মোঃ সাইফ উদ্দিন রনী, কুমিল্লা ব্যুরো প্রধান:
দেশে চাহিদার শীর্ষে কুমিল্লা জেলার ঐতিহ্যবাহী ফসল বাঙ্গি। স্থানীয় কৃষকদের সংরক্ষণ ও সংগ্রহ করা বীজের মাধ্যমে শীতকালীন রবি মৌসুমে স্থানীয় জাতের এ বাঙ্গী আবাদ হয়। যা দেশের অন্যান্য জায়গায় খুব একটা ভালো হয় না। মিষ্টি কুমড়া টাইপের গোল আকৃতির একটা বাঙ্গি যা বাংলাদেশের জনপ্রিয় একটি বাঙ্গি। কাঁচা ও পাকা অবস্থায় অনেক সুস্বাদু ও মিষ্টি। দেশের অন্যান্য বাঙ্গি খেতে গুর চিনি মিশিয়ে খেতে হয় কিন্তু এ বাঙ্গিতে তা লাগেনা। অন্যান্য বাঙ্গি খেতে আঠালো হলেও কুমিল্লার এ বাঙ্গি মিষ্টি ও ঝড়ঝড়ে, তাছাড়া এ বাঙ্গি চাষে কীটনাশক ব্যবহার হয়না বললেই চলে। স্থানীয় জৈব পদ্ধতি ব্যবহার করে নিরাপদ এ ফসলের আবাদ হয়। যার ফলে দেশ জুড়ে এর অনেক জনপ্রিয়তা ও চাহিদা রয়েছে। যা কুমিল্লা কৃষকরা অর্থকরী ফসল হিসেবে আবাদ করে থাকে। এবার লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ফলন ভাল ও চাহিদা থাকায় কৃষকরা অনেক লাভবান।
কুমিল্লা জেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, এ বছর জেলা জুড়ে ১৬৮ হেক্টর জমিতে বাঙ্গীর আবাদ হয়েছে। যা সারাদেশের প্রত্যাশিত ফসল থেকে অনেক বেশি। এ বছর আমাদের কৃষকরা বিঘা প্রতি তাদের খরচ পড়েছে গড়ে ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা। এখনোও সব ফসল তোলা শেষ না হলেও তথ্যমতে দেখা যায়, কৃষকরা তাদের প্রতি বিঘাতে এক থেকে দুই লক্ষ টাকার বাঙ্গী পাবে বলে তারা আশা করেন। এবার ফলনও অনেক বেশি এবং দামও অনেক ভালো পাচ্ছেন তারা। এ বছর বিঘা প্রতি তারা সাড়ে ৪ থেকে ৫ টন পাচ্ছেন। যা হেক্টর ৩০ থেকে ৩৫ টন হবে।
এ বছর জেলার চান্দিনা উপজেলার সবচেয়ে বেশি বাঙ্গির ফলন হয়েছে। সেখানে আবাদ হয়েছে ৬২ হেক্টর। ২য় স্থানে রয়েছে মেঘনা উপজেলা। সেখানে আবাদ হয়েছে ৫৫ হেক্টর জমিতে বাঙ্গি চাষ। হোমনা উপজেলা আবাদ হয়েছে ১৫ একর জমি। দেবিদ্বার উপজেলায় ১৫ হেক্টর জমি। মুরাদনগরে ১০ হেক্টর জমি, দাউদকান্দিতে ১০ হেক্টর, দেবিদ্বারে ১৫ হেক্টর, হোমনায় ১৫ হেক্টর ও তিতাস উপজেলায় ১ হেক্টর জমিতে বাঙ্গী চাষ হয়েছে। সর্বমোট পুরো জেলায় ১৬৮ হেক্টর জমিতে বাঙ্গী আবাদ হয়েছে।
কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার মহিচাইল ইউনিয়নের জোরপুকুরিয়র এলাকার কৃষক আব্দুস সাত্তার জানান, ১২০ শতক জমিতে ৫০ হাজার টাকা খরচ করে ৪ লক্ষ টাকার বাঙ্গি বিক্রি করেছেন। এমনি স্থানীয় কৃষক মতিন মিয়া, আব্দুস সালাম জানান, তাদের বাঙ্গি এখনো সবগুলো উঠানো হয়নি, তবে চাহিদা ও দাম ভাল পাওয়ায় অন্যান্য বছরের তুলনায় এবারর অধিক লাভবান হবেন ।
কুমিল্লা জেলা কৃষি অফিসের উপ-পরিচালক মোঃ মিজানুর রহমান জানান, বাঙ্গির বীজটাা কৃষকরা স্থানীয়ভাবে সংরক্ষণ ও সংগ্রহ করে। পরবর্তীতে আমাদের ক্ষেত্রে যত ধরনের কারিগরি সহযোগিতা করার দরকার আমরা সব ধরনের সহযোগিতা দিচ্ছি। তাদের বিভিন্ন উপকরণ আমরা নিশ্চিত করে থাকি। কুমিল্লা বাঙ্গির একটা ভালো দিক হলো এটাতে কীটনাশক ব্যবহার হয়না বললেই চলে। বাঙ্গী চাষের মৌসুমে তারা খুব একটা কীটনাশক ব্যবহার করেনা। এক্ষেত্রে তারা জৈব পদ্ধতিতে ইয়োলো বোড ট্রেপ, সেক্স ফেরোমন ফাদসহ বিভিন্ন জৈব পদ্ধতি ও জৈব সার ব্যবহার করে থাকে ফলে তাদের খরচও কমে যায় এবং নিরাপদ বাঙ্গি চাষ হয়। এ ব্যাপারে আমরা কৃষকদের উৎসাহিত করে থাকি, কৃষি অফিসের কর্মকর্তা, মাঠ কর্মীরা নিয়মিত তাদের সহযোগিতা করে যাচ্ছে। কুমিল্লার ঐতিহ্য কুমিল্লার বাঙ্গী বিষ মুক্ত নিরাপদভাবে চাষ হয়ে দেশে জনপ্রিয়তা ও চাহিদা ধরে রাখতে পারে সে ক্ষেত্রে আমরা তাদের সব সহযোগিতা করে যাব।
Leave a Reply