কাওসার হামিদ,তালতলী(বরগুনা)প্রতিনিধি ঃ
বরগুনার তালতলী উপজেলার নিশানবাড়ীয়া ইউনিয়নের মৌরভী গ্রামে মাছ চাষের সুবিধার্থে এক মৎস্য চাষি খাল দখল করে কালভার্ট নির্মাণ করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। মৌরভী গ্রামের বাসিন্দা মৎস্য চাষি জাহাঙ্গীর এ কালভার্ট নির্মাণ করছেন।
এ গ্রামের বাসিন্দা এমাদুল হক জানান, মৌরভী গ্রামে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) কর্তৃক একটি খাল খননের কাজ চলতেছে, প্রায় অর্ধেক কাজ শেষ হয়ে গেছে, এখনো কাজ চলমান রয়েছে। অথচ সেই খালেই স্থানীয় জাহাঙ্গীর নামের এক প্রভাবশালী ব্যক্তি খালটির মাঝখানে কালভার্ট নির্মাণ করছেন। মাছ চাষের সুবিধার্থে এই কাজ করছেন বলে এলাকাবাসীর দাবি। এর ফলে খালটি সংকুচিত হওয়াসহ এর পানিপ্রবাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা।
কিন্তু খালটি দখলমুক্ত করতে প্রশাসন কোনও ব্যবস্থা নিচ্ছেন না।
ওই এলাকার একাধিক কৃষকের অভিযোগ, জাহাঙ্গীর দীর্ঘদিন ধরে খাল দখল করে মাছ চাষ করছেন। তার কারণে বৃষ্টির দিনে পুরো এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়ে। গ্রামের অধিকাংশ কৃষকরা চাষাবাদ করতে পারছেন না। আর শুকনো মৌসুমে ওই খাল থেকে ফসলি জমিতে কৃষকরা পানি সেচ দিতে পারছে না।
জানা গেছে, মৌরভী গ্রামের ওই খালটি স্থানীয় মৎস্য চাষি জাহাঙ্গীর ও তার ভাই বিল্লাল দীর্ঘদিন ধরে দখল করে মাছ চাষ করছেন। এতে এলাকায় কৃষকরা চাষাবাদ করতে পারছেন। পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে গেছে তাই জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয় কোথাও থেকে পানি নামছে না। এই দুর্ভোগ পোহাচ্ছে কয়েক গ্রামের মানুষ।
শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সরেজমিন দেখা যায়, মৌরভী গ্রামের ওই খালটির মাঝখানে কালভার্ট নির্মাণের কাজ চলছে। শুকিয়ে যাওয়া খালটির তলায় কালভার্টের ভিত্তি নির্মাণ করা হয়েছে।
এ সময় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, জাহাঙ্গীর মাছ চাষের সুবিধার্থে খালের উপর কালভার্ট নির্মাণ করছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে জাহাঙ্গীর বলেন, কারো কাছ থেকে অনুমতি নেয়া হয়নি, নিজ উদ্যোগে বিশাল বড় কালভার্ট তৈরি করে দিচ্ছি এলাকার উন্নয়নের স্বার্থে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা জানান, জাহাঙ্গীর প্রভাবশালী হওয়ায় কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পাচ্ছেন না। প্রতিবাদ করলেও লাভ হবে না। তার পক্ষে প্রশাসনের সমর্থন রয়েছে।
তালতলী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান রেজবি উল কবির জানান, ব্যক্তিগতভাবে কেউ খাল দখল করে মাছ চাষ করতে পারবে না।
জেলার পাউবো নির্বাহী প্রকৌশলী মো. কায়সার দৈনিক অধিকারে জানান, খাল দখল করে যদি কেউ কালভার্ট নির্মাণ করে তাহলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তালতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আসাদুজ্জামান জানান আমার কাছে লিখিত অভিযোগ দিলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
Leave a Reply