বিল্লাল হোসেন,যশোর প্রতিনিধি:
যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে সাইকেল স্ট্যান্ড তৈরি করে বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। ইজারা ছাড়াই কৌশলে এই স্ট্যান্ড করে লাভবান হচ্ছে কর্মচারীদের একটি চক্র। এখান থেকে লাখ লাখ টাকা আয় হলে সরকার রাজস্ব বঞ্চিত হচ্ছে। হাসপাতালের কর্মচারী সমিতির নেতাদের ছত্রছাত্রায় স্ট্যান্ডটি নিয়ন্ত্রন করছেন আঞ্জুয়ারা ওরফে আঞ্জু নামের এক কর্মচারী। আয়ের টাকা ভাগাভাগি করে নিচ্ছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দুই যুগ আগে আগে হাসপাতালের কর্মচারীদের জন্য বাইসাইকেল স্ট্যান্ড করা হয়। একটি টিনের ছাউনি দিয়ে হাসপাতালের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীরা এই স্ট্যান্ড তৈরি করে। সেখানে বিনা টাকায় নিরাপদে সাইকেল রাখতেন কর্মচারীরা। সূত্র জানায়, এই সুযোগ কাজে লাগায় কর্মচারী সমিতির নেতারা। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ইজারা না নিয়ে কৌশলে তারা সাইকেল স্ট্যান্ডকে যানবাহনের স্ট্যান্ড তৈরি করেছে। বছরের পর বছর এটি যানবাহনের স্ট্যান্ড হিসেবে চলে আসছে। এখানে বাই সাইকেল মোটরসাইকেলের পাশাপাশি রাখা হয় ইজিবাইক ও আলমসাধু। স্ট্যান্ডের প্রধান দায়িত্বে রয়েছেন আঞ্জুয়ারা ওরফে আঞ্জু। তার সহযোগী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন দুইজন নারী পুরুষ। স্ট্যান্ড পরিচালনায় সহযোগিতায় রয়েছেন কর্মচারী সমিতির নেতারা। কর্মচারীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, স্ট্যান্ডে বাইসাইকেল থেকে ৫ টাকা মোটরসাইকেল থেকে ১৫ টাকা, ইজিবাইক ও আলমসাধু থেকে নেয়া হয় ২০ টাকা করে। স্ট্যান্ডে সবচেয়ে বেশি রাখা হয় মোটরসাইকেল। সূত্র জানায়, প্রতিদিন সকাল সাড়ে ৭ টা থেকে রাত ৯ টা পর্যন্ত ৪/৫ শ’ সাইকেল রাখা হয়। অন্যান্য যানতো রয়েছেই। প্রতি মাসে লাখ টাকার বেশি আয় হলেও সরকারের রাজস্বখাতে কোন টাকা দেয়া হচ্ছে না। শুধুমাত্র হাসপাতাল মসজিদে সহায়তার নামে মাসে ৭ হাজার টাকা দেয়া হয়। বাকি টাকার মধ্যে বাকি দুইজন কর্মচারীর বেতন ১৪ হাজার, কর্মচারী সমিতির নামে ৩ হাজার ও হাসপাতালের অফিস খরচ বাবদ দেয়া হয় ২ হাজার টাকা। সবমিলিয়ে প্রতি মাসে স্ট্যান্ড থেকে আয় হওয়া লক্ষাধিক টাকার মধ্যে ব্যয় হয় ২৬ হাজার টাকা। বাকি টাকার কোন হিসাব নেই। অভিযোগ উঠেছে, ব্যয় ২৬ হাজার টাকা বাদে মোটা অংকের টাকা ভাগাভাগি করে নিচ্ছে কর্মচারী সমিতির কতিপয় নেতা। ইজারা ছাড়াই সরকারি হাসপাতালে সাইকেল স্ট্যান্ড তৈরি করে নেতাদের বাণিজ্য বিভিন্ন মহলকে রীতিমতো অবাক করেছে। কর্মচারী সমিতির এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, সমিতির নামে সাইকেল স্ট্যান্ড পরিচালনা করা হলেও লাভবান হচ্ছেন একটি চক্র। ঠিকাদারের মাধ্যমে সাইকেল স্ট্যান্ড ইজারা দিলে সরকার লাখ লাখ টাকা রাজস্ব পেতো। যশোর শহরের একজন ঠিকাদার জানান, তাকে যদি সাইকেল স্ট্যান্ড ইজারা দিতো তাহলে মসজিদে ৭ হাজারের দ্বিগুণ টাকা মসজিদে সহায়তা করতাম। হাসপাতালের একটি সূত্র জানিয়েছে, এক সময় সরকারি কর্মচারীদের সাইকেল রাখার জন্য স্ট্যান্ড তৈরি করা হয়। কিন্তু এখন শহরের সবচেয়ে বড় সাইকেল স্ট্যান্ড হিসেবে পরিচিতি পেয়েছি। এই স্ট্যান্ডকে ঘিরে চলছে একটি চক্রের বাণিজ্য। বিষয়টি নিয়ে কথা হলে হাসপাতালের ৪র্থ শ্রেণির কর্মচারী সমিতির সভাপতি আবুল কালাম আজাদ সাংবাদিকদের জানান, প্রতি মাসে স্ট্যান্ড থেকে আয় হওয়া ২৬ হাজার টাকার হিসাব ছাড়া আমার কিছু জানা নেই। হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. আরিফ আহমেদ জানান, সাইকেল স্ট্যান্ড নিয়মের মধ্যে চলছিলো বলে জানতাম। অনিয়ম থাকলে তা সংশোধন করে নিয়মের মধ্যে আনা হবে। হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. দিলীপ কুমার রায় জানান, হাসপাতালের সাইকেল স্ট্যান্ড নিয়ে তেমন কিছু জানা নেই। খোঁজ নিয়ে দেখবেন।
Leave a Reply