গাজীপুর প্রতিনিধি
গাজীপুরের কালিয়াকৈর ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগে ডা. জয়নাল আবেদীন (৬১) নামের এক লেখক ও পল্লী চিকিৎসকের লাশ সামাজিক কবরস্থানে দাফনে বাধা দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
মৃত লেখক কালিয়াকৈর উপজেলার মহরাবহ এালাকার মৃত. বরকত আলীর ছেলে। তিনি একাধারে লেখক, কলামিস্ট, মানবাধিকার কর্মী ও পল্লী চিকিৎসক ছিলেন।
মঙ্গলবার (০২ ফেব্রুয়ারী)সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করে কালিয়াকৈর থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) রাজিব চক্রবর্ত্রী জানান, বিষয়টি নিয়ে শেষ পর্যাভয়ে এলাকার লোকজনই সমাধান করেছে। তবুও ঘটনার কথা শুনে থানার একজন পাঠানো হয়েছিল। গতকাল সোমবার (০১ ফেব্রুয়ারী) সকালে উপজেলার আটাবহ ইউনিয়নের মহরাবহ গ্রামে এ ঘটনা ঘটে বলেও জানান পুলিশের ওই কর্মকর্তা।
স্থানীয়রা জানায়, লেখক ও পল্লী চিকিৎসক জয়নাল আবেদীন হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে সাভার এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন ছিলেন। গত রোববার (৩১ জানুয়ারী) বিকেলে তিনি তার নিজ গ্রাম মরকাবহে মৃত্যুবরণ করেন। পরদিন সকাল ১১টায় তার নামাজে জানাযার সময় নির্ধারণ করেন গ্রামবাসী ও পরিবারের সদস্যরা। নির্ধারিত সময়ে পরিবারের লোকজন, গ্রামবাসী ও স্বজনরা তার লাশ মহরাবহ সামাজিক কবরস্থানে নিয়ে যান। এ সময় স্থানীয় মসজিদের ইমামসহ কয়েকজন সেখানে হাজির হন। তাদের দাবি মৃত. ডা. জয়নাল আবদীন জীবিত থাকাকালে নিজের লেখা ‘আমি মিকাইল বলছি’ বইতে এবং বিভিন্ন সময় ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হেনেছেন। তাই তার লাশ কবরস্থানে দাফন করা যাবে না বলে জানান তারা। এ সময় লাশ দাফনে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের মধ্যে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে কালিয়াকৈর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে।
স্থায়ীয় ইউপি সদস্য আক্তার হোসেন জানান, নিহতের বাড়ি গিয়ে ওই কবরস্থানে লাশ দাফন করতে বলা হয়েছে এবং কবরের জায়গাও দেখিয়ে দেওয়া হয়েছিল।কিন্তু কয়েকজন হুজুর, মাদ্রাসা ছাত্র ও যুবক করবস্থানে গিয়ে লাশ দাফনে বাধা দেয়। পরে তাদের বুঝিয়ে লাশ ওই কবরস্থানেই দাফন করা হয়েছে।
Leave a Reply