রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬, ০৮:৫২ অপরাহ্ন

শিরোনাম :
প্রচারেই প্রসার, প্রতিষ্ঠানের জন্য বিজ্ঞাপন দিন, যোগাযোগঃ 01764934214 ঠিকানাঃ ৮৯, কাকরাইল, গ্রীন সিটি এজ, ১১ তলা, ঢাকা-১২১৫, মোবাইল:01764934214, 01716035712 ইমেইল:newsroom@bangladeshbulletin.com
শিরোনাম :
ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে প্রতি শনিবার সারাদেশে পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানোর আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর অমর একুশে বইমেলা ২০২৬ উদ্বোধন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ের পর আজ সংবাদ সম্মেলন করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সহিংসতা ও গুজব বরদাশত করা হবে না: জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচন: ২৯৯ আসনে ভোট, সব প্রস্তুতি শেষ ইসির স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে একটি আধুনিক, বাসযোগ্য ও জনবান্ধব রাজশাহী মহানগর গড়ে তোলা হবে-মিনু খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনায় ডেসকো জিয়া পরিষদের বিশেষ দোয়া মাহফিল স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে  আলোকচিত্র প্রদর্শনী “ আনটোল্ড” অনুষ্ঠিত আনিনুল হক’কে ঢাকা-১৬ আসন উপহারের ঘোষনা বুলবুল হক মল্লিকে’র বোয়ালমারীতে বিএনপি’র দুই গ্রুপের সংঘর্ষের আশঙ্কা, এলাকাজুড়ে চরম উত্তেজনা
ময়মনসিংহের নান্দাইলে অতিদরিদ্রদের প্রকল্পে শ্রমিকের পরিবর্তে ভেকু

