বিল্লাল হোসেন,যশোর প্রতিনিধি:
যশোরে নতুন করে আরও ৭৪ জনের কোভিড-১৯ নভেল করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এই নিয়ে শনিবার পর্যন্ত জেলায় ৫ হাজার ২শ’ ২৯ জন করোনায় আক্রান্ত হলেন। এদিকে করোনার প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় আইসিইউ সেবা ছাড়া সব ধরনের মোকাবেলায় প্রস্তুত রয়েছে বলে স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। তবে একটি সুত্র বলছে, করোনায় আক্রান্ত রোগীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে অন্যত্র পাঠিয়ে দেয়া ছাড়া যশোরে উন্নত কোন চিকিৎসা ব্যবস্থা নেই।
সিভিল সার্জন অফিসের তথ্য কর্মকর্তা ডা. রেহেনেওয়াজ জানিয়েছেন, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) জেনোম সেন্টার থেকে পাঠানো ১৩০ জনের নমুনা পরীক্ষার ফলাফলে ৬২ জনের করোনা পজেটিভ শনাক্ত হয়। এছাড়া খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) ল্যাব থেকে আসা ৭ জনের নমুনা পরীক্ষার ফলাফলে ২ জনের পজেটিভ এসেছে। একই দিন যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ২৬ রোগীর এন্টিজেন পরীক্ষায় ১০ জনের ফলাফল পজেটিভ আসে। সব মিলিয়ে শনিবার যশোরে ৭৪ জন নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এরমধ্যে। এরমধ্যে যশোর সদর উপজেলায় ৫৩ জন, শার্শা উপজেলায় ৩ জন, ঝিকরগাছা উপজেলায় ১ জন, চৌগাছা উপজেলায় ২ জন, মণিরামপুর উপজেলায় ৪ জন ও অভয়নগর উপজেলায় ১ জন রয়েছেন। জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যশোরে করোনা ভাইরাসের বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবেলা করার প্রস্তুতি আছে। আরও ভয়াবহ পরিস্থিতি আসতে পারে সেই ধারণায় তারা সবদিক গুছিয়ে নেয়ার চেষ্টা করছেন। করোনাভাইরাস সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করতে মাঠে নেমেছে একাধিক টিম। বর্তমানে যশোর জেলায় সাড়ে ৪শ শয্যা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। একজন চিকিৎসক জানিয়েছেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নিয়মানুযায়ী করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের চিকিৎসাসেবা প্রদানের জন্য একজন চিকিৎসক সেবিকা ও কর্মচারির অবশ্যই মেডিকেল মাস্ক, বিশেষায়িত গাউন, হাতের গ্লাভস, চোখের জন্য গোগলস ছাড়াও ক্ষেত্রবিশেষ এন ৯৫ মাস্ক বা সমজাতীয় সুরক্ষা উপকরণের সঙ্গে অ্যাপ্রোণ ব্যবহার করতে হবে। কিন্তু যশোরের অধিকাংশ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এসব উপকরণ পর্যাপ্ত পরিমাণে নেই। নাম মাত্র কিছু মজুদ রয়েছে। এটা অব্যশই উদ্বেগের কারণ। যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. আরিফ আহমেদ জানান, হাসপাতালের স্টোরে শতাধিক পার্সোনাল প্রটেকটিভ ইকুইপমেন্ট (পিপিই) মজুদ রয়েছে। যা দিয়ে আগামী ৩ মাস করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলা সম্ভব। পর্যাপ্ত পরিমাণে পার্সোনাল প্রটেকটিভ ইকুইপমেন্ট উপকরণ পেতে স্বাস্থ্য অধিদফতরের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হয়েছে। উদ্বিগ্ন না হওয়ার পরামর্শ দেন হাসপাতালের এই কর্মকর্তা। যশোরের সিভিল সার্জন ডা. শেখ আবু শাহিন জানিয়েছেন, করোনাভাইরাসের বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবেলায় চিকিৎসক সেবিকা ও অন্যান্য কর্মচারির ব্যবহারের জন্য পার্সোনাল প্রটেকটিভ ইকুইপমেন্ট উপকরণ মজুদ আছে। করোনাভাইরাস মোকাবেলায় মানসিকভাবে প্রস্তুত রয়েছে যশোরের চিকিৎসকরা। তিনি জানান, করোনা রোগীদের জন্য শয্যা প্রস্তÍতের পাশাপাশি পর্যাপ্ত পরিমাণে অক্সিজেন ছাড়া হাইফ্লো সাপোর্ট, কনসেনট্রেটর সাপোর্ট দেয়া সম্ভব। শুধুমাত্র আইসিইউ নেই। তবে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের আইসিইউ চালু করার জন্য চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। সিভিল সার্জন ডা. শেখ আবু শাহিন আরো জানান, ৩ মার্চ ( শনিবার) পর্যন্ত জেলায় ৩০ হাজার ৩শ’ ৪৮ জনের নমুনা পরীক্ষার ফলাফল পেয়েছি। তাতে ৫ হাজার ২শ’ ২৯ জনের করোনা পজেটিভ শনাক্ত হয়েছে। মৃতের সংখ্যা ৭১ জন। সংক্রমণের হার ব্যাপকভাবে বেড়ে যাওয়ায় মাস্ক ব্যবহারের পাশাপাশি স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহবান সিভিল সার্জনের ।
Leave a Reply