1. tanvirinternational2727@gmail.com : NewsDesk :
শুক্রবার, ০৭ মে ২০২১, ০৪:১২ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
সাবেক বাঁশখালী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ জহিরুল ইসলামকে গ্রেফতার করেছে ডিবি পুলিশ। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করতে দেশে ফিরে আসেন এইদিনে শেখ হাসিনা গোপালপুরে ‘ঈদ উপহার’ পেয়ে খুশি তৃতীয় লিঙ্গের অসহায়রা জীবননগরে “আমাদের জীবননগর” গ্রুপ থেকে সদাকাতুল ফিতর বিতরণ। ব্রাহ্মন বাড়িয়ার নাসিরনগরে ফান্দাউক ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক রাহুল রায়ের নেতৃত্বে ইফতার বিতরন ঘুষ গ্রহনের অভিযোগে নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী থানার এসআই ক্লোজ নড়াইলের কুমড়ি এলাকা পুরুষ শুন্য পাকা ধান কাটছে মহিলারা ময়মনসিংহের ভালুকায় স্কুলছাত্রী নিহত ব‌রিশালসহ বালা‌দেশ মে‌রিন একা‌ডে‌মির ৪‌টি ক‌্যাম্পাস উ‌দ্বোধন ত্রিশাল হেল্পলাইনের উদ্যোগে সচেতনতা মূলক স্টিকার এবং মাস্ক বিতরণ

পাবনায় অপহরণের দু’ঘণ্টার মাথায় উদ্ধার করল পুলিশ

  • সময় : শুক্রবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২১
  • ২৭৯

পার্থ হাসান,পাবনা:

অপহরণকারীদের জিম্মি হতে শাহাদৎ মোল্লা (৪০) নামে এক অসহায় পেঁয়াজ ব্যবসায়ীকে অপহণের পর অভিযোগের ২ ঘন্টার মাথায় উদ্ধার করেছে পাবনার পুলিশ। এ ঘটনায় মূল হোতা মিরাজুল ইসলাম শেখ (২৮) নামে একজনকে আটক করা হয়েছে।

আটককৃত মিরাজুল শেখ সদর উপজেলার গয়েশপুর ইউনিয়নের শালাইপুর গ্রামের আব্দুর রশিদ শেখের ছেলে ও গয়েশপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোতাহার হোসেন মুতাই’র নাতি। ঘটনার দুইদিন পর বৃহস্পতিবার (১৫ এপ্রিল) তাকে আটক করা হয়। শুক্রবার (১৬ এপ্রিল) বিকেলে কারাগারে পাঠানো হয়।

গ্রাম অঞ্চলের অতিসাধারণ এক মহিলা আলেয়া বেগমের উপস্থিত বুদ্ধি ও পাবনার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মহিবুল ইসলাম খানের দ্রুত পদক্ষেপে এই উদ্ধার কাজ সফল হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা পুলিশ।
এ ঘটনার পরে পাবনার সর্ব মহলে প্রশংসায় বাসছেন পাবনার পুলিশ সুপার।

অপহৃত ব্যবসায়ী পাবনার আটঘরিয়া থানার লক্ষিপুর গ্রামের মৃত দিরাজ মোল্লার ছেলে, সাধারণ পেঁয়াজ ব্যবসায়ী। পাবনার বিভিন্ন হাটবাজারে পেঁয়াজ ক্রয় করে আবার বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করেন।

পাবনার পুলিশ সুপারের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এক স্ট্যাটাসের মাধ্যমে জানা যায়, বুধবার (১৩) এপ্রিল বিকেল ৪ টার দিকে এক বয়স্ক মহিলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এসে কান্নাকাটি শুরু করে, এ সময় মহিলা সব ঘটনা খুলে বলে। পুলিশ সুপার বিষয়টি জানতে পেরে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ মাসুদ আলমকে নির্দেশনা দেন, যে যেকোন মূল্যে তাকে জীবিত উদ্ধার করতে হবে। এসপির নির্দেশনা পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাসুদ আলম, ডিবির এসআই আবু আব্দুল্লাহ জাহিদকে ডেকে নেন এবং দ্রুত ডিবি টিম রেডি করে ফোর্স পাঠিয়ে দেন।
পুলিশ জানায়, ঘটনার দিন সকালে বাড়ী হতে ৫২ হাজার টাকা নিয়ে বের হয় হাজিরহাট যাবার জন্য।

