বিল্লাল হোসেন,যশোর প্রতিনিধি :
যশোরে কোভিড-১৯ নভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিদিন বাড়ছে। বুধবারও জেলায় নতুন করে করোনাক্রান্ত হয়েছেন ২৮ জন। এছাড়া মৃত্যু হয়েছে আরও একজনের। এই পরিস্থিতিতে সচেতনতা বাড়ার পরিবর্তে মানুষের মাঝে ভয় কমেছে। কোথাও স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে না। মানুষের ভাব দেখে মনে হচ্ছে তারা যেনো করোনাকে ভয় পাচ্ছে না। তবে করোনার সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় জেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে বিভিন্ন নির্দেশনায় জনগণকে সচেতন হওয়ার আহবান জানানো হচ্ছে। এদিকে, বুধবার জেলায় টিকা গ্রহণ করেছেন ১ হাজার ৬শ’ ৫৪ জন।
সিভিল সার্জন অফিসের তথ্য কর্মকর্তা ডা. রেহেনেওয়াজ জানান, বুধবার ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে করোনা সন্দিগ্ধ ২২ জনের র্যাপিড এন্টিজেন পরীক্ষা করা হয়। ফলাফলে ৫ জন নারী পুরুষের শরীরে করোনাভাইরাসের অস্তিত্ব পাওয়া যায়। একই দিন যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) জেনোম সেন্টার থেকে ১৮০ জনের নমুনা পরীক্ষার ফলাফল আসে। তাতে ২৩ জনের পজেটিভ শনাক্ত হয়েছে। করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত ব্যক্তির নাম কায়সার হাসান (৫৫)। তিনি শহরের বেজপাড়া এলাকার বাসিন্দা। তিনি আরও জানান, এদিন যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল কেন্দ্রে ৩৯৫ জন , মেডিকেল কলেজ কেন্দ্রে ১০ জন, ,বিমান বাহিনী কেন্দ্রে ৭৩ জন, যশোর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) কেন্দ্রে ৬০ জন, পুলিশ হাসপাতালের কেন্দ্র থেকে মোট ৯ জন, শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কেন্দ্রে থেকে ১০০ জন, ঝিকরগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কেন্দ্র থেকে ১৪০ জন, চৌগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কেন্দ্র থেকে ১৫৭ জন, মণিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কেন্দ্র থেকে ২৫০ জন, কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কেন্দ্র থেকে ১৪০ জন, বাঘারপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কেন্দ্র থেকে ২১০ জন ও অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কেন্দ্র ১১০ জন জন টিকা গ্রহণ করেন। মোট ১ লাখ ১৬ হাজার ৮শ ৮৬ জন টিকা গ্রহণকারীদের মধ্যে পুরুষ ৭৪ হাজার ৬শ’ জন ৬৬ ও মহিলা রয়েছেন ৪২ হাজার ২শ’ ২০ জন। যশোরের সিভিল সার্জন ডা. শেখ আবু শাহীন জানান, ৩১ মার্চ পর্যন্ত জেলায় ৩০ হাজার ৪১জনের নমুনা পরীক্ষার ফলাফল পেয়েছি। তাতে ৫ হাজার ১শ’ ১৬ জনের করোনা পজেটিভ শনাক্ত হয়েছে। মৃতের সংখ্যা দাঁড়ালো ৬২ জনে। সিভিল সার্জন আরও জানান, করোনার সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় জনগণকে সচেতন হওয়ার জন্য জেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে নির্দেশনা জারি করা হচ্ছে। আবার স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার জন্য একের পর এক আহবান জানানো হচ্ছে। কিন্তু জনগণ মানছেন না। বর্তমান চিত্র দেখে মনে হচ্ছে মানুষ স্বাস্থ্যবিধি মানার বিষয়টি ভুলে গেছেন। সরকারি স্বাস্থ্যবিধি না মানলে করোনা পরিস্থিতি আরো বাড়ার আশংকা রয়েছে।
Leave a Reply