কাওসার হামিদ,তালতলী(বরগুনা)প্রতিনিধি
তালতলীতে কাজ না করেই প্রকল্পের টাকা উত্তোলন এমন একটি নিউজ প্রকাশ হয় জাতীয় ও অনলাইন পত্রিকা গুলোতে। পরে সেই আত্মসাতকৃত টাকায় কাজ শুরু করেন ইউপি সদস্য ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকতা। তবে সেখানেও অনিয়মের কমতি নেই।
জানা যায়, উপজেলার বড়বগী ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো.জয়নাল মুধাকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অধীনে ২০১৯-২০ অর্থবছরে টেস্ট রিলিফ প্রকল্পের অধীনে সিরাজ আকনের বাড়ি থেকে হাবিবের বাড়ি পর্যন্ত গ্রামীণ মাটির রাস্তা সংস্কারের জন্য ৪৪ হাজার ৩ শত টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। এ টাকা উত্তোলন করা হলেও সরেজমিনে কোনো ধরনের কাজ না আত্মসাত করেন ইউপি সদস্য জয়নাল মৃধা। আর এই টাকা উত্তোলনের সহযোগিতা ও ঘটনাস্থলে পরিদর্শন না করে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) রুনু বেগম নিজ ক্ষমতা বলে প্রকল্পের প্রথম কিস্তির টাকা দেওয়ার পরে সর্বশেষ ২য় কিস্তিতে টাকা গতবছরের ২৮ডিসেম্বর চেক ইসু করেন । এবিষয়টি নিয়ে জাতীয় ও অনলাইন পত্রিকা গুলোতে নিউজ প্রকাশিত হলে সেই আত্মসাতকৃত টাকা দিয়ে ইউপি সদস্য ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকতা দ্রুত স্থানীয় দৈনিক মজুরী শ্রমিকদের দিয়ে দৈনিক হিসেবে কাজ না করিয়ে চুক্তিতে ১ হাজার মাটি ২৫শত টাকা হিসেবে দিয়েছেন। যা এই টেস্ট রিলিফ প্রকল্পের চুক্তিতে দেওয়ার কোনো নিয়ম নেই।
এদিকে নিউজের জন্য সাংবাদিকরা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকতাকে রাস্তার বিষয়ে ফোন দিলেই নিজে বাঁচার জন্য ইউপি সদস্য মো.জয়নাল মুধার থেকে কাজে পে-অর্ডার নেয় গত ৩ জানুয়ারী রবিবার সকালে। তার আগেই প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকতা গতবছরের ২৮ তারিখ কাজের টাকার সম্পূর্ন চেক দিয়ে দেয়।
মঙ্গলবার(৫জানুয়ারী) সকাল ৯টার দিকে টেস্ট রিলিফ প্রকল্পের অধীনে সিরাজ আকনের বাড়ি থেকে হাবিবেবর বাড়ি পর্যন্ত মাটির রাস্তা সংস্কারের কাজ শুরু হয়েছে তা সরেজমিনে দেখতে গেলে স্থানীয় দৈনিক শ্রমিকদের সাথে কথা বললে তারা জানান আমাদের গতকাল(৪ জানুয়ারী) ১ হাজার মাটি ২৫শত টাকা হিসেবে চুক্তিতে কাজ দিয়েছে। গত দুই দিনে ৬০০ ফুট এর রাস্তা মাত্র ১০০ ফুট সম্পন্ন হয়েছে। শ্রমিকরা আরও বলেন এই চুক্তিতে হাজার হিসেবে মাটি কাটলে আমাদের হয়না। দৈনিক ৩-৪শত টাকা হাজিরা পরে।
বড়বগী ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ডেও ইউপি সদস্য মো.জয়নাল মৃধা মুঠো ফোনে বলেন,বিলের সম্পূর্ন চেক দেয় গত বছরের ২৮ ডিসেম্বর। পরে চলতি বছরের ৩ জানুয়ারী রবিবার সকালে আমার থেকে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকতা পে-অর্ডার নেয় কাজ সম্পূর্ন করার জন্য। আমি কাজ শুরু করেছি। চুক্তিতে ১ হাজার মাটি ২৫শত টাকা দিয়ে কেন কাজ করান এবিষয়ে জানতে চাইলে বলেন আপনাদের সাথে দেখা হবে।
প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) রুনু বেগম বলেন,কাজ চুক্তিতে কাজ হবে না কি জানিনা তবে আমার কাজ হলেই হয়। পে-অডার বিষয় জানতে চাইলে বলেন বিল দেওয়ার পরও আমি পে-অডার নিতে পারবো।
তালতলী উপজেলা নিবার্হী অফিসার মো. আসাদুজ্জামান বলেন, এসব বিষয় নিয়ে পিআইও’র সাথে সরাসরি কথা বলবো ।
কাওসার হামিদ
তালতলী,বরগুনা
০১৭১৪৪৪৫৩৮১
Leave a Reply