বরগুনা প্রতিনিধিঃ
দেশে মহামারী করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হয়েছে। প্রতিদিনই করোনায় আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েই চলছে।এক সপ্তাহ ধরে ডিলেডালা লকডাউন চলছেও ব্যাপক লোক সমাগমের উপস্থিতে বসছে সাপ্তাহিক হাটও। কিন্তু পর্যাপ্ত প্রচার- প্রচারনা না থাকায় জনসাধারণের মাঝে নেই কোন জন সচেতনতা।
বরগুনার আমতলীতে সরকার ঘোষিত ১৮ দফা নির্দেশনা বাস্তবায়নের জন্য পৌর শহরে মাইকিং ও মাস্ক বিতরণ ও জরিমানা আদায় করা হলেও প্রত্যন্ত অঞ্চলে করোনা সংক্রমণ রোধে এ নিদের্শনা মানাতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে চোঁখে পড়ার মত কোন পদক্ষেপ নিতে দেখা যাচ্ছে না।একই চিত্র তালতলী উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে করোনা ভাইরাসের নেই কোনো পদক্ষেপ এবং পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে জনসাধারণের মাঝে সচেতনতা মুলক প্রচার করে।দুই একটা মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে।আর কোনো তদারকি থাকে না।জনসচেেতনতা বাড়াতে মানুষের মাঝে কোনো প্রচার প্রচারনা দেখা যাচ্ছে না।করোনা সংক্রমণের হার বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন সচেতন মহল। এছাড়া বিভিন্ন সরকারী ও বে-সরকারী দপ্তরে সেবাদানে বাধ্যতামূলক মাস্ক ব্যবহারের কথা থাকলেও বাস্তবে সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান সেবাগ্রহনকারীর অধিকাংশ ব্যক্তি মাস্ক ব্যবহার করছেন না বলে অভিযোগ একাধিক শিক্ষিত সচেতন মহলের।
দুই উপজেলার গ্রাম এলাকার বিভিন্ন হাট- বাজার ও অলিগলি ঘুরে দেখা গেছে, অনেকেই মানছেন না কোন ধরনের সামাজিক দূরত্ব। রাস্তায় চলাচলরত অধিকাংশ মানুষ মুখে মাস্ক ব্যবহার করছে না। বহু লোক একত্রিত হয়ে সামাজিক দূরত্ব বজায় না রেখে শরীরের সাথে শরীর স্পর্শ করে চায়ের দোকানে বসে আড্ডা দিতে ও চা পান করতে দেখা যায়। সড়ক ও নৌপথে ৬০% ভাড়া বৃদ্ধি পেলেও অভ্যন্তরিন রুটে চলাচলরত যাত্রীবাহি বিভিন্ন যানবাহন ও নৌযানে মানা হচ্ছে না কোন স্বাস্থ্যবিধি। পূর্বেন ন্যায়ই চলছে তাদের যাত্রী পরিবহন। হোটেল রেস্তোরায় মানা হচ্ছে না স্বাস্থ্যবিধি। অধিকাংশ হোটেল রেস্তোরায় নোংরা পরিবেশে খাবার পরিবেশন করতে দেখা যায়। বসছে সাপ্তাহিক হাটও।
আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মোনায়েম সাদ মুঠোফোনে বলেন, করোনা সংক্রমন থেকে নিজেকে রক্ষা করতে হলে জনগমাগম এড়িয়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে এবং সরকার ঘোষিত ১৮ দফা নিদের্শনা পালন করতে হবে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আসাদুজ্জামান মুঠোফোনে বলেন, মহামারী করোনা থেকে সুরক্ষার জন্য সরকার ঘোষিত ১৮ দফা নিদের্শনা পালনের জন্য মাইকিং করেছি। জনসাধারনকে সচেতন করতে মাস্ক বিতরণ ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে জরিমানা আদায় করেছি। গ্রামাঞ্চলের মানুষকে সচেতন করতে ও সরকার ঘোষিত ১৮ দফা বাস্তবায়নে ইউনিয়ন পরিষদকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
তালতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ কাওছার হোসেন, বলেন লকডাউনের নির্দেশ মানার জন্য আমরা সবধরনের চেষ্টা অব্যাহত রেখেছি। আমরা যেদিক দিয়ে যাই সেদিকে স্বাস্থ্যবিধি মানে, সেখান থেকে চলে গেলেই তারা স্বাস্থ্যবিধি ভঙ্গ করে চলে।
Leave a Reply