বোয়ালমারী (ফরিদপুর) প্রতিনিধিঃ
ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে হাট ইজারা না দিয়ে মসজিদের উন্নয়নের নামে টাকা আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে মসজিদের নামে এই টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। অপরদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাট ইজারা ছাড়াই রাজস্ব আদায় করা হচ্ছে বলে দাবি করলেও সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় রসিদের মাধ্যমে স্থানীয় একটি মসজিদের উন্নয়নের নামে টাকা আদায় করা হচ্ছে। মঙ্গলবার (২৭ এপ্রিল) সকালে সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, বোয়ালমারী উপজেলার রূপাপাত ইউনিয়নের কাটাগড় হাটের ইজারা না নিয়ে স্থানীয় কাটাগড় বাজার জামে মসজিদের উন্নয়নের নামে রূপাপাত ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আজিজার রহমান মোল্যার নির্দেশে রসিদের মাধ্যমে টাকা আদায় করা হচ্ছে। অথচ ওই হাটের রাজস্ব আদায় করা হচ্ছে বলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ঝোটন চন্দ এই প্রতিনিধিকে জানান। এ ব্যাপারে স্থানীয় কাটাগড় বাজারের পেঁয়াজ ব্যবসায়ী মো.রুবেল বলেন, রূপাপাত ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আজিজার রহমানের নির্দেশে স্থানীয় একটি মসজিদের নামে এই টাকা আদায় করা হচ্ছে। আমাকে এক বান্ডেল রসিদ দিয়ে গেছে। আমি যাদের কাছ থেকে পেঁয়াজ কিনছি তাদের পছন্দমাফিক (নির্দিষ্ট নয়) দেয়া টাকা রসিদের মাধ্যমে আদায় করে উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মশিউল আজম বাবুর নিকট জমা দিচ্ছি।এ ব্যাপারে রূপাপাত ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আজিজার রহমান মোল্যার বক্তব্য জানতে তার মোবাইলে (০১৭১৬৪০৯৭৯৪) একাধিকবার ফোন দেয়া হলে তিনি রিসিভ না করায় তার বক্তব্য জানা যায়নি।বোয়ালমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ঝোটন চন্দ বলেন, কাটাগড় হাট ইজারা দেয়া না হলেও রাজস্ব আদায় করা হচ্ছে। রাজস্ব হিসেবে নয়, মসজিদের উন্নয়নের নামে রসিদের মাধ্যমে টাকা আদায় হচ্ছে-এই বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, মসজিদের নামে রসিদের মাধ্যমে হাট থেকে টাকা আদায়ের কোন সুযোগ নাই। আমি স্থানীয় তহশিলদারকে চিঠি দিয়ে বলেছি ওই হাট থেকে রাজস্ব আদায় করতে। তিনি আদায় করছেন কি-না খোঁজ নিয়ে দেখছি। এছাড়া আগামী পরশু হাট বাজার ইজারা দেয়ার বিষয়ে মিটিং আছে। সেখানে ওই হাটের ইজারা দেয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।রূপাপাত ইউনিয়ন ভূমি অফিসের তহশিলদার মো. রাজিমুল আলম বলেন, কাটাগড় হাট খাস হয়েছে আমি জানি না। এইমাত্র (দুপুর ২ঃ২০ মিনিট) স্যার আমাকে ফোন দিয়ে হাটে যেতে বললেন, আমি হাটে যাচ্ছি। আর ইউএনও স্যারের অফিস থেকে আজ ফোন দিয়ে স্যারের অফিস সহকারী উকিল মিয়া বলেছে একটা চিঠি আছে, নিয়ে যাবেন।
Leave a Reply