ডেস্ক নিউজ:
ভুপেনের বাবা বাদাম বিক্রি করে সংসার চালানোর সময় স্বপ্ন দেখতেন ছোট ছেলেকে ডাক্তারি পড়াবেন। সেই স্বপ্ন আজ সত্যিও হয়েছে। ছেলে মেডিকেলে ভর্তির সুযোগ পেয়েছে। আর তাতেই রাতের ঘুম হারাম হয়ে যায় হতদরিদ্র বাবার।তবে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য আব্দুর রহমানের সহায়তায় সে স্বপ্ন এবার সত্যি হচ্ছে।নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার খালিশা চাপানি ইউনিয়নের হতদরিদ্র ভুপেন্দ্র অধিকারীকে নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় কেটে গেছে হতদরিদ্র পরিবারটির।
চলতি বছর এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েছে ভুপেন্দ্র। কিন্তু অর্থাভাবে তার মেডিকেল কলেজে ভর্তিতে দেখা দেয় চরম অনিশ্চয়তা। মেডিকেল কলেজে ভর্তি হওয়ার মতো কোনো টাকা-পয়সা নেই তার পরিবারের। এ তথ্য জেনে তাদের পাশে দাঁড়ালেন আব্দুর রহমান।
ভুপেন্দ্র নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার খালিশা চাপানী ইউনিয়নের দিঘির পাড় গ্রামের মতিলাল অধিকারী ও বাসন্তী অধিকারীর সাত সন্তানের মধ্যে পঞ্চম। তিন ভাইয়ের মধ্যে সে সবার ছোট। বড় দুই ভাই রিকশা চালান।
ভুপেন্দ্রর বাবা মতিলাল অধিকারী একজন বাদাম বিক্রেতা এবং মা গৃহিণী। এতদিন বাদাম বিক্রি করেই তিনি ভূপেন্দ্রর পড়াশোনার খরচ চালিয়েছেন। এখন বয়স হওয়ায় বাদামের ব্যবসা করার সক্ষমতাও তার আর নেই।
ভুপেন্দ্র অধিকারী বলেন, জননেতা আব্দুর রহমান স্যারকে ধন্যবাদ। তার জন্য আমার স্বপ্ন পূরণের বাঁধা দূর হলো।
তিন ভাই ও চার বোন মিলে ভূপেনরা মোট সাত ভাইবোন। ভাইদের মধ্যে সে সবচেয়ে ছোট। তার বড় ভাইয়েরা পড়ালেখা করেনি। তারা তাদের পরিবার নিয়ে নিজেরাই হিমশিম খাচ্ছে। তারা দুজনই ঢাকা ও বগুড়ায় রিকশা চালান। অন্যদিকে তিন বোনের বিয়ে হয়েছে। ছোটবোন পুস্পমিতা অধিকারী ৫ম শ্রেণিতে পড়াশুনা করে।
হতদরিদ্র পরিবারের সন্তান ভুপেন্দ্র ছোটবেলা থেকেই লেখাপড়ায় ভীষণ আগ্রহী। সে ডালিয়া চাপানী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২০১৮ সালে এসএসসি পাস করে। পরবর্তীতে রংপুর সরকারি কলেজ থেকে ২০২০ সালে এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়।
ভুপেন্দ্রর বাবা মতিলাল অধিকারী বলেন, ছেলেটাকে ঠিকভাবে লেখাপড়ার খরচ দিতে পারিনি। তারপরও সে নিজের আগ্রহ ও কঠিন পরিশ্রমে লেখাপড়া অব্যাহত রেখেছে। এখন ছেলে মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েছে। কিন্তু মেডিকেল কলেজে ভর্তি হতে অনেক টাকা-পয়সা লাগবে। এত টাকা কিভাবে জোগাড় করবো তা ভেবে পাচ্ছিলাম না। তখন নেতা রহমান সাহেব আমাদের পাশে দাঁড়ালেন । ভগবান তার মঙ্গল করুন।
Leave a Reply