শিরোনামটি পড়লে অত্যন্ত স্বাভাবিকভাবেই মনে খটকা লাগতে পারে৷ কারণ, গল্প, উপন্যাস, টিভি-নাটক, এমনকি বহু পরিবারে এখনও “শাশুড়ি” মানেই যেন একজন সাক্ষাৎ “ভিলেন”৷ সেখানে হঠাৎ বৌমারা সম্মিলিতভাবে মন্দির গড়ে নিয়মিত শাশুড়ির পুজো করবেন, এ’কথা বিশ্বাস করাও কষ্টকর৷ কিন্তু, বাস্তবে তাই ঘটেছে৷ প্রচলিত ধারণার বিপরীত মেরুতে দাঁড়িয়ে, ১১জন বৌমা নিজেদের শাশুড়ির উদ্দেশ্যে একটা মন্দির তৈরি করেছেন৷ সেখানে আছে শ্রদ্ধেয় শাশুড়ির মূর্তি৷ সেটি আবার সোনার অলঙ্কারে সুসজ্জিত৷ প্রতিদিন সেই মূর্তিকে পুজো করা হয়৷ শুধু তাই নয়, মাসে একদিন নিয়মিতভাবে ১১জন বৌমা ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা ভজন-কীর্তনও করেন৷
এই অবিশ্বাস্য ঘটনাটি ভারতের ছত্তিসগড় রাজ্যের বিলাসপুরের৷ সেখান থেকে ২০ কিলোমিটার দূরে বিলাসপুর-কোরবা মার্গে আছে রতনপুর গ্রাম৷ সেখানে ২০১০ সালে ঐ ১১জন বৌমার তত্ত্বাবধানে তৈরি হয়েছিল এক মহামায়া মন্দির৷ সেখানেই তাঁরা তাঁদের শাশুড়ি গীতা দেবীর একটি মূর্তি প্রতিষ্ঠা করেছেন৷
সর্ব্বভারতীয় ইংরেজি দৈনিক “টাইমস নাউ”-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রতনপুর গ্রামে আছে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক শিবপ্রসাদ তম্বোলির যৌথ পরিবার৷ যার সদস্য সংখ্যা এখন ৩৯৷ শিবপ্রসাদের স্ত্রী গীতা দেবী প্রয়াত হওয়ার পরে ২০১০ সালে এই মন্দিরটি প্রতিষ্ঠা করা হয়৷ আসলে, গীতা দেবীর মৃত্যুর শোক পরিবারের কেউই ভুলতে পারেননি৷ বৌমারা তো নয়ই৷ নিজের তিনজন এবং দেবরের আটজন, এই ১১জন বৌমাকেই গীতা দেবী নিজের মেয়ের মত ভালবাসতেন৷
সবচেয়ে বড় কথা, গ্রামের মেয়ে হলেও , এই ১১জন বৌমা কিন্তু কেউই অশিক্ষিত নন৷ বরং উচ্চশিক্ষিত৷ এবং তাঁরা প্রত্যেকেই কোনও না কোনওভাবে শ্বশুরবাড়ির পারিবারিক ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত৷
Leave a Reply