সাজ্জাদ হোসেন, টাঙ্গাইল প্রতিনিধিঃ
টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার সদর ইউনিয়ন-লাউহাটিসহ ঢাকা-মানিকগঞ্জ জেলায় যোগাযোগের জন্য সড়ক সেতুটি জনগুরুত্বপূর্ণ একটি সেতু। তাছাড়াওঅনেক সময় ঢাকা-টাঙ্গাইল-উত্তরবঙ্গের মহাসড়কে জ্যাম বা যাতায়াতে কোন বিঘ্নতা ঘটলে উত্তরবঙ্গের অগণিত গাড়ি বিকল্প হিসেবে বেছে নেয় এই সড়কটি।
এই এলংজানি নদীটি যেন ফাজিলহাটি ইউনিয়ন তথা পুরো দেলদুয়ার উপজেলাকেই উত্তর-দক্ষিণ দুই ভাগে বিভক্ত করেছে। তাই বলা যাই এই এলংজানি নদীটিরউপর সেতুটি পুরো এলাকার জন্য একটি সেতু বন্ধন।
এলাচিপুর-চরপাড়া বাজারের সন্নিকটে এলংজানি নদীর উপর ১৯৯৫ সালে নির্মিত সেতুটি আজ হুমকির মুখে আছে। যেকোন সময় ঘটতে পারে ভয়াবহ দুর্ঘটনা। হতে পারে অনেক প্রাণের বিনাশসহ অগণিত মানুষের বাড়িঘর, জমি-জমা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ক্ষতি। এরই মধ্যে বিলীন হয়ে গেছে নদীর তীরঘেঁষা অনেক মানুষের বসতভিটা ও ফসলি জমি।
এলাচিপুর দক্ষিণপাড়া ও এলাচিপুর-চরপাড়া বাজারের সংযোগ সেতুটির দক্ষিণ পাশের অবস্থা খুবই ভয়াবহ। সেতুটির দক্ষিণ পাশে নদীসংলগ্ন ফাজিলহাটি ইউনিয়নের এক স্বপ্নবাজ যুবক ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা মোঃ আনোয়ার হোসেন মোল্লার স্বপ্নের প্রতিষ্ঠান এই ইউনিয়নের একমাত্র বেকারি শিল্প যা এই এলাকার অনেকগুলো পরিবারের মানুষের কর্মসংস্থানের উৎস এবং এই এলাকার স্থানীয় একমাত্র বেকারি পণ্যের যোগানদাতা এই শিল্প প্রতিষ্ঠানটি যেকোন মুহূর্তে বিলীন হয়ে যেতে পারে নদী গর্ভে। স্বপ্নের মৃত্যু হতে পারে আরো অনেক ছোট উদ্যোক্তা ও সেতু নিকটবর্তী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কাজ করে খাওয়া মানুষদের।
বেকারি শিল্প ছাড়াও সেতু সন্নিকটে আছে সানোয়ার হোসেন মোল্লা এর রাইসমিল, মাহমুদুল হাসানের ওয়ার্কশপ, সেলুন, চায়ের দোকান, ফার্মেসীসহ প্রায় ১০-১২টি দোকান। সামনে বর্ষাকাল আসার পূর্বেই অর্থাৎ এখনই দরকার একটি সঠিক ও স্থায়ী সমাধান।
স্থানীয় সংসদ সদস্য, ইউনিয়ন প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসনসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট এই অঞ্চলের ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের ছোট ব্যবসা, বসত-বাড়ি, ফসলি জমি ছাড়াও এই জনগুরুত্বপূর্ণ সড়ক সেতু ও এলাচিপুর-চরপাড়া বাজার রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য অনুরোধ রইলো।
Leave a Reply