স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, রংপুর:
রংপুর সিটি কর্পোরেশন ও মেট্রোপলিটন পুলিশের এলাকায় অনুমোদনহীন নকল ও ভেজাল শিশু খাদ্যপণ্যের ছয়লাব।
আইনি নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করেই অবৈধভাবে প্রাণ ও বিডি ফুডস ব্রান্ডের নকল মোড়ক ব্যবহার করে,নিরাপদ খাদ্য ও স্বাস্থ্য সুরক্ষার আইন ও বিধিমালা কে বৃদ্ধাঙ্গুল দেখিয়ে,মেট্রোপুলিশ প্রশাসনের চোখকে ফাঁকি দিয়ে বাজারজাত করা হয় ভেজাল শিশু খাদ্য।
রংপুর মহানগরীর রাধাকৃষ্ণপুর নজিরেরহাট এলাকার স্থানীয় ব্যবসায়ী কাদের মিয়ার পুত্র সুমনের দুই বছরের শিশু, রাফাতের তিন বছরের শিশু ইয়াসিন সহ কয়েকজন শিশু অসুস্থ ঘটনা ঘটে।অভিভাবকদের দেয়া তথ্যমতে, প্রাণের আইসপপ, রোবট ,জিরো চিপস খাদ্য খেয়ে হঠাৎ তাদের শিশু বমি পাতলা পায়খানা সহ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে বর্তমানে শিশুরা চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছে।
স্থানীয়দের দেয়া তথ্যমতে, রংপুর নজিরহাট এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা রোব্বানীর বাসার ভাড়াটিয়া মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তফা দীর্ঘদিন ধরে নকল ও ভেজাল শিশু খাদ্য পণ্য উৎপাদন ও সরবরাহ করে আসছেন।
স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও গণ্যমান্য ব্যক্তির সহায়তায় সোমবার রাতে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়,মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তফা ও তার স্ত্রী রোব্বানীর ভাড়া বাসায় নামিদামি ব্র্যান্ডের নকল মোরগ ও শিশু খাদ্য উৎপাদন ও সরবরাহ কাজে লিপ্ত।এ সময়
স্থানীয় ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক রবিউল ইসলাম,প্রচার সম্পাদক মোজা ঘটনাস্থলে বলেন, দীর্ঘদিন থেকে তারা প্রাণ বিডি ফুডস সহ নামিদামি ব্র্যান্ডের আইস পপ রোবট জিরো চিপস চানাচুর সহ বিভিন্ন ধরনের শিশু খাদ্য পণ্য উৎপাদন ও সরবরাহ করে থাকে এসব নকল ও ভেজাল শিশু খাদ্য পণ্য উৎপাদন ও বিক্রির অভিযোগে গেল বছরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারে জেলও খেটেছেন তারা কিন্তু জেল থেকে বের হয়ে আবারো একই অপরাধে জড়িত হয়ে পড়েছে।
সম্ভবত, প্রশাসনের অসাধু কোন কর্তৃপক্ষের জোরালো মদদ রয়েছে বলে জানান তারা।
সরকার দলীয় নেতাকর্মী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সহায়তায় ঘটনাস্থলে গণমাধ্যম কর্মীদের উপস্থিতি টের পেয়ে এবং গন্যমান্য ব্যক্তিদের তোপের মুখে পড়ে রোব্বানীর ভাড়া বাসা থেকে সটকে পরে অবৈধ পণ্য উৎপাদনকারী মোস্তাফিজুর রহমান ও তার স্ত্রী।
পরে ঘটনাস্থল থেকে রংপুর মেট্রোপলিটন গোয়েন্দা বিভাগের কর্মকর্তা অতিরিক্ত উপ পুলিশ কমিশনার উত্তম প্রসাদ পাঠক কে মুঠোফোনে বিষয়টি জানানো হলে, এ বিষয়ে তিনি দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন।
তার কিছুক্ষণ পরপরই স্থানীয় বাসিন্দা মন্জু মহুরি হাজির হাট থানার কর্মকর্তা মুঠোফোনে বিষয়টি অবগত করলে, তিনি তেমন কোন আশ্বাস প্রদান করেননি বরং বিষয়টি পরে দেখবো বলে জানিয়েছেন।
এছাড়া ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের নেতাকর্মী ও স্থানীয় বাসিন্দারা হাজির হাট থানার কর্মকর্তাকে দ্রুত বিষয়টি পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানান কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।
দ্রুত এসব ভেজাল শিশুখাদ্য উৎপাদন ও সরবরাহের বিরুদ্ধে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের জরুরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন সুশীল সমাজের ব্যক্তিত্বরা সঙ্গে আইনের সঠিক প্রয়োগ বাস্তবায়নসহ এসব অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা প্রয়োজন বলেও মনে করেন সংশ্লিষ্টরা
Leave a Reply