গাইবান্ধা প্রতিনিধি
গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জে ভ্যান চালক হামিদুল ইসলাম হত্যাকাণ্ডের মূল আসামি সহ ৩ জনকে গ্রেফতার করেছে গাইবান্ধা র্যাব ক্যাম্প-১৩ এর সদস্যরা।
বুধবার বিকেলে জেলা পরিষদের গাইবান্ধা র্যাব ক্যাম্প ১৩ এর কোম্পানি অধিনায়ক লেঃ কমান্ডার আব্দুল্লাহ আল মামুন সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের বিষয়টি জানান।
জানা গেছে- চলতি সালের ২৪ জানুয়ারি রাত ৯টা ৩৫ মিনিট পর থেকে ২৫ জানুয়ারি সকাল ৭ টার মধ্যে যে কোন সময় গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার রাখাল বুরুজ এর মিয়াপাড়া সাকিনের জনৈক রিপন মিয়ার ডোবায় ভ্যান চালক হামিদুল ইসলাম (৩৬) কে মেরে লাশ কচুরিপানার ভিতর ফেলে রেখে যায়। পরে এলাকাবাসী পুলিশকে সংবাদ দিলে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে। পরে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে নিউজ প্রচার হলে গাইবান্ধা র্যাব-১৩ এর অভিযানিক দল বিভিন্ন তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে হত্যা মামলার তথ্য উদঘাটন সহ আসামী সনাক্তকরণের উদ্দেশ্যে ২৫ ও জানুয়ারি দিনরাত অভিযান চালিয়ে হামিদুলের ভ্যান উদ্ধার পূর্বক মূল আসামি ভ্যান বিক্রয়কারী এবং চাঞ্চল্যকর প্রধান আসামী সাইদুর রহমান (৩৬), সাইফুল ইসলাম (৩২), হাসিফুল কে সুন্দরগঞ্জ এর বেলকা বাজার এর ভাড়াকৃত বাসা থেকে ২৭ জানুয়ারি ভোর ৫ টায় গ্রেফতার করে। এতে করে পেনাল কোড ১৯৮০ সালের ৩০২/২০১/৩৪ ধারায় আসামিদের বিরুদ্ধে ২৫/১/২০২১ ইং তারিখে মামলা হয়। যার মামলা নং-২৫। উল্ল্যেখিত আসামি সাইদুর রহমান গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার মাদারদহ গ্রামের মৃতঃ আব্দুর রহমান, সাইফুল ইসলাম সুন্দরগঞ্জ উপজেলার পূর্ব চন্ডিপুর গ্রামের মৃতঃ গোলে হোসেন এর পুত্র এবং হাসিফুল একই উপজেলার মৃতঃ আশরাফ বেপারী এর পুত্র।
উল্লেখ্য, চলতি সালের ২৪ জানুয়ারি আনুমানিক রাত ৯টায় গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার মহিমাগঞ্জ ইউনিয়ন হতে ভ্যান চালক হামিদের ভ্যানে করে আসামিরা ঘুমের ঔষধ এবং বিষাক্ত নেশা জাতীয় পদার্থ যেয়ে রাখালব্রুজ মিয়াপাড়া গ্রামে রাস্তার পাশে অধিক পরিমাণ ক্লোরন সহ বিস্কুটে বিষাক্ত পদার্থ মিশিয়ে তাকে খাইয়ে চেতনা নাশ করে পাশের ডোবায় ফেলে দেয় এবং ভ্যান নিয়ে সুন্দরগঞ্জ বেলকা এলাকায় ঘটনার ২ নং আসামি এর নিকট ১৬ হাজার টাকায় বিক্রয় করে। এছাড়া আসামি সাইদুর রহমান দীর্ঘদিন ধরে মলম/ পয়জন দিয়ে মানুষকে চেতনা নাশ করে মোবাইল সহ ভ্যান ছিনতাই করে আসছিল। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য গোবিন্দগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করেছে।
Leave a Reply