বুধবার, ০১ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:১৭ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম :
প্রচারেই প্রসার, প্রতিষ্ঠানের জন্য বিজ্ঞাপন দিন, যোগাযোগঃ 01764934214 ঠিকানাঃ ৮৯, কাকরাইল, গ্রীন সিটি এজ, ১১ তলা, ঢাকা-১২১৫, মোবাইল:01764934214, 01716035712 ইমেইল:newsroom@bangladeshbulletin.com
শিরোনাম :
ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে প্রতি শনিবার সারাদেশে পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানোর আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর অমর একুশে বইমেলা ২০২৬ উদ্বোধন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ের পর আজ সংবাদ সম্মেলন করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সহিংসতা ও গুজব বরদাশত করা হবে না: জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচন: ২৯৯ আসনে ভোট, সব প্রস্তুতি শেষ ইসির স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে একটি আধুনিক, বাসযোগ্য ও জনবান্ধব রাজশাহী মহানগর গড়ে তোলা হবে-মিনু খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনায় ডেসকো জিয়া পরিষদের বিশেষ দোয়া মাহফিল স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে  আলোকচিত্র প্রদর্শনী “ আনটোল্ড” অনুষ্ঠিত আনিনুল হক’কে ঢাকা-১৬ আসন উপহারের ঘোষনা বুলবুল হক মল্লিকে’র বোয়ালমারীতে বিএনপি’র দুই গ্রুপের সংঘর্ষের আশঙ্কা, এলাকাজুড়ে চরম উত্তেজনা
যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে চিকিৎসাসেবায় কলঙ্ক পিছু ছাড়ছেনা

যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে চিকিৎসাসেবায় কলঙ্ক পিছু ছাড়ছেনা


বিল্লাল হোসেন, যশোর প্রতিনিধি:


যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে মায়ের পেটে আটকে থাকা সেই নবজাতকের মাথা বের করা হয়েছে। রোববার গাইনী বিভাগের কনসালটেন্ট ডা. নার্গিস আক্তার। চিকিৎসক সেবিকার অনুপস্থিতিতে আয়া গৃহবধূর সন্তান প্রসবের সময় নব নবজাতকের পা ধরে টেনে ছিড়ে আনার ঘটনা পৈশাচিক হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন অনেকেই। হাসপাতালের সংশ্লিষ্ট অনেকেই সেই রাতে গাইনী ওয়ার্ডে দায়িত্বরত চিকিৎসক ও সেবিকাকে তিরস্কার করেছেন। এই ঘটনার আগে গাইনী ওয়ার্ডে সন্তান প্রসবের পর জীবিত নবজাতককে মৃত ঘোষণা করে সমালোচিত হয়েছিলেন এক আয়া। এছাড়া সুইপার ও এমএলএসএস দিয়ে রোগীর অস্ত্রোপচারের রেকর্ড রয়েছে। সরকারি এই হাসপাতালের চিকিৎসাসেবায় কলঙ্ক যেন পিছু ছাড়ছেনা।
হাসপাতালের প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে, যশোরের বেনাপোল পোর্ট থানার গাজীপুর গ্রামের ইয়াকুব আলীর স্ত্রী আন্না বেগমের পেট থেকে নবজাতকের মাথা বের করার পর তিনি সুস্থ আছেন। তার চিকিৎসাসেবা চলছে। কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে রোগীর নিয়মিত চিকিৎসাসেবার খোঁজ নেয়া হচ্ছে। সূত্র জানায়, শুক্রবার রাত আড়াইটার দিকে হাসপাতালে আন্নাকে ভর্তি করা হয়। শনিবার রাতে আন্নার গর্ভে থাকা ছেলের দুই পা বেরিয়ে আসলে ওই ওয়ার্ডে দায়িত্বরত আয়া মোমেনা রোগী আন্নাকে ওটিতে নিয়ে যান। চিকিৎসক সেবিকার অনুপস্থিতিতে আয়া মোমেনা নবজাতকের দুই পা ধরে টানাটানি করার সময় গলা থেকে ছিড়ে চলে আসে। বাকী অংশ অর্থাৎ মাথা গৃহবধূর পেটের মধ্যে থেকে যায়। ঘটনার পর থেকে বহিরাগত আয়া মোমেনা হাসপাতালে দায়িত্বে পালনে আসেননি। এই ঘটনায় বিভিন্ন পত্রিকায় খবর প্রকাশের পর তোলপাড় হয়। হাসপাতালের কয়েকজন সিনিয়র চিকিৎসক ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। ঘটনার সময় অবশ্যই সেখানে ওয়ার্ডে দায়িত্বরত চিকিৎসক ও সেবিকার উপস্থিত থাকা প্রয়োজন ছিলো। একজন আয়া সন্তান প্রসবের দায়িত্বে থাকতে পারেন না। কি কারণে দায়িত্বরত চিকিৎসক ও সেবিকা অনুপস্থিত ছিলো এটা বোধগম্য নয়। কতিপয় চিকিৎসক সেবিকা ও কর্মচারীর কারণে হাসপাতালের সুনাম হারাচ্ছে। হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. আরিফ আহমেদ জানান, রোববার তত্ত্বাবধায়ক স্যার ছুটিতে ছিলেন। সোমবার তিনি কর্মস্থলে ফিরে এই বিষয়ে তদন্ত কমিটি গঠন ছাড়াও অন্যান্য বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন। এদিকে, খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এই ঘটনার আগে যশোর শহরের খোলাডাঙ্গার ফারুক হোসেনের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী সালমা খাতুনকে (২৮) অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালের গাইনী ওয়ার্ডে ভর্তির পর প্রসব যন্ত্রনা শুরু হয় । তখন স্বজনরা সেবিকা ও চিকিৎসককে ডাকাডাকি করলেও কেউ তাদের সাড়া দেননি। চিকিৎসক সেবিকার অনুপস্থিতিতে ওয়ার্ডে দায়িত্বরত আয়া আয়া হেলেনা রোগী সালমাকে ডেলিভারী কক্ষে নিয়ে যান। সেখানে সন্তান প্রবব হয়। সন্তান  নড়াচড়া বা কান্নাকাটি না করায়  মৃত হিসেবে  শিশুটিকে কাপড়ে পেচিয়ে ওই বেডের নিচে রেখে দেন আয়া হেলেনা। পরে রাত সাড়ে সাতটার দিকে শিশুর কান্নার শব্দ পান স্বজনরো। এ সময় বেডের নিচ থেকে শিশুটিকে কাপড় জড়ানো অবস্থায়  অবস্থায় উদ্ধার করে শিশু ওয়ার্ডে নিয়ে যান চিকিৎসার জন্য । এই ঘটনায়  স্বজনদের সাথে আয়া ও সেবিকাদের মধ্যে হট্টগোল হয়। স্বজনদের অভিযোগ, সন্তান প্রসবের সময় চিকিৎসক ও সেবিকা উপস্থিত না থাকার কারণেই এই অনাকাংখিত ঘটনা ঘটেছিলো। এছাড়া বিগত দিনে এই হাসপাতালের সুইপার  কৃষ্ণ ও এমএলএসএস মনির হোসেন রোগীকে অস্ত্রোপচার করেও ব্যাপকভাবে সমালোচিত হয়েছেন। যশোর শহরের পোস্ট অফিস পাড়ার রফিকুল ইসলামের ছেলে পাপনকে (৬) চিকিৎসকের অনুপস্থিতিতে মাথায় অস্ত্রোপচার করেছিলেন ওই দুই কর্মচারী। চিকিৎসক কর্মচারীর অবহেলায় অস্ত্রোপচারের আরাবি নামে এক শিশু রোগীর পাও পুড়নো হয়েছিলো এই হাসপাতালে। এমন নানা অনাকাংখিত ঘটনা ছাড়াও বিনা চিকিৎসায় একাধিক রোগীর মৃত্যু অভিযোগ রয়েছে। এসব ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন হলেও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। ফলে এখানকার চিকিৎসাসেবায় কলঙ্ক লেগেই আছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




©বাংলাদেশবুলেটিন২৪
Design & Developed BY ThemesBazar.Com