মাঝপথে দুর্বুত্তদের হাতে অপহরণের শিকার হন। তারা ফোন করে আরো ১ লক্ষ টাকা দাবী করে। সাথে সাথেই মহিলাটি পাবনার এসপির শরণাপন্ন হন।
পাবনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাসুদ আলম বলেন, বিকাশের দোকানদার সেজে অপহরণকারীদের সাথে কথা হয় আমাদের, তারা একটি বিকাশ নাম্বার দিয়ে বলে এক লক্ষ টাকা না দিলে তাকে হত্যা করা হবে। সহজ-সরল মহিলা বারবার কান্নাজড়িত কন্ঠে বলছে ওরা টাকা না দিলে আমার স্বামীকে মেরে ফেলবে,স্যার দয়াকরে উদ্ধার করে দেন।

অতিরিক্ত এসপি মাসুদ আলমের নেতৃত্বে ডিবি টিম রওনা হয়। তিনি জানান, এসপি স্যারের মুল নির্দেশনা হলো যেকোনভাবে ভিকটিমকে অক্ষত উদ্ধার করতে হবে। নিশ্চিত হওয়া যায় বিকাশ নাম্বারের মালিক এলাকার খুবই খারাপ লোক ও সেই মুলহোতা। তার বাড়ী পাবনা সদর থানার গয়েশপুর ইউনিয়নের হামিদপুরে, তথ্য সঠিক হওয়ার সাথে সাথে অভিযান, অতিঃএসপি গাড়ী বাদ দিয়ে হোন্ডায় সবার আগে চলে যায়। বিধিবাম গ্রামের শেষ মাথায় প্রায় বিশ বিঘার প্রাচীন পুকুর। পুকুরের ওপারে ভিকটিমকে আটকে রাখছে। পুকুরের পাড় পর্যন্ত প্রায় হাফ কিলোমিটার আমার টিমের সবাই দৌড়ে যায়।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাসুদ আলম আরো জানান, অপহরণকারীরা আমাদের উপস্থিতি টের পেয়ে তাদের ব্যবহৃত হোন্ডা ও ভিকটিম শাহাদাৎ মোল্লাকে ফেলে পালিয়ে যায়। বিশাল পুকুরের কারনেই অপহরণকারী পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। আল্লাহর রহমতে সন্ধা ৬ টায় অসহায় পেঁয়াজ ব্যবসায়ী শাহাদাৎকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

অপহৃত ব্যাবসায়ী শাহাদৎ মোল্লার স্ত্রী আলেয়া বেগম পাবনার এসপিকে ধন্যবাদ দিয়ে বলেন, পুলিশ সুপার স্যার না হলে আমার স্বামীকে পেতাম না। স্বামীকে তারা মেরে ফেলত। স্যারের এই উপকারের কৃতজ্ঞতা আজীবন মনে রাখব। তিনি আরো বলেন, স্বামীকে অপহরণের সাথে সাথে আমি পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে গিয়ে অভিযোগ দেওয়ার সাথে সাথে আমাকে সাহস দিয়েছেন, আপনার স্বামীকে অচিরেই উদ্ধার করা হবে। ভয়ের কোন কারণ নেই বলে আমাকে শান্তনা দেন।

পাবনার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মহিবুল ইসলাম খান বলেন, এই ঘটনার সাথে জড়িত মূলহোতাকে আটক করা হয়েছে। শুক্রবার (১৬ এপ্রিল) বিকেলে আদালতে স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দি দেওয়ার পর কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

তিনি আরো জানান, প্রাথমিক তদন্তে জানা যায় অপহরণকারীরা দীর্ঘদিন যাবৎ অপরাধ করে চলছে। এই চক্রটি টার্গেট অনুযায়ী ব্যবসায়ীদের অপহরণ করে, মহিলা দিয়ে আপত্তিকর ছবি তুলে চাঁদাবাজি করা এই চক্রের কাজ। এই চক্রের সবাইকে ধরতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। আশা করি অচিরেই তাদের চিন্হিত করে আইনের আওতায় আনতে পারব।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের অন্যান্য খবর
©বাংলাদেশবুলেটিন২৪