ময়মনসিংহের নান্দাইলে অতিদরিদ্রদের প্রকল্পে শ্রমিকের পরিবর্তে ভেকু


আনোয়ার সাদত জাহাঙ্গীরঃময়মনসিংহঃ


ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলায় অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচী তথা কর্মসৃজন প্রকল্পের কাজ নিয়মনীতি অমান্য করে শ্রমিকের পরিবর্তে ভেকু (এঙ্কাভেটর) দিয়ে কাজ করানো হচ্ছে। এতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মহৎ উদ্দেশ্য গ্রামের কর্মহীন দুস্থ পরিবারগুলোর সুরক্ষা কার্যক্রম ব্যহত হচ্ছে। ৪০ দিনের এই কর্মসূচীতে অতিদরিদ্রদেরকে সুযোগ না দেওয়ায় মুখ থুবড়ে পড়ছে সেসব পরিবারগুলো। অসহায় দরিদ্র পরিবারগুলো অনাহারে অর্ধাহারে দিনাতিপাত করছে। ময়মনসিংহ জেলার ১৩টি উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে এ কার্যক্রম চললেও অধিকাংশ প্রকল্পেই অনিয়ম হয়েছে। কোথাও কোথাও কাজ না করেই প্রকল্পের টাকা উত্তোলন করেছেন সংশ্লিষ্টরা। এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও কোন ব্যবস্থা নেয়নি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। অন্যদিকে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানরা বলছেন এত অল্প টাকা অর্থাৎ দৈনিক ২শ টাকায় শ্রমিক পাওয়া যায় না। বাধ্য হয়ে কম শ্রমিক বা ভেকু দিয়ে কাজ করানো হচ্ছে।
নান্দাইলে উপজেলার ১৩ ইউনিয়নের মধ্যে সব কটি ইউনিয়নেই এ কাজ চলমান রয়েছে। কাগজে কলমে ৩০ ডিসেম্বর প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হলেও এখন পর্যন্ত কাজ চলছে ১নং বীর বেতাগৈর ইউনিয়ন ২নং মোয়াজ্জেমপুর ইউনিয়ন ৩নং নান্দাইল ইউনিয়ন ৪নং চন্ডিপাশা ইউনিয়ন ৫নং গাংগাইল ইউনিয়ন ৬নং রাজগাতী ইউনিয়ন নং মুশুল্লী ইউনিয়ন ৮নং সিংরইল ইউনিয়ন ৯নং আচারগাঁও ইউনিয়ন ১০নং শেরপুর ইউনিয়ন ১১নং খারুয়া ইউনিন ১২নং জাহাঙ্গীরপুর ইউনিয়ন ১৩ নং চরবেতাগৈর ইউনিয়ন
নান্দাইল উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস সূত্রমতে জানাগেছে, ২০২০-২০২১ অর্থবছরের অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসৃজন কর্মসূচির আওতায় প্রথম পর্যায়ে নান্দাইল উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নে ৯৭টি প্রকল্পে ৪৯৬৫জন শ্রমিকের বিপরীতে ৩ কোটি ৯৭ লাখ ২০ হাজার টাকা বরাদ্দ প্রদান করা হয়েছে। সরজমিনে দেখা যায়, এই উপজেলায় কর্মসংস্থান কর্মসূচি প্রকল্প বাস্তবায়ন কাজে কোনো নিয়মনীতি মানছেন না প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা। কাগজ-কলমে কাজ শুরু হলেও মাঠপর্যায়ে দেখা গেছে বিপরীত চিত্র। সংশ্লিষ্ট একাধিক জনপ্রতিনিধি নির্ধারিত সময়ে কাজ শুরুই করেননি। পরবর্তীতে সময় বাড়ানোর ফলে এরই মধ্যে স্ব-স্ব প্রকল্পের সভাপতিরা দ্রুত কাজ সম্পন্ন করতে শ্রমিকের বদলে ভেকু দিয়ে তোড়জোড় কাজ শুরু করেন। প্রতিদিন ২০০টাকা মুজুরি হিসাবে কাগজে-পত্রে শ্রমিকের নাম থাকলেও বাস্তবে শ্রমিকের বিপরীতে ভেকু দিয়ে প্রকল্পের কাজ করানো হচ্ছে। ৮ জানুয়ারি থেকে ১২ই জানুয়ারি মঙ্গলবার পর্যন্ত বিভিন্ন প্রকল্প ঘুরে দেখা গেছে ব্যাপক অনিয়ম। অধিকাংশ প্রকল্পেই কোনো সাইনবোর্ড না টাঙিয়ে তথ্য গোপন করা হয়েছে। বেশিরভাগ প্রকল্পে কোনো শ্রমিকের উপস্থিতি নেই, ভেকু দিয়ে কাজ করানো হচ্ছে। সময় বাড়ানোর কথা বলা হলেও বাস্তবে সময় বাড়েনি বলে দাবী করেছেন জেলা ত্রান ও পূর্নবাসন কর্মকর্তা।
মুশুল্লী, রাজগাতি সহ প্রায় সবকটি ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডে ভেকু লাগিয়ে কাজ করতে দেখা গেছে। মুশুল্লী ইউনিয়নের ইউপি সদস্য মো. ইকবাল ও ফারুক মিয়া প্রকল্পে ভেকু মেশিনে মাটি কাটার কথা স্বীকার করে বলেন, শ্রমিকের প্রয়োজন নেই, আমার প্রকল্পে মাটি পড়েছে; সেটিই বড় কথা। তবে শ্রমিকের বিপরীতে ভেকু এ বিষয়টি চেয়ারম্যান সাহেবই বলতে পারবেন। এলাকাবাসী জানান এই কর্মসূচি সরকার গরিব মানুষের জন্য চালু করেছে। গরিব মানুষের মজুরির টাকা আত্মসাৎ করা এটা উচিত নয়।
স্থানীয় সূত্র জানায়,অতি দরিদ্রদের জন্য প্রকল্প। সেই প্রকল্পে দরিদ্ররা কোন সুবিধা পাচ্ছেন না। অথচ এই মৌসুমে শ্রমিকদের খুব কাজ নেই। অনেকেই বেকার বসে আছে।
মুশুল্লী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইফতেকার উদ্দিন ভূইয়া বিপ্লব বলেন শ্রমিক না পাওয়ায় কয়েকটি প্রকল্পে ভেকু লাগানো হয়েছে। বাকী প্রকল্পগুলোতে শ্রমিক দিয়ে কাজ করানো হচ্ছে। ২০০টাকা রোজে আজকাল কোন শ্রমিক পাওয়া যায়না।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আব্দুল আলীমের সাথে সেলফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলে শ্রমিকের পরিবর্তে ভেকু দিয়ে কাজ করার বিষয়টি তিনি এড়িয়ে যান এবং ফোন কল কেটে দেন। গত শুক্রবার কয়েকদফা চেষ্টা করলেও তিনি মোবাইল ফোনে সাড়া দেননি।
নান্দাইল উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো.এরশাদ উদ্দিন জানান, আমি প্রকল্পগুলো সরেজমিন দেখছি, অনিয়মের সত্যতা পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ময়মনসিংহ জেলা ত্রান ও পূর্নবাসন কর্মকর্তা মোঃ সানোয়ার হোসেন জানান,শ্রমিক দিয়ে কাজ না করিয়ে ভেকু দিয়ে কাজ করানোর সুযোগ নেই। এ ব্যাপারে আমার কাছে কেউ লিখিত অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেব। তিনি জানান,এ প্রকল্পের মেয়াদ ৩০ ডিসেম্বর শেষ হয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




©বাংলাদেশবুলেটিন২৪
Design & Developed BY ThemesBazar.Com