডজোন সিল করা হয়েছে। বাইরের কেউ সেখানে প্রবেশ করতে পারবেন না। রোগীদের খাবার বা অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিস পত্র গেটে দায়িত্বরত কর্মচারীর মাধ্যমে পৌঁছাতে হবে। যশোরের সিভিল সার্জন ডা. শেখ আবু শাহীন জানান, পলাতক ১০ জন করোনা রোগীকে হাসপাতালের রেডজোনে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। তাদের সকলের বাড়ি লকডাউনের পাশাপাশি সংস্পর্শে আসা পরিবারের ৪০ সদস্যকে হোমকোয়ারেন্টাইনে নেয়া হয়েছে। কারো উপসর্গ দেখা দিলে নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হবে। সিভিল সার্জন আরও জানান, মঙ্গলবার সকালে রেডজোন পরিদর্শন করেছেন তিনি। কারো কোন সমস্যা আছে কিনা সে বিষয়ে খোঁজ নেয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, গত ১৮ থেকে ২৪ এপ্রিলের মধ্যে রেডজোনে ভর্তি হওয়া ১০ জন রোগী পালিয়ে যান। এরমধ্যে ৭ জন ভারত ফেরত রয়েছেন। পালিয়ে যাওয়া রোগীরা হলেন যশোর শহরের পশ্চিম বারান্দীপাড়ার বিশ্বনাথ দত্তের স্ত্রী মনিমালা দত্ত (৪৯), ওয়াপদা গ্যারেজ এলাকার ভদ্র বিশ্বাসের ছেলে প্রদীপ বিশ্বাস, (৩৭), সদর উপজেলার পাঁচবাড়িয়া গ্রামের রবিউল ইসলামের স্ত্রী ফাতেমা খাতুন (১৯), একরামুল কবীরের স্ত্রী রুমা খাতুন (৩০), সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার প্রতাপপাড়ার জালাল হোসেনের ছেলে মিলন হোসেন (৩২), কালীগঞ্জ উপজেলার মনোতোষ সর্দারের স্ত্রী শেফালী রানী (৪০), রাজবাড়ীর রামকান্তপুর গ্রামের গোলাম রব্বানীর স্ত্রী নাসিমা আক্তার (৪৯), খুলনা সদর উপজেলারকলিম কৃষ্ণের ছেলে বিবেকানন্দ (৫২), রুপসা উপজেলার শের আলীর ছেলে সোহেল সর্দার (১৭) ও পাইকগাছা উপজেলার ডামরাইল গ্রামের আহমেদ সানার ছেলে আমিরুল সানা (৫২)। এদের মধ্যে মনিমালা দত্ত, মিলন হোসেন, শেফালী রানী, আমিরুল সানা, সোহেল সর্দার বিবেকানন্দ সরকার ও নাসিমা আক্তার ভারত ফেরত ছিলেন। বিষয়টি জানাজানির পর জেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগে ব্যাপক তোলপাড় হয়।
Leave a Reply